◉নিখোঁজ-হত্যার তদন্ত ও বিচারের দাবি কালীগঞ্জবাসীর
◉এমপিকন্যার আবেগঘন স্ট্যাটাস ‘বিচার হবেই…’
ভারতের কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিখোঁজের পর ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন পলাতক আসামি মো. সিয়াম হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে কাঠমান্ডু পুলিশ। পুলিশ বলছে, কাঠমান্ডু পুলিশ পলাতক সিয়ামের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন। তাকে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার এখন কেবল সময়ের ব্যবধান মাত্র। এদিকে এমপি আনারের খণ্ডিত দেহাংশ পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় তার মৃত্যু নিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকা কালীগঞ্জে নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এমপি আনার যদি খুন হন, তাহলে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক তার মরদেহসহ ব্যবহৃত পাসপোর্ট, পোশাক-চশমা এবং হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও রহস্যময় ট্রলি উদ্ধারসহ জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন কালীগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণ। নতুবা যদি তিনি নিখোঁজ থাকেন, তাহলে তা দ্রুত সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় আ.লীগের নেতাকর্মীসহ অন্যরা। এদিকে বাবা হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করায় নিজের ফেসবুক পেইজে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন এমপিকন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। লিখেছেন- ‘তোমার হত্যার বিচার হবেই ইনশাআল্লাহ।’
এমপি আনার হত্যা মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এমপি আনার হত্যায় জড়িত আসামি সিয়ামকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ সম্ভাব্য অবস্থান বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবির মাধ্যমে কাঠমান্ডু পুলিশের এনসিবিকে জানানো হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ করা হয়েছে। ওই অনুরোধের প্রেক্ষিতে কাঠমান্ডু পুলিশ প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে কাঠমান্ডু পুলিশ সিয়ামের অবস্থানের খুব কাছাকাছি। তাকে খুব তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
জানা গেছে, নেপালে পলাতক সিয়ামের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিনে। তিনি আক্তারুজ্জামানের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
ডিবির তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত ১৩ মে কলকাতায় আনোয়ারুল আজীমকে হত্যার পর লাশ গুম করার ক্ষেত্রে সিয়ামও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরপর তিনি কলকাতা থেকে নেপাল চলে যান। এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পুলিশ যে আক্তারুজ্জামান শাহিনের কথা বলছে, তিনিও ২০ মে ঢাকা থেকে দিল্লি হয়ে কাঠমান্ডু যান। পরে সেখান থেকে দুবাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এদিকে এমপি আনার হত্যার তদন্তের জন্য গত ১ জুন সকালে নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। প্রতিনিধিদলে ডিবির দু’জন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদরদপ্তরের এনসিবির একজন কর্মকর্তা রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে গতকাল রোববার সকালে কালীগঞ্জ পৌর আ.লীগের উদ্যোগে উপজেলার নলডাঙ্গা ভূষণ রোডের মধুগঞ্জ বাজারে এমপি আনার হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ফরিদ উদ্দীনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু। তিনি বলেন, ‘এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার প্রমাণ চাই। তার পাসপোর্ট, ব্যবহৃত জামা-কাপড়, হাতঘড়ি ও চশমাসহ হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র আলামত হিসেবে আমাদের দেখাতে হবে। যদি হত্যার শিকার হন তাহলে তার খণ্ডিত দেহ হলেও আমরা দেখতে চাই। আর যদি নিখোঁজ হন, তাহলে সন্ধান চাই।’
এদিকে দুই দেশের তদন্ত সংস্থার চলমান অভিযানের মধ্যেই বাবাকে নিয়ে ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। তিনি লিখেছেন, ‘কেন তুমি চলে গেলে আব্বু, কেন চলে গেলে? আজ কালীগঞ্জের মানুষ আহাজারি করছে, রাস্তায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে তোমার জন্য মানববন্ধন করছে। আমার এসব দেখেতো অনেক কষ্ট হচ্ছে আব্বু। আব্বু তোমার কি কষ্ট হচ্ছে?’ ‘আমার তো অনেক কষ্ট হয়, যখন সবাই বলে ওপারে ভালো থাকবেন। আমার তো কলিজাটা ছিঁড়ে যায় আব্বু। আমি মানতে পারি না।’
ডরিন আরও লিখেছেন, ‘তোমার হত্যার বিচার হবেই ইনশাআল্লাহ। এর জন্য যা করণীয়, আমি সব করবো আব্বু। কিন্তু তুমি তো আর আমাকে বলবে না, আমার আম্মুটা কই। জীবনে সব পাওয়া গেলেও তোমাকে তো ফিরে পাবো না আমি আব্বু।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যান এমপি আনার। সেখানে বরাহনগর থানার মগুলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামের এক বন্ধুর বাড়িতে ওঠেন। পরদিন ১৩ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি। ১৮ মে কলকাতা থানায় একটি জিডি করেন গোপাল বিশ^াস। ২২ মে হঠাৎ খবর ছড়ায়, কলকাতার নিউটাউন এলাকায় বহুতল সঞ্জিভা গার্ডেনের আবাসিক ভবনের বি-ইউ ৫৬ নম্বর অভিজাত ফ্ল্যাটে খুন হয়েছেন এমপি আনার। পরে ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে তার দেহের খণ্ডিতাংশ উদ্ধার করে পুলিশ।

























