০৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সামাজিক সুরক্ষা খাত

চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল প্রতিবন্ধী ভাতা

► এবছর ভাতা পাবেন ৩২ লাখ ৩৪ হাজার জন প্রতিবন্ধী
► কেয়ার গিভারকেও ভাতা দেয়ার দাবি
► জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা বাড়ানোর দাবি জানাই : মহুয়া পাল

 

দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রতিবন্ধীদের ভাতার ব্যবস্থা করেছে সরকার। কিন্তু এই ভাতা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। তাই, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি, অতি প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় থাকা কেয়ার গিভারকে ভাতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রাপ্তদের সংখ্যা ২৯ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ৩২ লাখ ৩৪ হাজার জনে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের উপবৃত্তির হার বিদ্যমান ৯৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, বাংলাদেশে প্রায় ৯ শতাংশ নাগরিক কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধিতার শিকার, যার বিশাল একটি অংশই শিক্ষার্থী। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়নের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর (ডিএসএস) একটি সফটওয়ার প্রতিষ্ঠা করে যার নাম প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ (ডিআইএস)। প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ (ডিআইএস) এর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ৩৩,২০,০১৭ জন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবন্ধিতা এবং এর কারণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার কারণে সমাজে নানা ধরনের ভুল বিশ্বাস ও প্রথা প্রচলিত রয়েছে। সরকার সামগ্রিক উন্নয়ন, অধিকার ও সুরক্ষার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূল স্রোতে যুক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে একটি হলো প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি।

সরকার ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৪ হাজার ১৬৬ জন প্রতিবন্ধীকে প্রতি মাসে দুইশ টাকা হারে ভাতা দেওয়া হয়। ২০০৬-৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৬৬ হাজার জনকে ২০০ টাকা হারে ভাতা দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৯.৯৯ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২ লাখ ৬০ হাজার জনকে ৩০০ টাকা ভাতা দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ৯৩.৬০ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪ লাখ জনকে ৫০০ টাকা হারে ভাতা দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ২৪০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার জনকে ৭৫০ টাকা হারে ভাতা দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ১৩৯০.৫০ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৮ লাখ জনের জন্য ৭৫০ টাকা হারে ভাতার জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬২০.০০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে ২০ লাখ ৮ হাজার জনকে ৭৫০ টাকা ভাতা দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ১৮২০ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৩ লাখ ৬৫ হাজার জনকে ৮৫০ টাকা হারে ভাতা দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ২৪২৯.১৮ কোটি টাকা। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২৩ লাখ ৬৫ হাজার থেকে ২৯ লাখে উন্নীত হয়েছে। মাসিক ভাতার হার ৮৫০ টাকা। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২৯৭৮.৭১ কোটি টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থবছর থেকে সকল উপকারভোগীকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার নগদ ও বিকাশ এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে (গভর্নমেন্ট টু পারসন) ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় এই ভাতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই কার্যক্রম শুরুর বছর ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি প্রদত্ত সাংবিধানিক ও আইনগত প্রতিশ্রুতি পূরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনয়ন, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণপূর্বক উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাছাইকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ভাতা প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়টি জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তকরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জরিপ করে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড প্রদান।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল জানান, সব ভাতার ক্ষেত্রেই ভাতার পরিমাণ বাড়ে বা সংখ্যা বাড়ে। এবার প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়েনি। সংখ্যা বেড়েছে। এই ভাতা যেন শতভাগ দুর্নীতিমুক্তভাবে একজন গ্রহিতা পায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণ কার্যক্রম প্রায় ১০০ শতাংশ অর্জন করেছে। প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান বাস্তবায়ন নীতিমালা সংশোধন করে যুগোপযোগীকরণ, উপকারভোগী নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ এবং জিটুপি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম নামে ডাটাবেজ প্রণয়ন করা হয়েছে।

একসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কো-ফাউন্ডার এবং চেয়ারপারসন মহুয়া পাল দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমরা এবারের পোস্ট বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সরকারকে মাসিক ভাতা সাড়ে আটশ টাকা থেকে বাড়ানোর অনুরোধ করেছিলাম। এটা অপরিবর্তিত রয়েছে। এটার কোনো পরিবর্তন হয়নি। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলে ১৫শ টাকার কথা বলা ছিল এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০২০ সালে উল্লেখিত আছে যে জীবনযাত্রার ব্যয়ের মাসিক তিন হাজার টাকা থেকে অনেক কম। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রা ব্যয় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রা ব্যয় বিবেচনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা বাড়ানো হোক। এটা আগেই বলা ছিল যে, প্রতিবন্ধী ভাতা যেন ১৫শ টাকা করা হয়। আবার ২০২০ সালে ঘোষিত জীবনযাত্রা ব্যয় ৩০০০ টাকা থেকে অনেক কম। এজন্য এটা বাড়ানোর জন্য আমরা অনেক বছর ধরেই বলে আসছি। এটার সঙ্গে সঙ্গে যারা গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে তাদের সার্বক্ষণিক কেয়ার গিভার প্রয়োজন হয়। যিনি কেয়ার গিভারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি অন্য কোন কাজ করতে পারেন না। এজন্য আমরা কেয়ার গিভার ভাতার জন্য সুপারিশ করেছি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে, সবার ভাতার প্রয়োজন নেই। যারা অসচ্ছল প্রতিবন্ধী, কেউ হয়ত গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অতি দরিদ্র তার প্রয়োজন অনুযায়ী, কারো হয়ত বেশি প্রয়োজন তাদেরকে এই ভাতা দেয়ার জন্য আমরা বলছি। আবার প্রতিবন্ধিতার মধ্যে যদি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি যুক্ত করা হয় তাহলে এই ভাতা গ্রহিতার সংখ্যা আরও অনেক বেশি বেড়ে যাবে। প্রতিবন্ধী সংগঠনের নেতা বদিউল আলম বলেন, সরকার প্রতিবন্ধীদের ভাতা দিচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের এই ভাতা থাকার কারণে সে পরিবারে সম্মান পাচ্ছে। এই টাকার কারণে পরিবার থেকে সে খাবার পাচ্ছে, আশ্রয় পাচ্ছে। এই প্রতিবন্ধীদের ভাতা বৃদ্ধি করা হলে এক কোটি পঞ্চাশ লাখ মানুষ উপকার পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

সামাজিক সুরক্ষা খাত

চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল প্রতিবন্ধী ভাতা

আপডেট সময় : ০৬:০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪

► এবছর ভাতা পাবেন ৩২ লাখ ৩৪ হাজার জন প্রতিবন্ধী
► কেয়ার গিভারকেও ভাতা দেয়ার দাবি
► জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা বাড়ানোর দাবি জানাই : মহুয়া পাল

 

দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রতিবন্ধীদের ভাতার ব্যবস্থা করেছে সরকার। কিন্তু এই ভাতা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। তাই, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি, অতি প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় থাকা কেয়ার গিভারকে ভাতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রাপ্তদের সংখ্যা ২৯ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ৩২ লাখ ৩৪ হাজার জনে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের উপবৃত্তির হার বিদ্যমান ৯৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, বাংলাদেশে প্রায় ৯ শতাংশ নাগরিক কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধিতার শিকার, যার বিশাল একটি অংশই শিক্ষার্থী। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়নের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর (ডিএসএস) একটি সফটওয়ার প্রতিষ্ঠা করে যার নাম প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ (ডিআইএস)। প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ (ডিআইএস) এর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ৩৩,২০,০১৭ জন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবন্ধিতা এবং এর কারণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার কারণে সমাজে নানা ধরনের ভুল বিশ্বাস ও প্রথা প্রচলিত রয়েছে। সরকার সামগ্রিক উন্নয়ন, অধিকার ও সুরক্ষার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূল স্রোতে যুক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে একটি হলো প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি।

সরকার ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৪ হাজার ১৬৬ জন প্রতিবন্ধীকে প্রতি মাসে দুইশ টাকা হারে ভাতা দেওয়া হয়। ২০০৬-৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৬৬ হাজার জনকে ২০০ টাকা হারে ভাতা দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৯.৯৯ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২ লাখ ৬০ হাজার জনকে ৩০০ টাকা ভাতা দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ৯৩.৬০ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪ লাখ জনকে ৫০০ টাকা হারে ভাতা দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ২৪০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার জনকে ৭৫০ টাকা হারে ভাতা দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ১৩৯০.৫০ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৮ লাখ জনের জন্য ৭৫০ টাকা হারে ভাতার জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬২০.০০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে ২০ লাখ ৮ হাজার জনকে ৭৫০ টাকা ভাতা দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ১৮২০ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৩ লাখ ৬৫ হাজার জনকে ৮৫০ টাকা হারে ভাতা দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ২৪২৯.১৮ কোটি টাকা। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২৩ লাখ ৬৫ হাজার থেকে ২৯ লাখে উন্নীত হয়েছে। মাসিক ভাতার হার ৮৫০ টাকা। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২৯৭৮.৭১ কোটি টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থবছর থেকে সকল উপকারভোগীকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার নগদ ও বিকাশ এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে (গভর্নমেন্ট টু পারসন) ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় এই ভাতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই কার্যক্রম শুরুর বছর ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি প্রদত্ত সাংবিধানিক ও আইনগত প্রতিশ্রুতি পূরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনয়ন, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণপূর্বক উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাছাইকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ভাতা প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়টি জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তকরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জরিপ করে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড প্রদান।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল জানান, সব ভাতার ক্ষেত্রেই ভাতার পরিমাণ বাড়ে বা সংখ্যা বাড়ে। এবার প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়েনি। সংখ্যা বেড়েছে। এই ভাতা যেন শতভাগ দুর্নীতিমুক্তভাবে একজন গ্রহিতা পায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণ কার্যক্রম প্রায় ১০০ শতাংশ অর্জন করেছে। প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান বাস্তবায়ন নীতিমালা সংশোধন করে যুগোপযোগীকরণ, উপকারভোগী নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ এবং জিটুপি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম নামে ডাটাবেজ প্রণয়ন করা হয়েছে।

একসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কো-ফাউন্ডার এবং চেয়ারপারসন মহুয়া পাল দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমরা এবারের পোস্ট বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সরকারকে মাসিক ভাতা সাড়ে আটশ টাকা থেকে বাড়ানোর অনুরোধ করেছিলাম। এটা অপরিবর্তিত রয়েছে। এটার কোনো পরিবর্তন হয়নি। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলে ১৫শ টাকার কথা বলা ছিল এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০২০ সালে উল্লেখিত আছে যে জীবনযাত্রার ব্যয়ের মাসিক তিন হাজার টাকা থেকে অনেক কম। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রা ব্যয় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রা ব্যয় বিবেচনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা বাড়ানো হোক। এটা আগেই বলা ছিল যে, প্রতিবন্ধী ভাতা যেন ১৫শ টাকা করা হয়। আবার ২০২০ সালে ঘোষিত জীবনযাত্রা ব্যয় ৩০০০ টাকা থেকে অনেক কম। এজন্য এটা বাড়ানোর জন্য আমরা অনেক বছর ধরেই বলে আসছি। এটার সঙ্গে সঙ্গে যারা গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে তাদের সার্বক্ষণিক কেয়ার গিভার প্রয়োজন হয়। যিনি কেয়ার গিভারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি অন্য কোন কাজ করতে পারেন না। এজন্য আমরা কেয়ার গিভার ভাতার জন্য সুপারিশ করেছি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে, সবার ভাতার প্রয়োজন নেই। যারা অসচ্ছল প্রতিবন্ধী, কেউ হয়ত গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অতি দরিদ্র তার প্রয়োজন অনুযায়ী, কারো হয়ত বেশি প্রয়োজন তাদেরকে এই ভাতা দেয়ার জন্য আমরা বলছি। আবার প্রতিবন্ধিতার মধ্যে যদি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি যুক্ত করা হয় তাহলে এই ভাতা গ্রহিতার সংখ্যা আরও অনেক বেশি বেড়ে যাবে। প্রতিবন্ধী সংগঠনের নেতা বদিউল আলম বলেন, সরকার প্রতিবন্ধীদের ভাতা দিচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের এই ভাতা থাকার কারণে সে পরিবারে সম্মান পাচ্ছে। এই টাকার কারণে পরিবার থেকে সে খাবার পাচ্ছে, আশ্রয় পাচ্ছে। এই প্রতিবন্ধীদের ভাতা বৃদ্ধি করা হলে এক কোটি পঞ্চাশ লাখ মানুষ উপকার পাবে।