০৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উইঘুর মুসলমানদের গ্রামের নাম বদল চীনের

❖ চীনকে পরিণতি ভোগ করতে হবে : ন্যাটো প্রধান
❖ চীনের নেতৃত্বে ব্রিকসে যোগ দিচ্ছে মালয়েশিয়া

কাজাখস্তান সীমান্তঘেঁষা চীনের মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশের সাড়ে তিন হাজারের বেশি গ্রামের নাম বদলানো হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় এক কোটি উইঘুর বসবাস করে। উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদেনে এই অভিযোগ করা হয়েছে। উইঘুর মুসলিমদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় নরওয়ের একটি সংস্থার সঙ্গে মিলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।

প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে, কমিউনিস্ট আদর্শ প্রচার করতে শিনজিয়াং প্রদেশে ৩৬০০ গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনের প্রশাসন। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুটি। সেখানেই তারা দেখতে পেয়েছে, ৩৬০০ গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম সরাসরি উইঘুর মুসলিমদের। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। যেমন- কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে ‘দুতার’ শব্দটি যুক্ত ছিল, যার অর্থ উইঘুর বাদ্যযন্ত্র। অথবা কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এ ধরনের শব্দ চীনের শাসক বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করেন। এসব শব্দের সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য। এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসির মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইঘুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য জনজাতির গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই এ কাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো বদল ঘটেনি বলেই মনে করা হচ্ছে।

 

 

চীনকে পরিণতি ভোগ করতে হবে : ন্যাটো প্রধান
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়ার অবস্থান না বদলালে চীনকে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে চীনকে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ। তিনি বলেন, চীন দুইদিকেই সুবিধা নিতে চাচ্ছে। একদিকে রাশিয়ার যুদ্ধকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে ইউরোপের মিত্রদের সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে চীন। এটা দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না।

ওয়াশিংটনে এক সফর চলাকালীন বিবিসিকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে, পারমাণবিক অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও কথা বলেন ন্যাটো প্রধান। অন্যদিকে একদিন আগেই সুইজারল্যান্ডে একটি শান্তি সম্মেলন শেষ হয়েছে, যেখানে কিয়েভকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে অনেক রাষ্ট্র। কিন্তু, রাশিয়া সম্মেলনটিকে সময়ের অপচয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, ইউক্রেন আত্মসমর্পণ করলেই কেবল তারা শান্তি আলোচনায় সম্মত হবে।

রাশিয়ার প্রতি চীনের সমর্থনের ব্যাপারে ন্যাটো দেশগুলো কী করতে পারে, এমন প্রশ্নে স্টলটেনবার্গ বলেন, নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্যতা নিয়ে একটি আলোচনা চলমান আছে। চীন অনেক প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। এর মধ্যে মাইক্রো-ইলেকট্রনিক্সের মতো প্রযুক্তিও আছে, যা দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। চীন যদি তাদের এই আচরণ না পাল্টায়, আমাদের কিছু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে হবে।

 

চীনের নেতৃত্বে ব্রিকসে যোগ দিচ্ছে মালয়েশিয়া
বিকাশমান অর্থনীতির জোট ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া। এমনটি বলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম। চীনা গণমাধ্যম গুয়াঞ্চাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর মালয়েশিয়া সরকার ব্রিকসে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করবে। আমরা আমাদের নীতি পরিষ্কার করেছি এবং এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করব।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের আধিপত্যের সমালোচনা করে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার মন্তব্যকে সমর্থন করে আনোয়ার ইবরাহিম বলেন, গত বছর মালয়েশিয়ায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ ছিল। তার পরও আক্রান্ত হয়েছে আমাদের মুদ্রা। এখন ঠিক আছে, গত কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি শিথিল হয়েছে। কিন্তু এর কোনো মানে হয় না। এটা অর্থনীতির মৌলিক নীতির পরিপন্থি। একটি অপ্রাসঙ্গিক মুদ্রা দুই দেশের বাণিজ্যব্যবস্থার সম্পূর্ণ বাইরে থাকা সত্ত্বেও সেই দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কেন প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে? এর কারণ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয় এটি (ডলার)।

সাক্ষাৎকারে চীনের উত্থানকে আশার আলো হিসেবে বর্ণনা করেছেন আনোয়ার ইবরাহিম। সেই সঙ্গে, এশীয় মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের প্রশংসা করেন তিনি। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনের উত্থান বিশ্বে ভারসাম্য এনেছে। আমি যখন প্রথম প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করি, তখন আমি তার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম, কারণ তিনি এমন কয়েকজন অসামান্য নেতার একজন, যারা সভ্যতা নিয়ে কথা বলেন। এক অর্থে তিনি অনন্য।

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার ব্যাপারে পশ্চিমা একপক্ষীক বয়ানের সমালোচনা করে আনোয়ার ইবরাহিম বলেন, লোকেরা ৭ অক্টোবর নিয়ে কথা বলে, যা আমাকে বিরক্ত করে। আপনি কি একটি ঘটনার দিকে তাকিয়ে ৭০ বছরের ইতিহাস মুছে ফেলতে চান? এটা পশ্চিমা আখ্যান। দেখবেন, এটাই পশ্চিমের সমস্যা। তারা মতবাদ ও বয়ানকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। কিন্তু আমরা এটি আর মেনে নিতে পারি না। তারা আর ঔপনিবেশিক শক্তি নয় এবং স্বাধীন দেশগুলোকে নিজেদের মতো প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।

উইঘুর মুসলমানদের গ্রামের নাম বদল চীনের

আপডেট সময় : ০৯:১৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

❖ চীনকে পরিণতি ভোগ করতে হবে : ন্যাটো প্রধান
❖ চীনের নেতৃত্বে ব্রিকসে যোগ দিচ্ছে মালয়েশিয়া

কাজাখস্তান সীমান্তঘেঁষা চীনের মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশের সাড়ে তিন হাজারের বেশি গ্রামের নাম বদলানো হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় এক কোটি উইঘুর বসবাস করে। উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদেনে এই অভিযোগ করা হয়েছে। উইঘুর মুসলিমদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় নরওয়ের একটি সংস্থার সঙ্গে মিলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।

প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে, কমিউনিস্ট আদর্শ প্রচার করতে শিনজিয়াং প্রদেশে ৩৬০০ গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনের প্রশাসন। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুটি। সেখানেই তারা দেখতে পেয়েছে, ৩৬০০ গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম সরাসরি উইঘুর মুসলিমদের। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। যেমন- কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে ‘দুতার’ শব্দটি যুক্ত ছিল, যার অর্থ উইঘুর বাদ্যযন্ত্র। অথবা কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এ ধরনের শব্দ চীনের শাসক বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করেন। এসব শব্দের সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য। এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসির মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইঘুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য জনজাতির গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই এ কাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো বদল ঘটেনি বলেই মনে করা হচ্ছে।

 

 

চীনকে পরিণতি ভোগ করতে হবে : ন্যাটো প্রধান
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়ার অবস্থান না বদলালে চীনকে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে চীনকে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ। তিনি বলেন, চীন দুইদিকেই সুবিধা নিতে চাচ্ছে। একদিকে রাশিয়ার যুদ্ধকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে ইউরোপের মিত্রদের সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে চীন। এটা দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না।

ওয়াশিংটনে এক সফর চলাকালীন বিবিসিকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে, পারমাণবিক অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও কথা বলেন ন্যাটো প্রধান। অন্যদিকে একদিন আগেই সুইজারল্যান্ডে একটি শান্তি সম্মেলন শেষ হয়েছে, যেখানে কিয়েভকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে অনেক রাষ্ট্র। কিন্তু, রাশিয়া সম্মেলনটিকে সময়ের অপচয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, ইউক্রেন আত্মসমর্পণ করলেই কেবল তারা শান্তি আলোচনায় সম্মত হবে।

রাশিয়ার প্রতি চীনের সমর্থনের ব্যাপারে ন্যাটো দেশগুলো কী করতে পারে, এমন প্রশ্নে স্টলটেনবার্গ বলেন, নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্যতা নিয়ে একটি আলোচনা চলমান আছে। চীন অনেক প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। এর মধ্যে মাইক্রো-ইলেকট্রনিক্সের মতো প্রযুক্তিও আছে, যা দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। চীন যদি তাদের এই আচরণ না পাল্টায়, আমাদের কিছু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে হবে।

 

চীনের নেতৃত্বে ব্রিকসে যোগ দিচ্ছে মালয়েশিয়া
বিকাশমান অর্থনীতির জোট ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া। এমনটি বলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম। চীনা গণমাধ্যম গুয়াঞ্চাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর মালয়েশিয়া সরকার ব্রিকসে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করবে। আমরা আমাদের নীতি পরিষ্কার করেছি এবং এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করব।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের আধিপত্যের সমালোচনা করে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার মন্তব্যকে সমর্থন করে আনোয়ার ইবরাহিম বলেন, গত বছর মালয়েশিয়ায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ ছিল। তার পরও আক্রান্ত হয়েছে আমাদের মুদ্রা। এখন ঠিক আছে, গত কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি শিথিল হয়েছে। কিন্তু এর কোনো মানে হয় না। এটা অর্থনীতির মৌলিক নীতির পরিপন্থি। একটি অপ্রাসঙ্গিক মুদ্রা দুই দেশের বাণিজ্যব্যবস্থার সম্পূর্ণ বাইরে থাকা সত্ত্বেও সেই দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কেন প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে? এর কারণ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয় এটি (ডলার)।

সাক্ষাৎকারে চীনের উত্থানকে আশার আলো হিসেবে বর্ণনা করেছেন আনোয়ার ইবরাহিম। সেই সঙ্গে, এশীয় মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের প্রশংসা করেন তিনি। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনের উত্থান বিশ্বে ভারসাম্য এনেছে। আমি যখন প্রথম প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করি, তখন আমি তার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম, কারণ তিনি এমন কয়েকজন অসামান্য নেতার একজন, যারা সভ্যতা নিয়ে কথা বলেন। এক অর্থে তিনি অনন্য।

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার ব্যাপারে পশ্চিমা একপক্ষীক বয়ানের সমালোচনা করে আনোয়ার ইবরাহিম বলেন, লোকেরা ৭ অক্টোবর নিয়ে কথা বলে, যা আমাকে বিরক্ত করে। আপনি কি একটি ঘটনার দিকে তাকিয়ে ৭০ বছরের ইতিহাস মুছে ফেলতে চান? এটা পশ্চিমা আখ্যান। দেখবেন, এটাই পশ্চিমের সমস্যা। তারা মতবাদ ও বয়ানকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। কিন্তু আমরা এটি আর মেনে নিতে পারি না। তারা আর ঔপনিবেশিক শক্তি নয় এবং স্বাধীন দেশগুলোকে নিজেদের মতো প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।