চট্টগ্রামসহ সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী সবুজ আলীসহ নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজার নামাজ কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ।
বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেল পৌনে ৬টায় নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজ পূর্ববর্তী বক্তব্যে নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, অপ্রয়োজনীয় ইস্যু নিয়ে জামায়াত-শিবির তাণ্ডব শুরু করেছে। মহরমের পবিত্র মাসকে অপবিত্র করেছে। মনে রাখবেন, ভুল করলে চলবে না। কোটা এদের বিষয় নয়। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়ে আজ তারা সরকার পতনের আন্দোলনে নেমেছে। আমাদের পরিকল্পিতভাবে ধীরে-সুস্থে কাজ শুরু করতে হবে। যুদ্ধ শুরু হয়েছে, এই যুদ্ধে ওরা হবে পরাজিত। আমাদের জয় সুনিশ্চিত।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গতকাল কিভাবে নির্মম নৃশংসভাবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কুপিয়েছে, গুলি করেছে। কোটাবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়াত, শিবির ও বিএনপি সন্ত্রাসীরা আমাদের ছেলেদেরকে নির্মমভাবে কুপিয়েছে, হাত-পায়ের রগ কেটেছে। অতীতেও তারা এরকম করেছিলো। ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। শুধু এখনই নয়, ২০১৩-১৪ সালেও বোমা সন্ত্রাস করে তারা পারেনি, এখনো পারবে না। বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার কর্মী আমরা। তিনি যে নির্দেশ দেবেন সে নির্দেশ অক্ষরে-অক্ষরে পালন করব আমরা। আপনাদের সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সাধারণ ছাত্রদের অভিভাবকবৃন্দদের বলতে চাই, আপনাদের নিরীহ ছেলে-মেয়েদের সামনে দিয়ে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা পেছনে দা-কুড়াল এবং অস্ত্র নিয়ে জনগণের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অতীতে জনগণ বরদাস্ত করে নাই, এখনো করবে না। আমরা নেত্রীর নির্দেশ পালন করে অশুভ শক্তি মোকাবিলা করবো, ইনশাআল্লাহ।
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের কথা বলে জামায়াত-বিএনপি আমাদের কয়েকজন নিরীহ কর্মীকে হত্যা করেছে। আমাদের নেতাকর্মীরা আত্মাহুতি দিয়েছেন। যে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের প্রতি সবসময় সহমর্মী-সহানুভূতিতে ছিল। তাদের প্রতি সহমর্মিতা থাকার কারণেই সরকারই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের সরকার এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ধৈর্য ধারণের জন্য আহ্বান জানাই। বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনে পরাজিত হয়ে শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে গতকাল সহিংসতা চালিয়েছে। আমরা সবাই এক অভিন্ন ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জীবন উৎসর্গ করে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবো। যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেত্রীর নির্দেশনায় বাস্তবায়ন করবো। অনুরোধ করবো আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
গায়েবানা জানাজায় চট্টগ্রাম মহানগর,উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, নগর ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্র ঘোষিত গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুলাই) বাদে জোহর কাজীর দেউরী নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাজায় ইমামতি করেন দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন জামে মসজিদে খতিব মাওলানা এহসানুল হক।
এতে নিহত শিক্ষার্থীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ নিরীহ মানুষ হত্যাকারী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সাড়া দেয়ার আহ্বান জানান।
জানাজায় শরিক হন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানসহ উত্তর জেলা, দক্ষিণ জেলা, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ওলামা দল, ছাত্রদলের নের্তৃবৃন্দ।
























