🔴 সাত-আট মাত্রার ভূমিকম্প ঝুঁকি
🔴 ঢাকা শহরের ৪০ ভাগ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ
🔴 মোট বিল্ডিং ২১ লাখ, এরমধ্যে ৬ লাখ বহুতল ভবন
⤷ বিল্ডিং চেকিং করে মজবুতিকরণের দিকে অবশ্যই জোর দিতে হবে। বড় ধরণের কোন দূর্ঘটনা ঘটলে মানুষ সরকারকেই দোষ দিবে : অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী
⤷ আমরা ভূমিকম্প প্রতিরোধে কাজ করছি : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান
বাংলাদেশ এখন সাত মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে যেকোন মুহুর্তে হতে পারে এই ভূমিকম্প। ঢাকা শহরের মোট বিল্ডিংয়ের সংখ্যা ২১ লাখ। এরমধ্যে ৬ লাখ বহুতল ভবন রয়েছে। এই শহরের ৪০ ভাগ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। ভূমিকম্পের কারণে বহুতল ভবনের এই শহরে ঘটতে পারে বড় ধরণের প্রাণহানির ঘটনা। এই অবস্থা প্রতিরোধে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যথাযথ পদক্ষেপ প্রয়োজন। কেননা, রানা প্লাজার মতো বড় ধরণের বিপর্যয় ঘটলে মানুষ সরকারকেই দোষ দিবে। এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত। যে কোন সময় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ আট মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ২০ শতাংশ বিল্ডিং কোলাপস হয়ে যেতে পারে। ঢাকা শহরে লক্ষ লক্ষ লোট আটকা পরতে পারে। অনেক লোকের মৃত্যুর সম্ভাবনাও রয়েছে। আমরা এসব বিষয়ে কাজ করছি।
ভূমিকম্পের অতীত ইতিহাসে দেখা যায়, বাংলাদেশে ছয়টা বড় বড় ভূমিকম্প হয়েছে। তারমধ্যে প্রথম ভূমিকম্প হয়েছে ১৭৬২ সালে। যেটা ৮.৫ ম্যাগনিটিউড। মিয়ানমার অঞ্চলে হয়েছে সেন্টমার্টিনের কাছে। এরফলে চট্টগ্রাম বেল্টে বড় সুনামি হয়েছে। দ্বিতীয়টি, ১৮৬৯ এর দিকে, ৭.৫ ম্যাগনিটিউড। সিলেটের ঐপারে কাছারে এই ভূমিকম্পটা হয়। এসময় কিছু লোক মারা যায়। সিলেটের চা বাগানের ম্যানেজারদের বাসা ভেঙে যায়। তৃতীয়টি, ১৮৮৫ এ ৭.০ ম্যাগনিটিউড। এটা যমুনা ব্রীজটা ডিজাইন করা হয়েছে এটার কথা মাথায় রেখে। বগুড়ার যে শেরপুর উপজেলা আছে সেখানে হয়েছে। এসময় সিরাজগঞ্জের অনেকগুলো কলকারখানা ভেঙে যায়। চতুর্থটি, ১৮৯৭ এ ভূমিকম্প ৮.৭ ম্যাগনিটিউড। এসময় ১৫৪২ জন লোক মারা গেছে। তারমধ্যে ৫৪২ জন মারা গেছে বাংলাদেশ অংশে। ঢাকাতেও তখন আহসান মঞ্জিলসহ বেশ কয়েকটি বিল্ডিং ভেঙে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। নবাব সাহেবরা তখন ১৫ দিন তাঁবুতে ছিলেন। পঞ্চমত, ১৯১৮তে শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্প, এসময় কয়েকজন মারা গেছে বাংলাদেশ অংশে। চা বাগানের ম্যানেজারের বাসা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ষষ্ঠত, ১৯৩০ ধুবড়ি ভূমিকম্প ঠিক বাংলাদেশ এবং ভারত সীমান্তের কাছে এই ভূমিকম্প হয়। এটা ৭.১ ম্যাগনিটিউড। সপ্তমত, ১৯৫০ এ আসাম ভূমিকম্প, ৮.৬ ম্যাগনিটিউড এবং ১৯৩০ এ ৮.৩ ম্যাগনিটিউডের বিহার-নেপাল ভূমিকম্প। এসময় নেপাল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
দেশের ভূমিকম্প পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, বড় ভূমিকম্প যেগুলো হয়েছে ৮.৭ এবং ৮.৭ ম্যাগনিটিউডের। এই বড় ভূমিকম্পগুলো আবার আসার সম্ভাবনা হচ্ছে ৩০০-৩৫০ বছর পর। আরও ভূমিকম্প থাকতে পারে। কিন্তু আমরা সেগুলো জানিনা। এই যে জানা ভূমিকম্প যেগুলো আছে সেগুলোর মধ্যে ১৮৯৭ এ যে স্থানে ভূমিকম্প হয়েছে সেই স্থানে ১৫৪৮ সালে একটা ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই জন্য ঐখান থেকে একটা ধারণা করা যায় যে, এই ধরণের ভূমিকম্প ৩০০-৩৫০ বছর পর পর আসে। যেগুলো স্থানে ৭ ম্যাগনিটিউডের কাছাকাছি ভূমিকম্প হয়েছে সেটা বলা হয়, ১২৫-১৭৫ বছর পরপর আসতে পারে। সেজন্য আমরা বলি যে, এখন ৭ ম্যাগনিটিউডের একটা ভূমিকম্প বাংলাদেশে হতে পারে।
তিনি তুরস্কের উদাহরণ টেনে বলেন, গতবছর তুরস্কে ৭.৫ ম্যাগনিটিউডের ভূমিকম্প হয়েছে পরপর দুইটা। তখন দেখা গেল, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ তুরস্কে মারা গেছে। সিরিয়াতে মারা গেছে প্রায় ১০ হাজার লোক শুধু বিল্ডিং চাপা পড়ে। পরে হয়ত ৫০ জনকে উদ্ধার করেছে কিন্তু উদ্ধার করতে প্রত্যেক লোকের পিছনে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার উপরে খরচ হয়েছে। কারণ, একজনকে উদ্ধার করতে অনেক বিণ্ডিং কাটতে হয়েছে। প্রচুর তেল খরচ হয়েছে। হয়ত ১০০-২০০ জন লোক ওখানে কাজ করেছে। এগুলো সবকিছু মিলিয়ে খরচটা এত বেশি হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি একটা ছয়তলা বাড়ি যেটা পাঁচ কাঠার মাটিতে হয়। সেটাকে যদি মজবুতিকরণ করতে চাই তাহলে ৫০ লাখ টাকা খরচ করলেই যথেষ্ট। রানা প্লাজার ঘটনার পরে আমরা অনেক বিল্ডিংয়ের হিসাব দেখেছি আমরা দেখেছি ০৫-৬০ লাখ টাকার মধ্যে খরচে আমরা একটা ছোট পাঁচ কাঠা প্লটের বাড়িকে ভূমিকম্প সহনীয় করতে পারি। তুরস্কের সাথে আমাদের কিছু তফাত আছে। ওদের ওখানে আমাদের মতো এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা না। আমাদের এখানে বলা হয় যে, প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪০ হাজার জন বাস করে। তুরস্কের প্রধান শহর হচ্ছে আংকারা এবং ইস্তাম্বুল। এই দুই শহরে গত ১০ বছরে ওরা ভূমিকম্প নিয়ে যে ধরণের ইনভেস্টমেন্ট করেছে, বড় ভূমিকম্প হলে ওদের কিছু হবে না। ওদের স্কুল, কলেজ, হাসপাতালগুলো সুরক্ষিত করেছে। ওদের ফায়ার সার্ভিস, শপিংমল এগুলো ভূমিকম্প সহনীয়। হয়ত এজন্য ঐ দুই শহরে ভূমিকম্প হলে এই পরিমাণ ক্ষতি হত না। আমরা ঢাকাবাসী কিন্তু এখন তুরস্কের সেই ক্ষতিগ্রস্থ শহরের মতো অবস্থায় আছি।
ঢাকার সুরক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা রানা প্লাজার পরে ৩৫০০ ফ্যাক্টরি বিল্ডিংকে কালার কোড দিয়ে ক্যাটাগরি করেছিলাম। কোন বিল্ডিং বেশি ভাল, কোন বিল্ডিং খারাপ। চারটা কালার কোড করি। লাল বিল্ডিং মানে হচ্ছে ওটা জরুরিভিত্তিতে মজবুতিকরণ করতে হবে নয়ত ভেঙে ফেলতে হবে। যেন কর্মীরা কোন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। অরেঞ্জ কালার বিল্ডিং এগুলোকে আমরা তিন মাস সময় দিই যাতে আস্তে আস্তে কাজ শুরু করবে। এরপর ইয়েলো, এটা ছয় মাস সময় পাবে। আর গ্রীন কোন রকম রিপেয়ার দরকার নেই। তখন ৬০ শতাংশ বিল্ডিং মজবুতিকরণ করতে হয়েছে। কারণ ওটার কোয়ালিটি ভাল না। ঠিক একইভাবে রাজউকের প্রজেক্ট ছিল রানা প্লাজার বিল্ডিংটা ছিল ছয়তলা। সে এটা পুশ করে ১০ তলা করে নিল। বিল্ডিংটার ছয় তলা ভার বহনের ক্ষমতার উপরে আরও চার তলা বাড়িয়ে নিল। তারমধ্যে বিল্ডিংয়ের মধ্যে ছিল মেশিন। এটা মিলে বিল্ডিংটার কোয়ালিটি খারাপ হলো। বিল্ডিং তৈরিতে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে তিন হাজার ফুট শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু রানা প্লাজাতে আমরা যখন ইনভেস্টিগেশন করলাম তখন ১২শ পেয়েছি। ক্যাপাসিটি পাওয়ার কথা তিন হাজার আমরা ক্যাপাসিটি পেয়েছি ১২শ। তার মানে এই কোয়ালিটিটাও ধরে রাখতে হবে। একটা হচ্ছে কংক্রিটের মান, রডের কোয়ালিটি ভাল ছিল না, আর ভারি মেশিন ছিল। রানা প্লাজার ঘটনার পরে ডিজাস্টার মিনিস্ট্রিতে এই বিষয়টা নিয়ে মিটিং হয়। তখন আলোচনা হয়েছিল যে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে কলকারখানাগুলো চিহ্নিতকরণ হচ্ছে পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়িগুলো চিহ্নিতকরণ করা হোক। তখন শুরু হলে গত ১০ বছরে প্রায় বেশির ভাগ বিল্ডিং চিহ্নিতকরণ হয়ে যেত। কিন্তু তখন এটা কাজটা করা হয়নি। প্রত্যেক ভবন মালিক নিজেই তখন নিজের বিল্ডিং চেক করবে। রানাপ্লাজার পরে আমরা কল কারখানাগুলো চেক করেছি শুধু বিদেশী বায়ারদের প্রেসারে। কারণ ৩০ বিলিয়ন ইন্ডাষ্ট্রি টিকিয়ে রাখতে গেলে করতেই হবে। না হলে বায়াররা মানবে না। রাজউককে এমন একটা আইন করতে হবে যে রাজউকের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট আছে। আপনি যদি কোন নতুন বিল্ডিংয়ে উঠেন তখন রাজউককে সমস্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে। রাজউক সমস্ত কাগজপত্র দেখে যদি বলে যে ঠিক আছে তাহলেই মানুষ বিল্ডিংয়ে উঠতে পারবে। তাহলে বিল্ডিংয়ের আর্কিটেকচারাল নকশা ও স্ট্রাকচার নকশা দুটাকে আলাদা করতে হবে। এই সমস্ত নকশাগুলো জমা দিয়ে রাজউক চেক করাবে। কারণ রাজউক তো নিজে চেক করবে না। একটা ইনজিনিয়ারিং ফার্মকে দিয়ে চেক করাবে। এটা অনেক কিছু মিলে করতে হবে। কোন ইনজিনিয়ারিং ফার্মটা এই কাজ করবে? সদ্য পাশ করা একজন ইনজিনিয়ার এই কাজটা করতে পারবেনা। আমরা আমাদের প্রস্তাবের মধ্যে এই বিষয়গুলো রেখেছি। নতুন বিল্ডিংয়ে রাজউক অনুমোদন দেয়ার পরই উঠা যাবে। এর আগে উঠা যাবেনা। কিন্তু এখন তো ঢাকা শহরের ২১ লাখ বাসার মধ্যে মানুষ উঠে বসে আছে। কিন্তু এই ২১ লাখ বিল্ডিংয়ের মধ্যে মাত্র ১০০টা বিল্ডিংকে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দিয়েছে রাজউক। ১৫ লাখ বিল্ডিং এক তলা ভবন বা ছাপড়া। এগুলোর মধ্যে ৬ লাখ পাকা বিল্ডিং। এগুলো চার তলা থেকে ত্রিশ তলা পর্যন্ত আছে। এগুলো নিয়েই চিন্তা বেশি। বাকি বিল্ডিংগুলোর কোন ডকুমেন্টেশনই রাউজক কালেক্ট করতে পারেনি। মানুষ কাগজ হারিয়ে ফেলেছে। রাজউকের কাছে কোন ডকুমেন্ট নাই। এখন রাজউকের যেটা করতে হবে যে, সব বিল্ডিংয়ের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিতে হবে এবং প্রতি পাঁচ বছর পর পর এটি চেক করাতে হবে, আর সার্টিফিকেট নিতে হবে।
তিনি বেইলী রোডের আগুনের উদাহরণ টেনে বলেন, যে মানুষ মারা গেল, সেই বিল্ডিংটা রাজউকের কাছে পারমিশন নিয়েছে রেসিডেন্সিয়াল বা কর্মাশিয়াল কিন্তু বানিয়েছে রেস্টুরেন্ট। প্রতি পাঁচবছর পর পর এটা রিনিউ করার কথা। রাজউক যখন দেখবে যে মিল নেই তখন সে সার্টিফিকেট না দিয়ে ফেরত দিয়ে দিবে। তখন তাকে আবার ঠিক করে আসতে হবে। এখানে কেউ যদি তার বিল্ডিংয়ের সবকিছু ঠিক করে রাখে তাহলে পুরস্কার হিসেবে পাবে তার অকুপেন্সি সার্টিফিকেট। কারণ, একটা বিল্ডিং চেক করতে এক লাখ টাকা লাগবে। এখন ১০ জন যদি বিল্ডিংয়ের মালিক হয়, ১০ হাজার করে দিয়ে বিল্ডিং চেক করাতে পারে। মালিকরা এই এক লাখ টাকা খরচ করতে পারে কিন্তু এই এক লাখ টাকা কেন সে খরচ করবে? তার তো সামনে একটা কিছু থাকতে হবে। এটা শুধু কালার কোড চেক করার জন্য। আর বিল্ডিং মজুবুতিকরণে খরচ তো ৫০ লাখ টাকা। আমাদের একটা ধারণা ঢাকা শহরের ৪০ ভাগ বিল্ডিং ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৬০ ভাগ বিল্ডিং ঠিকই আছে। এই বিল্ডিং চেক করার জন্য ২০১৫ সালে যখন ডিজাস্টার মিনিস্ট্রি মিটিং ডাকে তখন শাহ কামাল সাহেব সেক্রেটারি ছিলেন তাকে বলেছিলাম, পত্রিকায় একটা এড দিয়ে দেন। কারণ, ডিজাস্টার মিনিস্ট্রি কিন্তু কো অর্ডিনেটর যেকোন দুর্যোগের। রাজউক এই পদক্ষেপ নিতে পারে কিন্তু মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে তার জন্য এই কাজটা করা সহজ হয়। নীতিমালাতেই বলা আছে, যেকোন দুর্যোগে দুর্যোগ মন্ত্রণালয় নেতৃত্বে থাকবে। কাজ করবে। যদি এই নির্দেশনা দিত যে, সবাই যে যার বিল্ডিং চেক করিয়ে সেটা রাজউককে জমা দেবে তাহলে কাজটা সহজ হত কিন্তুু এটা করেনি। রাজউকও এটা নিজ উদ্যোগে করেনি কিন্তু গত ৬ ফেব্রুয়ারি যখন তুরস্কে ভূমিকম্প হলো তখন ২৬ শে ফেব্রুয়ারি আমি একটা বক্তৃতা দেই তখন বলেছি, একটা থার্ড পার্টি যেন এই কাজটা শুরু করে। কোন কোম্পানিগুলো কাজ করবে সেটা নির্দিষ্ট করে যেন পত্রিকায় এড দেয়। তো ঐ কাজটা এখনও চলছে কিন্তু মার্চে মন্ত্রী ও সচিব দুজনেই বদলে গেছেন। আবার কাজ থমকে গেছে।
কোন ঘটনা ঘটলে মানুষ সরকারকে গালি দিবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তুরস্কে প্রেস-মিডিয়া সরকারকে তুমুলভাবে গালিগালাজ করেছে। কেন ওখানে এত বছর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কেন বিল্ডিং চেক করা হয়নি? ঢাকাতেও এমন ঘটনা ঘটলে এর প্রতিবাদ হবে। ঢাকা তো বাংলাদেশের রাজধানী। তুরস্কে তো অনেকদূরের শহরে হয়েছে। বিল্ডিং চেকিং করে মজবুতিকরণের দিকে আমাদের অবশ্যই জোর দিতে হবে। তা না হলে আমাদের বাঁচার উপায় নাই। ৪০ ভাগ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের এখন হাইটাইম। যোগ্যতাসম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা, আর্কিটেক্ট তৈরি করা, প্ল্যানার তৈরি করা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করতে হবে। উদ্যোগটা ২০১৫তে নিলে এতদিনে ৫০ ভাগ বিল্ডিং ঠিক হয়ে যেত।























