রংপুরে তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন। শহর কিংবা গ্রামের কোন ভেদাখেদ নেই। সকলেই পড়েছে লোডশেডিংয়ের কবলে। দিন কিংবা রাত সমান তালে হচ্ছে লোডশেডিং। দিনে ও রাতে সমানতালে লোডশেডিং হচ্ছে এমন অভিযোগ করছে সাধারণ মানুষ। জানা যায়, রংপুর পলী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২ এর আওতাধীন এলাকা রংপুর সদর উপজেলা ও গঙ্গাচড়া উপজেলায় গত দেড় সপ্তাহ ধরে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় অর্ধেকের বেশি সময়ই থাকছে না বিদ্যুৎ। ফলে শিশু-বৃদ্ধসহ বাড়িতে থাকা অসুস্থ মানুষকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। বিশ্রামের প্রয়োজন হলেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকতে পারছে না মানুষ। ফলে গাছের ছায়ায় ঠান্ডাযুক্ত স্থানে মাদুর বিছিয়ে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। এছাড়াও খাবার রান্নাসহ ঘরের আনুষঙ্গিক কাজ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে গৃহিণীরা।
রাতেও বিদ্যুতের একই অবস্থা হওয়ার কারণে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।রংপুর পলী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন এ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা যেখানে ৭৮ মেগাওয়াট সেখানে বিদ্যুতের যোগান ৪৮ মেগাওয়াট। রংপুর পলী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বিদ্যুৎ চাহিদা ১২০ মেগাওয়াট হলেও যোগান মাত্র ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের যোগান না থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানায় পলী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। রংপুর পলী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন নগরীর বুড়িরহাট ফার্ম এলাকার হাবিবুর রহমান বলেন, সারাদিন মিলে অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতেও একই অবস্থা। রোসনা বেগম বলেন, রাইস কুকারে ভাত রান্না করা হয়। এছাড়াও তরকারি রান্না করতেও ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহার করতে হয়। গত ১০-১২ দিনের লোডশেডিংয়ের কারণে রান্নাও করতে পারছি না। রংপুর পলী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন সদর উপজেলার পাগলাপীর এলাকার স্টুডিও ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ায় ছবি উঠাতে আসা গ্রাহকদের অনেক সময় ধরে বসে থাকতে হচ্ছে। তীব্র গরমে এ যেন এক নাজেহাল অবস্থা। কনফেকশনারি ব্যবসায়ী হযরত আলী বলেন, গরমে আইসক্রিম ও কোল্ড ড্রিংসের চাহিদা বেশি থাকে।
কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে আইসক্রিম গলে যাচ্ছে ও কোল্ড ড্রিংকসও গরম হয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তার বলেন, বিদ্যুতের এ অবস্থায় পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছি না। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মহানগরের সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, সারা দেশে ব্যাপকহারে বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। লোডশেডিং কমাতে হলে প্রথমত আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করা গেলে তুলনামূলকভাবে লোডশেডিং কমিয়ে আনা সম্ভব। রংপুর পলী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুন নুর বলেন, আমরা বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি। সকল এলাকায় বিদ্যুৎ সেবা দিতে গিয়ে লোডশেডিং হচ্ছে। রংপুর পলী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মো. খুরশীদ আলম বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের যোগান থাকলে গ্রাহকদের সমস্যায় পড়তে হতো না। তীব্র গরমে লোডশেডিং কমিয়ে আনতে কাজ করা হচ্ছে।























