০৬:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চলতি মাসেই উদ্বোধন হচ্ছে রাজশাহীতে নির্মিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নভোথিয়েটার

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৪:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • 47

রাজশাহী ব্যুরো

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নভোথিয়েটার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার’ তৈরি করা হয়েছে রাজশাহীতে। দেশের সর্বাধুনিক এ নভোথিয়েটার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে চলতি মাসেই। এরই মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এ প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে যেকোনো দিন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ২৩২ কেটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান উদ্যানের সামনে নির্মাণ শুরু হয়। কাজ শেষ হয় চলতি বছরের জুলাইয়ে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ধোয়া-মোছার কাজ। দেশের সর্ববৃহৎ পরিধির এ স্থাপনায় থাকছে প্ল্যানেটেরিয়ামসহ ফাইভ-জি হল ও আধুনিক অবজারবেটেড টেলিস্কোপ, যা দেশে প্রথম।
রাজশাহী গণপূর্ত-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ জানান, প্রকল্পে শুধু ভবন তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ১৪০ কেটি টাকা। বাকি অর্থ ব্যয় হয়েছে নভোথিয়েটারের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য খাতে। শুধু প্ল্যানেটেরিয়াম ছাড়াও এখানে রয়েছে বিশাল জায়গা। যেকোনো বিজ্ঞান প্রদর্শনী ছাড়াও চাইলে শিক্ষাবিষয়ক নানা অনুষ্ঠান এখানে করা সম্ভব। তিনি বলেন, স্থাপন করা হচ্ছে বিশ্বের আধুনিক টেলিস্কোপ, যা দিয়ে গবেষকরা নভোমণ্ডলের গবেষণা আরও এগিয়ে নিতে পারবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পটি গণপূর্ত অধিদপ্তর যথাযথ গুণগতমান বজায় রেখে নির্মাণ করেছে। স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক ডেকোরেশন। লাইটিং, ভবনের সম্মুখে সুদৃশ্য পানির ফোয়ারা। পুরো ভবনে সেন্ট্রাল
আধুনিক ফায়ার প্রটেকশন ও ডিটেকশন ব্যবস্থাসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতে লাগানো হয়েছে ১৪০টিরও বেশি সিসি ক্যামেরা। দর্শনার্থীদের জন্য আরও থাকছে অন্তত ১০০টি কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। সবমিলিয়ে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আধুনিক ভবন হতে যাচ্ছে এ বিজ্ঞান গবেষণা ও মহাকাশ প্রদর্শনী কেন্দ্রটি।
ইতিমধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান রাজশাহী এসে এই নভোথিয়েটার পরিদর্শন করেছেন। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। তবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টজন এবং তারা আশা প্রকাশ কওে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করবেন।
রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় নভোথিয়েটারটি পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজশাহী একটি শিক্ষানগরী। স্থানীয় এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে নভোথিয়েটার।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকার পরে বিভাগীয় শহরে এটিই প্রথম নভোথিয়েটার। শিক্ষানগরী এবং প্রকৃষ্ট জায়গা বলেই ঢাকার বাইরে রাজশাহীকে নভোথিয়েটার নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে নভোথিয়েটার অত্যন্ত প্রয়োজন। এটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল।
পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীতে দেখা যায়, নভোথিয়েটারে মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য থেকে পৃথিবীর সৃষ্টি, সূর্য, চাঁদ, গ্রহ, নক্ষত্র সবই এক পর্দায় ভেসে উঠছে নিমেষেই। নিখুঁত সাউন্ডের জন্য পুরো হলে লাগানো হয়েছে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম। যা প্রদর্শনীর মাধ্যমে নিয়ে যাবে সরাসরি মহাশূন্যে গ্রহ-নক্ষত্রের খুব কাছে। একসঙ্গে ১৫০ জন আসনগুলোতে বসে অসীম মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানতে ও দেখতে পারবেন। দিনে অন্তত ৬ থেকে ৭টি শো চালানো সম্ভব বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

চলতি মাসেই উদ্বোধন হচ্ছে রাজশাহীতে নির্মিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নভোথিয়েটার

আপডেট সময় : ০৪:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রাজশাহী ব্যুরো

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নভোথিয়েটার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার’ তৈরি করা হয়েছে রাজশাহীতে। দেশের সর্বাধুনিক এ নভোথিয়েটার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে চলতি মাসেই। এরই মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এ প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে যেকোনো দিন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ২৩২ কেটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান উদ্যানের সামনে নির্মাণ শুরু হয়। কাজ শেষ হয় চলতি বছরের জুলাইয়ে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ধোয়া-মোছার কাজ। দেশের সর্ববৃহৎ পরিধির এ স্থাপনায় থাকছে প্ল্যানেটেরিয়ামসহ ফাইভ-জি হল ও আধুনিক অবজারবেটেড টেলিস্কোপ, যা দেশে প্রথম।
রাজশাহী গণপূর্ত-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ জানান, প্রকল্পে শুধু ভবন তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ১৪০ কেটি টাকা। বাকি অর্থ ব্যয় হয়েছে নভোথিয়েটারের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য খাতে। শুধু প্ল্যানেটেরিয়াম ছাড়াও এখানে রয়েছে বিশাল জায়গা। যেকোনো বিজ্ঞান প্রদর্শনী ছাড়াও চাইলে শিক্ষাবিষয়ক নানা অনুষ্ঠান এখানে করা সম্ভব। তিনি বলেন, স্থাপন করা হচ্ছে বিশ্বের আধুনিক টেলিস্কোপ, যা দিয়ে গবেষকরা নভোমণ্ডলের গবেষণা আরও এগিয়ে নিতে পারবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পটি গণপূর্ত অধিদপ্তর যথাযথ গুণগতমান বজায় রেখে নির্মাণ করেছে। স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক ডেকোরেশন। লাইটিং, ভবনের সম্মুখে সুদৃশ্য পানির ফোয়ারা। পুরো ভবনে সেন্ট্রাল
আধুনিক ফায়ার প্রটেকশন ও ডিটেকশন ব্যবস্থাসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতে লাগানো হয়েছে ১৪০টিরও বেশি সিসি ক্যামেরা। দর্শনার্থীদের জন্য আরও থাকছে অন্তত ১০০টি কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। সবমিলিয়ে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আধুনিক ভবন হতে যাচ্ছে এ বিজ্ঞান গবেষণা ও মহাকাশ প্রদর্শনী কেন্দ্রটি।
ইতিমধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান রাজশাহী এসে এই নভোথিয়েটার পরিদর্শন করেছেন। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। তবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টজন এবং তারা আশা প্রকাশ কওে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করবেন।
রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় নভোথিয়েটারটি পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজশাহী একটি শিক্ষানগরী। স্থানীয় এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে নভোথিয়েটার।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকার পরে বিভাগীয় শহরে এটিই প্রথম নভোথিয়েটার। শিক্ষানগরী এবং প্রকৃষ্ট জায়গা বলেই ঢাকার বাইরে রাজশাহীকে নভোথিয়েটার নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে নভোথিয়েটার অত্যন্ত প্রয়োজন। এটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল।
পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীতে দেখা যায়, নভোথিয়েটারে মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য থেকে পৃথিবীর সৃষ্টি, সূর্য, চাঁদ, গ্রহ, নক্ষত্র সবই এক পর্দায় ভেসে উঠছে নিমেষেই। নিখুঁত সাউন্ডের জন্য পুরো হলে লাগানো হয়েছে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম। যা প্রদর্শনীর মাধ্যমে নিয়ে যাবে সরাসরি মহাশূন্যে গ্রহ-নক্ষত্রের খুব কাছে। একসঙ্গে ১৫০ জন আসনগুলোতে বসে অসীম মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানতে ও দেখতে পারবেন। দিনে অন্তত ৬ থেকে ৭টি শো চালানো সম্ভব বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।