০৯:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
খাবার-পানির ভয়াবহ সংকটে গাজা

সাগরের নোনা পানিই এখন শেষ ভরসা

◉ বোনসহ পরিবারের ১০ সদস্যকে হারালেন হামাসপ্রধান
◉ গাজার ৭৫ ভাগ আবাদি জমি ধ্বংস করেছে ইসরায়েল

দুর্ভিক্ষের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। সেখানে চার লাখ ৯৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ভয়াবহ খাদ্য ঘাটতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী ভয়াবহ আগ্রাসনে ত্রাণবাহী কোনো ট্রাকও সেখানে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে একদিকে খাবার নিয়ে ত্রাণবাহী গাড়ি অপেক্ষা করছে, অন্যদিকে তীব্র ক্ষুধায় ছটফট করছে গাজার ছোট ছোট শিশু, নারী, পুরুষ এবং বয়স্ক লোকজন। ত্রাণসামগ্রী নিতে যাওয়া লোকজনের ওপরও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এমনকি ত্রাণবাহী গাড়ি, বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থাও হামলার শিকার হচ্ছে। ফিলিস্তিন শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক সংস্থা বলেছে, গাজা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাকে করে খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি নিয়ে অপেক্ষায় থাকার পরেও শিশুরা অপুষ্টি এবং পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে। ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলায় ফিলিস্তিনিদের কাছে ত্রাণ সহায়তায়ও পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
প্রায় আট মাস ধরে সেখানে সংঘাত চলছে। এই পুরোটা সময়ের মধ্যে কয়েকবার মাত্র ত্রাণবাহী গাড়ি গাজায় প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। বাইরে থেকে কোনো সহায়তা না পাওয়ায় এবং ক্রমাগত হামলা চলতে থাকায় গাজায় ভয়াবহ বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। ছোট ছোট শিশুরা খাবারের অভাবে এবং তীব্র পুষ্টিহীনতায় মারা যাচ্ছে। একদিকে দফায় দফায় বোমা হামলা, অন্যদিকে খাদ্য সংকট, বাসস্থানের সংকট, একটু মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব সবকিছু মিলিয়ে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের যেন কোনো শেষ নেই। কবে এই পরিস্থিতি ঠিক হবে সেটাও কারও জানা নেই।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে। গাজার ছোট ছোট শিশুরা লাইনে দাঁড়িয়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সামান্য পানির ব্যবস্থা হচ্ছে না। পানির এমন তীব্র সংকটের কারণে হাজার হাজার পরিবার এখন সাগরের নোনা পানিই ব্যবহার করতে শুরু করেছে। উত্তর গাজার ইমার্জেন্সি কমিটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় অবরুদ্ধ এই উপত্যকার সব কূপ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে সেখানে পানির সংকট আরও তীব্র হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় ৩৭ হাজার ৬২৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৮৬ হাজার ৯৮ জন।

বোনসহ পরিবারের ১০ সদস্যকে হারালেন হামাসপ্রধান
গাজার আল-শাতি ক্যাম্পে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই হামলায় হামাসপ্রধান ইসমাইল হানিয়ার পরিবারের ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তার বোনও রয়েছেন। এর আগে গত এপ্রিলে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইসমাইল হানিয়ার তিন ছেলে ও তিন নাতি-নাতনি নিহত হয়েছিলেন। গত ১০ এপ্রিল ঈদুল ফিতরের দিন গাজার আল শাতি শরণার্থী ক্যাম্পে হানিয়ার ছেলেদের বহনকারী গাড়িতে চালানো হামলায় তারা প্রাণ হারান। মূলত ঈদ উপলক্ষে হানিয়ার ছেলেরা আল শাতি ক্যাম্পে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বলে সেসময় জানিয়েছিল ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলো। এদিকে ছেলে ও নাতি-নাতনিদের মৃত্যুর খবরে (শহীদ হওয়ায়) আল্লাহ তায়ালার কাছে সেসময় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে হামাস প্রধান বলেছিলেন, তাদের শহীদ হওয়ার মর্যাদা প্রদান করায় আল্লাহ তায়ালাকে ধন্যবাদ।

গাজার ৭৫ ভাগ আবাদি জমি ধ্বংস করেছে ইসরায়েল
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার শতকরা ৭৫ ভাগ আবাদি জমি ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। এসব জমির কিছু অংশ কথিত বাফার জোন হিসেবে অধিগ্রহণ করেছে। আর কিছু অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস নামের একটি সংগঠন এই তথ্য দিয়েছে। ইউরো-মেড বলেছে, স্থানীয়ভাবে খাদ্য উৎপাদনের সমস্ত ব্যবস্থা ধ্বংস করার পর ইসরায়েল গাজায় কোনো ধরনের খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা রাখেনি। এছাড়া, আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে যে সমস্ত ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে, তাতে বাধা সৃষ্টি করছে বর্বর দখলদার সেনারা। গাজার ফিলিস্তিনি জনগণ যাতে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে মৃত্যুবরণ করে মূলত সেই লক্ষ্যে কাজ করছে ইহুদিবাদী ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি কৃষকদের উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে হত্যার ডকুমেন্ট রয়েছে তাদের হাতে। যেসব কৃষককে হত্যা করা হয়েছে তারা তাদের ক্ষেতে কাজ করছিলেন অথবা ফসলের ক্ষেতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাদের কাছে এমন সব ডকুমেন্ট রয়েছে যাতে, দেখা যায় ইহুদিবাদী সেনারা কৃষি খামার, গ্রিনহাউজ, পানির কূপ, পুকুর এবং অন্যান্য কৃষি সরঞ্জাম ধ্বংস করছে।

ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি নেতানিয়াহু : সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক এজেন্ট গোনেন বেন ইৎঝাক মার্কিন বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, বাইডেন ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সমর্থক কিন্তু নেতানিয়াহু তার মুখে থুতু ছিটিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধ্বংস করছেন। ইসরায়েলের জন্য নেতানিয়াহু সত্যই সবচেয়ে বড় হুমকি। আমার মনে হয়, নেতানিয়াহু ইসরায়েলকে ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। গাজা নিয়ে হিসাব-নিকাশ বদলানোর এখনই সময়। আমি নেতানিয়াহুকে বলতে চাই- পদত্যাগ করুন। ইসরায়েলবাসীর জন্য এটা আপনার সবচেয়ে বড় সহযোগিতা হবে। হামাসের গত ৭ অক্টোবরের হামলা রুখে দেওয়া সম্ভব ছিল। ইউসেফ হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছিল। তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই সতর্কতাকে গুরুত্ব দেয়নি। আমরা মনে করি, আমাদের শত্রুরা বোকা। কিন্তু দিনশেষে হামাস খুবই বুদ্ধিমান ছিল।

ইসরায়েলকে লেবাননের সঙ্গে উত্তেজনা আহ্বান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
লেবাননের সঙ্গে উত্তেজনা এড়াতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। গত সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান। গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এ বৈঠকে আলোচনা করেন গ্যালান্ট-ব্লিঙ্কেন। ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে অস্বস্তির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন সফরে যান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যালান্ট। তার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো, সম্পর্কে অস্বস্তি দূর করা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, ব্লিঙ্কেন ও গ্যালান্টের মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। গাজায় থাকা সব জিম্মির মুক্তি নিশ্চিত করাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ভোগান্তি লাঘবে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ কূটনীতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করেন ব্লিঙ্কেন। ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সম্প্রতি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বেড়ে চলছে। এ প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

জনপ্রিয় সংবাদ

খাবার-পানির ভয়াবহ সংকটে গাজা

সাগরের নোনা পানিই এখন শেষ ভরসা

আপডেট সময় : ০৮:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

◉ বোনসহ পরিবারের ১০ সদস্যকে হারালেন হামাসপ্রধান
◉ গাজার ৭৫ ভাগ আবাদি জমি ধ্বংস করেছে ইসরায়েল

দুর্ভিক্ষের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। সেখানে চার লাখ ৯৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ভয়াবহ খাদ্য ঘাটতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী ভয়াবহ আগ্রাসনে ত্রাণবাহী কোনো ট্রাকও সেখানে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে একদিকে খাবার নিয়ে ত্রাণবাহী গাড়ি অপেক্ষা করছে, অন্যদিকে তীব্র ক্ষুধায় ছটফট করছে গাজার ছোট ছোট শিশু, নারী, পুরুষ এবং বয়স্ক লোকজন। ত্রাণসামগ্রী নিতে যাওয়া লোকজনের ওপরও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এমনকি ত্রাণবাহী গাড়ি, বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থাও হামলার শিকার হচ্ছে। ফিলিস্তিন শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক সংস্থা বলেছে, গাজা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাকে করে খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি নিয়ে অপেক্ষায় থাকার পরেও শিশুরা অপুষ্টি এবং পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে। ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলায় ফিলিস্তিনিদের কাছে ত্রাণ সহায়তায়ও পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
প্রায় আট মাস ধরে সেখানে সংঘাত চলছে। এই পুরোটা সময়ের মধ্যে কয়েকবার মাত্র ত্রাণবাহী গাড়ি গাজায় প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। বাইরে থেকে কোনো সহায়তা না পাওয়ায় এবং ক্রমাগত হামলা চলতে থাকায় গাজায় ভয়াবহ বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। ছোট ছোট শিশুরা খাবারের অভাবে এবং তীব্র পুষ্টিহীনতায় মারা যাচ্ছে। একদিকে দফায় দফায় বোমা হামলা, অন্যদিকে খাদ্য সংকট, বাসস্থানের সংকট, একটু মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব সবকিছু মিলিয়ে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের যেন কোনো শেষ নেই। কবে এই পরিস্থিতি ঠিক হবে সেটাও কারও জানা নেই।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে। গাজার ছোট ছোট শিশুরা লাইনে দাঁড়িয়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সামান্য পানির ব্যবস্থা হচ্ছে না। পানির এমন তীব্র সংকটের কারণে হাজার হাজার পরিবার এখন সাগরের নোনা পানিই ব্যবহার করতে শুরু করেছে। উত্তর গাজার ইমার্জেন্সি কমিটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় অবরুদ্ধ এই উপত্যকার সব কূপ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে সেখানে পানির সংকট আরও তীব্র হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় ৩৭ হাজার ৬২৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৮৬ হাজার ৯৮ জন।

বোনসহ পরিবারের ১০ সদস্যকে হারালেন হামাসপ্রধান
গাজার আল-শাতি ক্যাম্পে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই হামলায় হামাসপ্রধান ইসমাইল হানিয়ার পরিবারের ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তার বোনও রয়েছেন। এর আগে গত এপ্রিলে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইসমাইল হানিয়ার তিন ছেলে ও তিন নাতি-নাতনি নিহত হয়েছিলেন। গত ১০ এপ্রিল ঈদুল ফিতরের দিন গাজার আল শাতি শরণার্থী ক্যাম্পে হানিয়ার ছেলেদের বহনকারী গাড়িতে চালানো হামলায় তারা প্রাণ হারান। মূলত ঈদ উপলক্ষে হানিয়ার ছেলেরা আল শাতি ক্যাম্পে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বলে সেসময় জানিয়েছিল ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলো। এদিকে ছেলে ও নাতি-নাতনিদের মৃত্যুর খবরে (শহীদ হওয়ায়) আল্লাহ তায়ালার কাছে সেসময় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে হামাস প্রধান বলেছিলেন, তাদের শহীদ হওয়ার মর্যাদা প্রদান করায় আল্লাহ তায়ালাকে ধন্যবাদ।

গাজার ৭৫ ভাগ আবাদি জমি ধ্বংস করেছে ইসরায়েল
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার শতকরা ৭৫ ভাগ আবাদি জমি ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। এসব জমির কিছু অংশ কথিত বাফার জোন হিসেবে অধিগ্রহণ করেছে। আর কিছু অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস নামের একটি সংগঠন এই তথ্য দিয়েছে। ইউরো-মেড বলেছে, স্থানীয়ভাবে খাদ্য উৎপাদনের সমস্ত ব্যবস্থা ধ্বংস করার পর ইসরায়েল গাজায় কোনো ধরনের খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা রাখেনি। এছাড়া, আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে যে সমস্ত ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে, তাতে বাধা সৃষ্টি করছে বর্বর দখলদার সেনারা। গাজার ফিলিস্তিনি জনগণ যাতে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে মৃত্যুবরণ করে মূলত সেই লক্ষ্যে কাজ করছে ইহুদিবাদী ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি কৃষকদের উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে হত্যার ডকুমেন্ট রয়েছে তাদের হাতে। যেসব কৃষককে হত্যা করা হয়েছে তারা তাদের ক্ষেতে কাজ করছিলেন অথবা ফসলের ক্ষেতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাদের কাছে এমন সব ডকুমেন্ট রয়েছে যাতে, দেখা যায় ইহুদিবাদী সেনারা কৃষি খামার, গ্রিনহাউজ, পানির কূপ, পুকুর এবং অন্যান্য কৃষি সরঞ্জাম ধ্বংস করছে।

ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি নেতানিয়াহু : সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক এজেন্ট গোনেন বেন ইৎঝাক মার্কিন বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, বাইডেন ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সমর্থক কিন্তু নেতানিয়াহু তার মুখে থুতু ছিটিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধ্বংস করছেন। ইসরায়েলের জন্য নেতানিয়াহু সত্যই সবচেয়ে বড় হুমকি। আমার মনে হয়, নেতানিয়াহু ইসরায়েলকে ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। গাজা নিয়ে হিসাব-নিকাশ বদলানোর এখনই সময়। আমি নেতানিয়াহুকে বলতে চাই- পদত্যাগ করুন। ইসরায়েলবাসীর জন্য এটা আপনার সবচেয়ে বড় সহযোগিতা হবে। হামাসের গত ৭ অক্টোবরের হামলা রুখে দেওয়া সম্ভব ছিল। ইউসেফ হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছিল। তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই সতর্কতাকে গুরুত্ব দেয়নি। আমরা মনে করি, আমাদের শত্রুরা বোকা। কিন্তু দিনশেষে হামাস খুবই বুদ্ধিমান ছিল।

ইসরায়েলকে লেবাননের সঙ্গে উত্তেজনা আহ্বান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
লেবাননের সঙ্গে উত্তেজনা এড়াতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। গত সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান। গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এ বৈঠকে আলোচনা করেন গ্যালান্ট-ব্লিঙ্কেন। ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে অস্বস্তির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন সফরে যান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যালান্ট। তার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো, সম্পর্কে অস্বস্তি দূর করা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, ব্লিঙ্কেন ও গ্যালান্টের মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। গাজায় থাকা সব জিম্মির মুক্তি নিশ্চিত করাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ভোগান্তি লাঘবে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ কূটনীতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করেন ব্লিঙ্কেন। ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সম্প্রতি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বেড়ে চলছে। এ প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।