০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় ব্যর্থ ২২ জন পরীক্ষার্থী

 টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রী ক‌লেজের ২২ জন পরীক্ষার্থী এইচএস‌সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কর‌তে পা‌রে‌নি ক‌লেজ কর্তৃপ‌ক্ষের অব‌হেলা এবং এক শিক্ষ‌কের প্রতারণার জন্য।
রোববার (৩০ জুন) সকা‌লে পরীক্ষা শুরুর আগে নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রী কলেজের ২২ পরীক্ষার্থী বিক্ষুব্ধ হ‌য়ে নিকরাইলের পল‌শিয়া রানী দীনম‌নি উচ্চ বিদ‌্যাল‌য়ে কে‌ন্দ্রে গি‌য়ে আন্দোলন শুরু ও ভাঙচুর কর‌তে থা‌কে। প‌রে অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ ঘটনাস্থ‌লে গি‌য়ে প‌রি‌স্থি‌তি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স‌রেজ‌মি‌নে দেখা গে‌ছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় কে‌ন্দ্রের বাইরে গে‌টে দা‌ড়ি‌য়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় অভিভাবকরাও কে‌ন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী‌দের শান্তনা দি‌চ্ছেন, আর দোষী‌দের বিরু‌দ্ধে শা‌স্তিমূলক ব‌্যবস্থাগ্রহ‌ণে জোর দাবি জানান।
জানা গে‌ছে, উপ‌জেলার নিকরাইল শমসের ফ‌কির ডিগ্রী ক‌লে‌জ কর্তৃপক্ষ এইচএস‌সি পরীক্ষার জন‌্য নির্ধা‌রিত টাকার চে‌য়ে বাড়‌তি টাকা দাবি ক‌রে। এতে অনেক শিক্ষার্থী বাড়‌তি টাকা দি‌তে অস্বীকার ক‌রে। এই সু‌যো‌গে ক‌লে‌জের বাংলা বিভা‌গের প্রভাষক লোকমান হো‌সেন ২২ পরীক্ষার্থীর কাছ থে‌কে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেয় ফরম পূরণের জন‌্য। কিন্তু শিক্ষার্থী‌দের বোর্ড থে‌কে কোন রে‌জি‌স্ট্রেশ‌ন কার্ড বা প্রবেশপত্র দেয়া হয়‌নি।
গতকাল শ‌নিবার তারা ক‌লে‌জে গি‌য়ে প্রবেশপত্র নি‌তে গে‌লে তা‌দের ফরম পূরণ হয়নি ব‌লে জা‌নি‌য়ে দেয়া হয়। প‌রে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক লোকমান হো‌সেনের সা‌থে যোগা‌যোগ ক‌রেও কোন সুরাহা পায়‌নি। ওই ক‌লেজ থে‌কে নিয়‌মিত ও অনিয়‌মিত মি‌লি‌য়ে পল‌শিয়া রানী দীনম‌নি উচ্চ বিদ‌্যালয় কেন্দ্রে এইচএস‌সি পরীক্ষায় ১৭১ জন অংশগ্রহণ ক‌রে‌ছে।
এ ঘটনায় প্রবেশপত্র বা‌তিল হওয়া পরীক্ষার্থীরা সকা‌লে পরীক্ষা শুরুর আগে কে‌ন্দ্রে গি‌য়ে বি‌ক্ষোভ ও ভাঙচুর ক‌রে। এসময় সেখা‌নে অতিরিক্ত পু‌লিশ সদস‌্য মোতা‌য়েনের পাশাপা‌শি প্রশাস‌নের আশ্বা‌সের পর পরীক্ষার্থীরা আন্দোলন শেষ ক‌রে কেন্দ্র ত‌্যাগ ক‌রে।
পরীক্ষার্থীরা জানায়, কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবিকৃত ৮ হাজার টাকা দি‌তে না পারায় ফরম পূরণ ক‌রে‌নি। প‌রে ক‌লে‌জের বাংলা প্রভাষক লোকমানের মাধ্যমে ফরম পূরণ করে জালিয়াতির শিকার হ‌য়ে‌ছি। টাকা দি‌য়েও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কর‌তে পারলাম না। আমা‌দের ভ‌বিষ‌্যৎ নষ্ট হ‌য়ে যা‌বে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষ‌কের প্রতারণার কার‌ণে। আমরা যেকোন মূ‌ল্যে পরীক্ষা দি‌তে চাই।
শম‌সের ফ‌কির ডিগ্রী ক‌লে‌জের বাংলা‌ বিভা‌গের প্রভাষক লোকমান হো‌সেন ব‌লেন, ওই ২২জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ হ‌য়ে‌ছে। সকল প্রমাণপত্র আমার কা‌ছে র‌য়ে‌ছে। কিন্তু গতকাল রা‌তে ক‌লে‌জের ভারপ্রাপ্ত অধ‌্যক্ষ বো‌র্ডে ফোন ক‌রে ২২ পরীক্ষার্থীর ফরম বা‌তিল ক‌রেন।
শম‌সের ফ‌কির ডিগ্রী ক‌লে‌জের ভারপ্রাপ্ত অধ‌্যক্ষ মো. আক্তারুজ্জামান জানান, পরীক্ষার্থীরা ক‌লে‌জে‌ কোন যোগাযোগ করেনি। অনেক শিক্ষার্থী‌কে বিনামূ‌ল্যে ফরম পূরণ করা হ‌য়ে‌ছে। বাড়‌তি ফি নেয়া হয়‌নি। শিক্ষার্থী‌দের অভিযোগ সত‌্য না।
ভুঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ জানান, পরীক্ষা দি‌তে না পারা শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হ‌য়ে কে‌ন্দ্রে আন্দোলন ক‌রে। ‌প‌রে কেন্দ্রে অতিরিক্ত পু‌লিশ মোতা‌য়েন ক‌রে প‌রি‌স্থি‌তি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ জানান, ২২ পরীক্ষার্থী ক‌লেজ কর্তৃপ‌ক্ষের অগোচ‌রে এবং অবৈধভা‌বে এইচএস‌সি ফরম পূরণ ক‌রে ব‌লে ক‌লেজ অধ‌্যক্ষ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর লি‌খিত অভিযোগ ক‌রেন। প‌রে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ওই ২২ পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ বা‌তিল করে। যার ফলে, তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কর‌তে পার‌ছে না। শিক্ষার্থী‌দের অভিযোগ খ‌তি‌য়ে দে‌খে দোষী‌দের বিরু‌দ্ধে ব‌্যবস্থা গ্রহণ করা হ‌বে।
জনপ্রিয় সংবাদ

কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় ব্যর্থ ২২ জন পরীক্ষার্থী

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪
 টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রী ক‌লেজের ২২ জন পরীক্ষার্থী এইচএস‌সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কর‌তে পা‌রে‌নি ক‌লেজ কর্তৃপ‌ক্ষের অব‌হেলা এবং এক শিক্ষ‌কের প্রতারণার জন্য।
রোববার (৩০ জুন) সকা‌লে পরীক্ষা শুরুর আগে নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রী কলেজের ২২ পরীক্ষার্থী বিক্ষুব্ধ হ‌য়ে নিকরাইলের পল‌শিয়া রানী দীনম‌নি উচ্চ বিদ‌্যাল‌য়ে কে‌ন্দ্রে গি‌য়ে আন্দোলন শুরু ও ভাঙচুর কর‌তে থা‌কে। প‌রে অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ ঘটনাস্থ‌লে গি‌য়ে প‌রি‌স্থি‌তি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স‌রেজ‌মি‌নে দেখা গে‌ছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় কে‌ন্দ্রের বাইরে গে‌টে দা‌ড়ি‌য়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় অভিভাবকরাও কে‌ন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী‌দের শান্তনা দি‌চ্ছেন, আর দোষী‌দের বিরু‌দ্ধে শা‌স্তিমূলক ব‌্যবস্থাগ্রহ‌ণে জোর দাবি জানান।
জানা গে‌ছে, উপ‌জেলার নিকরাইল শমসের ফ‌কির ডিগ্রী ক‌লে‌জ কর্তৃপক্ষ এইচএস‌সি পরীক্ষার জন‌্য নির্ধা‌রিত টাকার চে‌য়ে বাড়‌তি টাকা দাবি ক‌রে। এতে অনেক শিক্ষার্থী বাড়‌তি টাকা দি‌তে অস্বীকার ক‌রে। এই সু‌যো‌গে ক‌লে‌জের বাংলা বিভা‌গের প্রভাষক লোকমান হো‌সেন ২২ পরীক্ষার্থীর কাছ থে‌কে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেয় ফরম পূরণের জন‌্য। কিন্তু শিক্ষার্থী‌দের বোর্ড থে‌কে কোন রে‌জি‌স্ট্রেশ‌ন কার্ড বা প্রবেশপত্র দেয়া হয়‌নি।
গতকাল শ‌নিবার তারা ক‌লে‌জে গি‌য়ে প্রবেশপত্র নি‌তে গে‌লে তা‌দের ফরম পূরণ হয়নি ব‌লে জা‌নি‌য়ে দেয়া হয়। প‌রে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক লোকমান হো‌সেনের সা‌থে যোগা‌যোগ ক‌রেও কোন সুরাহা পায়‌নি। ওই ক‌লেজ থে‌কে নিয়‌মিত ও অনিয়‌মিত মি‌লি‌য়ে পল‌শিয়া রানী দীনম‌নি উচ্চ বিদ‌্যালয় কেন্দ্রে এইচএস‌সি পরীক্ষায় ১৭১ জন অংশগ্রহণ ক‌রে‌ছে।
এ ঘটনায় প্রবেশপত্র বা‌তিল হওয়া পরীক্ষার্থীরা সকা‌লে পরীক্ষা শুরুর আগে কে‌ন্দ্রে গি‌য়ে বি‌ক্ষোভ ও ভাঙচুর ক‌রে। এসময় সেখা‌নে অতিরিক্ত পু‌লিশ সদস‌্য মোতা‌য়েনের পাশাপা‌শি প্রশাস‌নের আশ্বা‌সের পর পরীক্ষার্থীরা আন্দোলন শেষ ক‌রে কেন্দ্র ত‌্যাগ ক‌রে।
পরীক্ষার্থীরা জানায়, কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবিকৃত ৮ হাজার টাকা দি‌তে না পারায় ফরম পূরণ ক‌রে‌নি। প‌রে ক‌লে‌জের বাংলা প্রভাষক লোকমানের মাধ্যমে ফরম পূরণ করে জালিয়াতির শিকার হ‌য়ে‌ছি। টাকা দি‌য়েও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কর‌তে পারলাম না। আমা‌দের ভ‌বিষ‌্যৎ নষ্ট হ‌য়ে যা‌বে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষ‌কের প্রতারণার কার‌ণে। আমরা যেকোন মূ‌ল্যে পরীক্ষা দি‌তে চাই।
শম‌সের ফ‌কির ডিগ্রী ক‌লে‌জের বাংলা‌ বিভা‌গের প্রভাষক লোকমান হো‌সেন ব‌লেন, ওই ২২জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ হ‌য়ে‌ছে। সকল প্রমাণপত্র আমার কা‌ছে র‌য়ে‌ছে। কিন্তু গতকাল রা‌তে ক‌লে‌জের ভারপ্রাপ্ত অধ‌্যক্ষ বো‌র্ডে ফোন ক‌রে ২২ পরীক্ষার্থীর ফরম বা‌তিল ক‌রেন।
শম‌সের ফ‌কির ডিগ্রী ক‌লে‌জের ভারপ্রাপ্ত অধ‌্যক্ষ মো. আক্তারুজ্জামান জানান, পরীক্ষার্থীরা ক‌লে‌জে‌ কোন যোগাযোগ করেনি। অনেক শিক্ষার্থী‌কে বিনামূ‌ল্যে ফরম পূরণ করা হ‌য়ে‌ছে। বাড়‌তি ফি নেয়া হয়‌নি। শিক্ষার্থী‌দের অভিযোগ সত‌্য না।
ভুঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ জানান, পরীক্ষা দি‌তে না পারা শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হ‌য়ে কে‌ন্দ্রে আন্দোলন ক‌রে। ‌প‌রে কেন্দ্রে অতিরিক্ত পু‌লিশ মোতা‌য়েন ক‌রে প‌রি‌স্থি‌তি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ জানান, ২২ পরীক্ষার্থী ক‌লেজ কর্তৃপ‌ক্ষের অগোচ‌রে এবং অবৈধভা‌বে এইচএস‌সি ফরম পূরণ ক‌রে ব‌লে ক‌লেজ অধ‌্যক্ষ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর লি‌খিত অভিযোগ ক‌রেন। প‌রে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ওই ২২ পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ বা‌তিল করে। যার ফলে, তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কর‌তে পার‌ছে না। শিক্ষার্থী‌দের অভিযোগ খ‌তি‌য়ে দে‌খে দোষী‌দের বিরু‌দ্ধে ব‌্যবস্থা গ্রহণ করা হ‌বে।