➤ কংগ্রেসকে আক্রমণ করে অধিবেশন শুরু মোদির
➤ সরকারকে কোণঠাসা করতে একাট্টা কংগ্রেসসহ বিরোধীরা
ভারতের ১৮তম লোকসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। গতকাল স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এ অধিবেশন শুরু হয়। চলবে আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত। প্রথম দিনেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘাত শুরু হয়েছে। মূলত দুটি বিষয় নিয়ে সংঘাত শুরু হয়। যার প্রথমটি প্রোটেম স্পিকার নিয়ে। প্রোটেম স্পিকারের কাজ হলো, নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত লোকসভার কাজ সামলানো ও সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানো। প্রথম দিনে ২৮০ জন সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়ার কথা। রীতি হলো, লোকসভার সবচেয়ে প্রবীণ সংসদ সদস্য প্রোটেম স্পিকার হন। কে সবচেয়ে প্রবীণ তা ঠিক হয়, তিনি কতবার লোকসভায় জিতে এসেছেন তার ওপর। মহাতব লোকসভায় সাতবার জিতে আসা সংসদ সদস্য।
এর আগে, গতকাল লোকসভার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন মোদি। তার মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নিয়েছেন। শপথগ্রহণ তত্ত্বাবধান করেছেন প্রোটেম স্পিকার ভর্তৃহরি মহতাব। সকালেই রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। লোকসভার স্পিকার নির্বাচন করা হবে ২৬ জুন। নতুন স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত, প্রোটেম স্পিকার হিসেবে লোকসভার প্রথম কয়েকটি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন মহতাব। লোকসভায় সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু আগামী ২৭ জুন লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ সভায় ভাষণ দেবেন। ওইদিন তিনি আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন সরকারের রোডম্যাপ রূপরেখা দিতে পারেন।
কংগ্রেসের বক্তব্য, তাদের সংসদ সদস্য সুরেশ আটবার লোকসভায় জিতে এসেছেন। তাই তাকে প্রোটেম স্পিকার করা উচিত ছিল। প্রতিবাদে তারা ঠিক করেছে, সরকার ও প্রোটেম স্পিকার লোকসভা পরিচালনার যে প্যানেল তৈরি করেছে, তাতে কংগ্রেসের কেউ থাকবেন না। সংসদীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজুর বক্তব্য, মহাতব পরপর সাতবার জিতে এসেছেন, সুরেশের এই রেকর্ড নেই। তাই তাকে প্রোটেম স্পিকার করা হয়েছে।
প্রথম অধিবেশনেই তারা সরকারকে প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে কোণঠাসা করতে চায় কংগ্রেসসহ বিরোধীরা। তারা দুইটি প্রধান প্রশ্ন করতে চায়। এই প্রশ্ন ফাঁস হলো, তার দায় সরকার কেন নেবে না? দ্বিতীয়ত, নেট পরীক্ষা বাতিল করা হলো, কিন্তু নিট কেন বাতিল করা হলো না? দেশজুড়ে পরীক্ষার্থীরা দাবি করার পরও কেন তা বাতিল করা হচ্ছে না?
গত শনিবার সরকার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির ডিজি সুবোধ সিংকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। সাত সদস্যের প্যানেল তৈরি করেছে, যারা এই সংস্থার কাজ-কর্ম খতিয়ে দেখবে। পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে সুপারিশ করবে। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, এটা যথেষ্ট নয়। মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছে। রাহুল গান্ধী বলেছেন, তারা সংসদে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি তুলবেন এবং সরকারকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করবেন।
বিরোধীরা ঐক্য দেখানোর জন্য ঠিক করেছেন, ইন্ডিয়ার শরিক দলের সব সংসদ সদস্য একসঙ্গে লোকসভায় ঢুকবেন। তার আগে বিরোধী সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবনের সামনে সংবিধান হাতে করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। দাবি করেছেন, সংবিধানকে রক্ষা করতে হবে।
কংগ্রেসকে আক্রমণ করে অধিবেশন শুরু মোদির
প্রথম দিনই প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে লোকসভা অধিবেশন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অধিবেশন শুরুর আগের ভাষণে ইন্দিরা গান্ধীর আমলের কংগ্রেস সরকারকে আক্রমণ করে মোদি বলেন, ৫০ বছর আগে ২৫ জুন দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। সেটা দেশের অন্ধকার অধ্যায়। গণতন্ত্রের ওপর কালো দাগ। আর কখনও সেই আঁধার নেমে আসবে না এই দেশে। এখন পর্যন্ত বিরোধীরা আমাকে হতাশ করেছেন। তবে আশা করছি, পার্লামেন্টে তারা সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। মোদির ভাষণের পর জাতীয় সংগীতের সঙ্গে লোকসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। প্রোটেম স্পিকার মোদিকে লোকসভার নেতা ঘোষণা করেন। এ সময় তৃতীয়বার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব তিনগুণ বেড়ে গিয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে, সংসদ ভবনের বাইরে প্রধানমন্ত্রী মোদি সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশ চালাতে গিয়ে মতৈক্য দরকার। তাই আমি নিরন্তর চেষ্টা করব সকলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের সেবা করতে। আমি সবার আশা-আকাক্সক্ষাকে পূর্ণ করব। আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চাই। ১৮তম লোকসভার প্রথম দিনের প্রথম অধিবেশনের আগে মোদির এই কথা তাৎপূর্যপূর্ণ। কারণ, এবার বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তাদের এনডিএ’র শরিক দলের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য নির্ভর করতে হবে। তাই মোদি লোকসভা শুরুর প্রথম দিনেই মতৈক্যের কথা বললেন। তবে মোদি বলেছেন, জরুরি অবস্থার পঞ্চাশ বছর হতে চলেছে। তা কেউ ভুলবে না। সে সময় সংবিধানকে শেষ করা হয়েছিল, দেশকে জেলখানা বানানো হয়েছিল, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল। গণতন্ত্র ও সংবিধানকে বাঁচাতে দেশবাসী শপথ নেবেন, আর কাউকে ভবিষ্যতে এই কাজ করতে দেওয়া হবে না। মানুষ সংসদে গোলমাল চায় না। ভালো বিরোধী চায়। দায়িত্বশীল বিরোধী চায়। আশা করব, বিরোধীরা এই আশা পূর্ণ করবে।
ভারতের ৬ গ্রামে স্থানীয়দের ছাড়িয়ে গেছে মিয়ানমার নাগরিকের সংখ্যা
ভারতের মণিপুর রাজ্যের কিছু এলাকায় মিয়ানমার থেকে আগত শরণার্থীর সংখ্যা স্থানীয়দেরও ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মারিং উপজাতির একটি ছাত্র সংগঠন সম্প্রতি এই দাবি করেছে।
মারিং স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এমএসইউ) এক বিবৃতিতে বলেছে, ১৪২৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক, যাদের বায়োমেট্রিকস নেওয়া হয়েছে, তারা সীমান্তবর্তী টেংনুপাল জেলার মারিং উপজাতি অধ্যুষিত ছয়টি গ্রামে বসবাস করছেন।আশ্রিত মিয়ানমার নাগরিকদের দুর্দশার কথা স্বীকার করে এবং তাদের প্রতি ‘আন্তরিক সহানুভূতি’ রয়েছে জানিয়ে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, এই গ্রামগুলোতে স্থানীয়দের ছাপিয়ে গেছে মিয়ানমার নাগরিকদের সংখ্যা। এসব মানুষ মূলত শরণার্থী, যারা মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর লড়াই থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসেছেন। এমএসইউ’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছয়টি মারিং নাগা গ্রামে (সাইবোল, মইরেংথেল, চনরিংফাই, লামলং খুনউ, চোক্টং এবং সাতং) মিয়ানমারের নাগরিকদের সংখ্যা স্থানীয় বাসিন্দাদের ছাড়িয়ে গেছে, যা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। এমএসইউ’র বিবৃতির মাসখানেক আগেই একই ধরনের অভিযোগ তুলে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন নাগা পিপলস ফ্রন্টের (এনপিএফ) বিধায়ক লেইশিও কিশিং। গত ৯ মে পাঠানো চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, তার এলাকার আটটি গ্রামে বসবাসকারী মিয়ানমার নাগরিকদের সংখ্যা স্থানীয়দের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে। মণিপুরে জাতিগত উত্তেজনার মধ্যে এই পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।


























