০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জনমত জারিপে বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে ট্রাম্প

➤ বিজ্ঞানে চীনা শিক্ষার্থীদের সুযোগ সীমিত করার পরামর্শ মার্কিন ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

জনমত জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান দল প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এগিয়ে আছেন। এই জরিপে ২২ পয়েন্টে পিছিয়ে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রায় পাঁচ মাস আগেও একটি জারিপে এমনটিই দেখা গেছে। গত ৫ থেকে ২১ জুনে করা অ্যাক্টিভেট জনমত জরিপে দেখা গেছে, দুই হাজার ২৯ জন সম্ভাব্য স্বতন্ত্র ভোটার অংশ নিয়েছিলেন। সেই জরিপে ট্রাম্প ৬১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। যেখানে বাইডেন পেয়েছেন ৩৯ শতাংশ ভোট। বিভিন্ন জরিপ এখন পর্যন্ত দেখিয়েছে, ২০২০ সালের নির্বাচনের মতো এবারও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কারণ বেশ কয়েকটি সমীক্ষায় এই দুই প্রার্থীই শক্ত অবস্থানে আছেন।

এছাড়া একটি নতুন জরিপেও দেখা গেছে, ভোটারদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের ভোটে ট্রাম্প এগিয়ে রয়েছেন। এই জরিপের বিষয়ে ইমেলের মাধ্যমে ট্রাম্প ও বাইডেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে নিউজউইক। মে মাসে একটি পৃথক সমীক্ষার পর এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। ওই জরিপেও ট্রাম্পকে এগিয়ে রেখেছিলেন ভোটাররা। এনপিআর, পিবিএস, নিউজআওয়ার ও মারিস্টের পরিচালিত জাতীয় সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৪ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার বলেছেন, ট্রাম্পকে সমর্থন করেন তারা। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ বাইডেনকে চান। কিন্তু জুন মাসে ওই ভোটারদের একটি জরিপে দেখা যায়, বাইডেনকে ৫০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটাররা চান। আর ট্রাম্পকে ৪৮ শতাংশ। বাকী দুই শতাংশ অনিশ্চিত।

যদিও জাতীয় নির্বাচনে তারা গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারেন। তবে নির্বাচনের ফল সম্ভবত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের ওপর নির্ভর করবে। কারণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জয় পরাজয় ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজের মোট ভোটসংখ্যা ৫৩৮। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট পেতে হয়। অর্থ্যাৎ জরিপের ভোটে জয়লাভ করে লাভ নেই।

 

বিজ্ঞানে চীনা শিক্ষার্থীদের সুযোগ সীমিত করার পরামর্শ মার্কিন ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
যুক্তরাষ্ট্রে অধিক পরিমাণ চীনা শিক্ষার্থী প্রয়োজন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুর্ট ক্যাম্পবেল বলেছেন, তবে সেই শিক্ষার্থী হতে হবে মানবিকের, বিজ্ঞানের নয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গণিত বিষয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক মার্কিন শিক্ষার্থী পড়েন না। এসব ক্ষেত্রে অধিক পরিমাণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। তবে চীন নয়, ভারতকে পছন্দ যুক্তরাষ্ট্রের। কারণ, ভারতকে তারা ক্রমবর্ধমানভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার অংশীদার হিসেবে দেখে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই কূটনীতিক বলেন, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে স্পর্শকাতর প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে চীনা শিক্ষার্থীদের সুযোগ সীমাবদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। উল্লেখ্য, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হলেন চীনারা। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তাদের মোট সংখ্যা প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার। কিন্তু কিছু শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজ যুক্তি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের অবনতি এবং দক্ষতা চুরি নিয়ে উদ্বেগের কারণে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা পথচ্যুত হয়েছে। এতে চীনা শিক্ষার্থীরা অনাকাক্সিক্ষতভাবে সন্দেহের শিকার হয়েছেন। থিংক ট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স’কে ক্যাম্পবেল বলেন, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে অধিক পরিমাণ চীনা শিক্ষার্থী আসুক। কিন্তু কণা বিষয়ক পদার্থবিজ্ঞানে নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চীনের গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশে ‘চায়না ইনিশিয়েটিভ’ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এর ফলে এশিয়ান আমেরিকানদের মধ্যে বর্ণবাদী মনোভাব গড়ে উঠবে এমন সমালোচনার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এ উদ্যোগের ইতি ঘটান। এ বিষয়ে ক্যাম্পবেল বলেন, চীনা শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় অব্যাহত সমর্থন দিতে সতর্কতা অবলম্বন করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। একইসঙ্গে ল্যাব, চীনা শিক্ষার্থীদের কিছু কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তারা সতর্ক হয়েছে। আমি মনে করি, তাদের (চীনা শিক্ষার্থী) সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সুযোগ বাতিল ও সীমিত করা সম্ভব। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রযুক্তিগত যেসব কর্মসূচি আছে সেগুলোর বেলায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

জনমত জারিপে বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০৮:২৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

➤ বিজ্ঞানে চীনা শিক্ষার্থীদের সুযোগ সীমিত করার পরামর্শ মার্কিন ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

জনমত জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান দল প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এগিয়ে আছেন। এই জরিপে ২২ পয়েন্টে পিছিয়ে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রায় পাঁচ মাস আগেও একটি জারিপে এমনটিই দেখা গেছে। গত ৫ থেকে ২১ জুনে করা অ্যাক্টিভেট জনমত জরিপে দেখা গেছে, দুই হাজার ২৯ জন সম্ভাব্য স্বতন্ত্র ভোটার অংশ নিয়েছিলেন। সেই জরিপে ট্রাম্প ৬১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। যেখানে বাইডেন পেয়েছেন ৩৯ শতাংশ ভোট। বিভিন্ন জরিপ এখন পর্যন্ত দেখিয়েছে, ২০২০ সালের নির্বাচনের মতো এবারও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কারণ বেশ কয়েকটি সমীক্ষায় এই দুই প্রার্থীই শক্ত অবস্থানে আছেন।

এছাড়া একটি নতুন জরিপেও দেখা গেছে, ভোটারদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের ভোটে ট্রাম্প এগিয়ে রয়েছেন। এই জরিপের বিষয়ে ইমেলের মাধ্যমে ট্রাম্প ও বাইডেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে নিউজউইক। মে মাসে একটি পৃথক সমীক্ষার পর এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। ওই জরিপেও ট্রাম্পকে এগিয়ে রেখেছিলেন ভোটাররা। এনপিআর, পিবিএস, নিউজআওয়ার ও মারিস্টের পরিচালিত জাতীয় সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৪ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার বলেছেন, ট্রাম্পকে সমর্থন করেন তারা। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ বাইডেনকে চান। কিন্তু জুন মাসে ওই ভোটারদের একটি জরিপে দেখা যায়, বাইডেনকে ৫০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটাররা চান। আর ট্রাম্পকে ৪৮ শতাংশ। বাকী দুই শতাংশ অনিশ্চিত।

যদিও জাতীয় নির্বাচনে তারা গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারেন। তবে নির্বাচনের ফল সম্ভবত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের ওপর নির্ভর করবে। কারণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জয় পরাজয় ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজের মোট ভোটসংখ্যা ৫৩৮। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট পেতে হয়। অর্থ্যাৎ জরিপের ভোটে জয়লাভ করে লাভ নেই।

 

বিজ্ঞানে চীনা শিক্ষার্থীদের সুযোগ সীমিত করার পরামর্শ মার্কিন ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
যুক্তরাষ্ট্রে অধিক পরিমাণ চীনা শিক্ষার্থী প্রয়োজন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুর্ট ক্যাম্পবেল বলেছেন, তবে সেই শিক্ষার্থী হতে হবে মানবিকের, বিজ্ঞানের নয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গণিত বিষয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক মার্কিন শিক্ষার্থী পড়েন না। এসব ক্ষেত্রে অধিক পরিমাণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। তবে চীন নয়, ভারতকে পছন্দ যুক্তরাষ্ট্রের। কারণ, ভারতকে তারা ক্রমবর্ধমানভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার অংশীদার হিসেবে দেখে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই কূটনীতিক বলেন, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে স্পর্শকাতর প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে চীনা শিক্ষার্থীদের সুযোগ সীমাবদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। উল্লেখ্য, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হলেন চীনারা। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তাদের মোট সংখ্যা প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার। কিন্তু কিছু শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজ যুক্তি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের অবনতি এবং দক্ষতা চুরি নিয়ে উদ্বেগের কারণে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা পথচ্যুত হয়েছে। এতে চীনা শিক্ষার্থীরা অনাকাক্সিক্ষতভাবে সন্দেহের শিকার হয়েছেন। থিংক ট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স’কে ক্যাম্পবেল বলেন, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে অধিক পরিমাণ চীনা শিক্ষার্থী আসুক। কিন্তু কণা বিষয়ক পদার্থবিজ্ঞানে নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চীনের গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশে ‘চায়না ইনিশিয়েটিভ’ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এর ফলে এশিয়ান আমেরিকানদের মধ্যে বর্ণবাদী মনোভাব গড়ে উঠবে এমন সমালোচনার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এ উদ্যোগের ইতি ঘটান। এ বিষয়ে ক্যাম্পবেল বলেন, চীনা শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় অব্যাহত সমর্থন দিতে সতর্কতা অবলম্বন করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। একইসঙ্গে ল্যাব, চীনা শিক্ষার্থীদের কিছু কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তারা সতর্ক হয়েছে। আমি মনে করি, তাদের (চীনা শিক্ষার্থী) সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সুযোগ বাতিল ও সীমিত করা সম্ভব। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রযুক্তিগত যেসব কর্মসূচি আছে সেগুলোর বেলায়।