◉ ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রথম ভোটগ্রহণ শুরু
◉ আগামী ৭ জুলাই দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল জানা যাবে না
ফ্রান্সে পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে গতকাল। স্থানীয় সময় সকাল থেকেই ভোট দিতে শুরু করেছেন ফরাসি ভোটাররা। ছোট শহরগুলোতে ভোটদান চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। আর বড় শহরগুলোতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র খোলা থাকবে। অনুমান করা হচ্ছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যাচ্ছে। ফ্রান্সে জাতীয় পরিষদের ৫৭৭টি আসনের জন্য দুই দফায় ভোট হয়ে থাকে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য একটি দলের প্রয়োজন হয় ২৮৯টি আসন। আগামী ৭ জুলাই দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল জানা যাবে না।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, এবার অতি ডানপন্থি রাজনীতিবিদ মেরিন লে পেন এবং জর্ডান বারডেলার দল আরএন বেশ এগিয়ে রয়েছে। দলটি জিতলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে অতি ডানপন্থিরা ক্ষমতায় আসবে। তবে জনমত জরিপগুলো বলছে, আরএন এগিয়ে থাকলেও, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তাদের দাবি, ভোটে ৩৩ থেকে ৩৬ শতাংশ ভোট পাবে আরএন। বামপন্থি জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট পাবে ২৮ থেকে ২৯ শতাংশ আর ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থি জোট পাবে ২০ থেকে ২৩ শতাংশ ভোট।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসে ফ্রান্সে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি নেতা মেরি ল পেনের ন্যাশনাল র্যালির কাছে ধরাশায়ী হয় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর দল। আর তাতেই শঙ্কিত হয়ে তড়িঘড়ি করে ফ্রান্সে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দেন ম্যাক্রোঁ। অভিবাসনবিরোধী ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সমালোচনাকারী নেতা মেরি ল পেনের দল দীর্ঘ সময় জনবিচ্ছিন্ন থাকলেও এখন ক্ষমতার খুব কাছাকাছি। গত বুধবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ল পেন বলেন, আমরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যাচ্ছি। তার দল ন্যাশনাল র্যালির নেতা ২৮ বছর বয়সি জর্ডান বারদেলা ফ্রান্সের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে মনে করেন তিনি। এ সময় ল পেন ব্যয়বহুল অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে তাদের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
আরএন যদি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তবে ফরাসি রাজনীতিতে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। কারণ পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদের হাতে থাকলেও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ক্ষমতায় থাকবেন আরও তিন বছর, অর্থাৎ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ফলে বিরোধী দুই পক্ষ ক্ষমতার দুই কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করায় স্বাভাবিকভাবেই ভারসাম্য বজায় থাকবে না। বারদেলা এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি নির্বাচিত হলে বৈশ্বিক ইস্যু তথা পররাষ্ট্র নীতিতে ম্যাক্রোঁকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন।
চলতি নির্বাচনে আরএনের জয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ফ্রান্সের অবস্থানেও পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ ল পেন অতীতে একাধিকবার রাশিয়ার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। যদিও তার দল বলছে, নির্বাচিত হলে তারা ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষার লড়াইয়ে সহায়তা করবে। ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের নির্বাচন সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু গত ২২ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হচ্ছে জাতীয় পরিষদ নির্বাচন। নিজ দেশে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থিদের কাছে ধরাশায়ী হয়ে তড়িঘড়ি করে ফ্রান্সে আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সেই ঘোষণা ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও হতবাক করে দেয়। কারণ, আগামী ২০২৭ সালের আগে ফ্রান্সে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। আগের নির্বাচনগুলোতে ফ্রান্সের ভোটাররা কট্টর ডানপন্থি দলগুলোকে সামনে আসতে দেয়নি। কিন্তু এবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ডানপন্থিদের দিকে ঝুঁকেছে দেশটির সাধারণ মানুষ। কারণ ডানপন্থিরা জ্বালানির ওপর ভ্যাট কমাতে এবং ৩০ বছরের কম বয়সিদের আয়কর থেকে মুক্তির আশ্বাস দিয়েছে।


























