০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
চট্টগ্রামে কোটা আন্দোলন

গুলিবিদ্ধ হয়ে চমেক হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন তারা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরমান হোসেন ও মাদ্রাসা শিক্ষক মো. ওসমান। চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকার দারুত তারবিয়াত মাদ্রাসার শিক্ষক মো. ওসমান (৩৫) ১৮ জুলাই মাগরিবের নামাজ পড়তে মসজিদে যাচ্ছিলেন। ঐ সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মাঝখানে পড়েন তিনি। এতে একাধিক ছররা গুলি এসে তার পেটে-পিঠে বিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন। সে দিন থেকেই চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখনও গুলির ক্ষত শুকায়নি। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি সহ অনেকেই।
চমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ওসমানের মতো গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নয় জন। গুলি লেগেছে কারও পেটে, কারও পিঠে আবার কারও পায়ে। কারও লেগেছে দুটি গুলি, কারও লেগেছে তিনটি আবার কারও লেগেছে পাঁচ-ছয়টি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতার সময়ে আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে ৪০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন চোখের সমস্যায় ভুগছেন। ক্ষত কিছুটা শুকানোর পর তাদের চক্ষু বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসাধীন ওসমান দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ঘটনার দিন আমি মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাচ্ছিলাম। এ সময় পুলিশের তাড়া খেয়ে আন্দোলনকারীরা দৌড়াতে থাকে। আমি তখন ষোলশহরের শুলকবহর গলিতে ছিলাম। দৌঁড়ায়নি, কারণ আন্দোলনে আমি নেই। পাঞ্জাবি পরা ছিলাম। পুলিশ মাত্র ৫-৬ হাত দূর থেকে আমাকে গুলি করেছে। সব গুলি পিঠে এসে লেগেছে আমার। তিনি বলেন, আমি যদি কোনও অপরাধ করতাম তাহলে পুলিশ ধরে নিয়ে যেতো। আন্দোলনে সম্পৃক্ততা পেলে শাস্তি দিতো। এভাবে কোনও কারণ ছাড়া আমাকে পুলিশ কেন গুলি করলো, বুঝতে পারলাম না।
একই হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরমান হোসেন (১৭), মো. আকাশ (১৮) ও মো. রুবেল (২২), অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন ইয়াস শরীফ খান (১৭), মো. আবুল বাশার (২৮), মো. সুজন (১৪) ও নাজমুল হোসেন (২৪)। চক্ষু বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন আমিরুল ইসলাম আরিফ (২২) নামে এক শিক্ষার্থী। চিকিৎসাধীন মো. আকাশ জানান, নগরীর মুরাদপুরে একটি গ্যারেজে কাজ শিখছি আমি। হামজারবাগ এলাকার বাসা থেকে ১৬ জুলাই দুপুরে ভাত খেয়ে গ্যারেজে যাওয়ার পথে মুরাদপুরে গুলিবিদ্ধ হই। আমার পেটের ডান পাশে দুটি গুলি লেগেছে। ইতোমধ্যে দুবার অপারেশন হয়েছে। কবে নাগাদ সুস্থ হবো, তা জানাতে পারছেন না চিকিৎসকরা।
১৮ জুলাই নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয় ১৪ বছরের কিশোর মো. সুজন। তার বাঁ পায়ে গুলি লেগেছে। এতে হাড় ভেঙে গেছে। হাসপাতালে সুজনের পাশে বসে আছেন মা নুরুন্নাহার বেগম। তিনি বলেন, আমার চার ছেলেমেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুজন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় বলে লেখাপড়া করাতে পারিনি। কারখানায় কাজ করতে দিয়েছি। ঘটনার দিন দুপুরে চান্দগাঁও এলাকা থেকে ভাত খেতে বহদ্দারহাট খাজা রোডের বাসায় আসার সময় পায়ে গুলি লাগে। পায়ের এক্স-রে করিয়েছি। চিকিৎসকরা বলেছেন, পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আমার মতো গরিব মানুষ কীভাবে ছেলের চিকিৎসা খরচ বহন করবো বুঝতেছি না। ইতোমধ্যে ধারদেনা করে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে।’
অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন আবুল বাশার পেশায় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী। ১৮ জুলাই বহদ্দারহাট এলাকায় ভ্যানে করে আম বিক্রি করছিলেন। সংঘর্ষের সময় পা, বুক ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে ডান পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আবুল বাশারের স্ত্রী হাফসা বেগম বলেন, বহদ্দারহাটে সংঘর্ষ শুরু হলে দোকান গুছিয়ে বাসায় ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার পা, বুক ও মাথায় পাঁচটি গুলি লাগে। আমার স্বামী কোনও দলের রাজনীতি করে না। ভ্যানে করে মৌসুমী ফল বিক্রি করে। আমের মৌসুম শুরুর পর থেকে আম বিক্রি করছিল। তার আয়ে কোনোমতে আমাদের সংসার চলে। গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। চিকিৎসা খরচ নিয়ে বেকায়দায় আছি।
আন্দোলন দেখতে গিয়ে বাঁ পায়ে গুলি লেগেছে ইয়াস শরীফের। তারও পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। চক্ষু বিভাগে চিকিৎসাধীন আমিরুলল ইসলাম আরিফ কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্র। কক্সবাজারে সংঘর্ষে আহত হন। তার চোখে ছররা গুলি লেগেছে। এতে চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক জানিয়েছেন। চমেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সৌমেন বলেন, সংঘর্ষে আহত ৩০ জনের বেশি আমাদের বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। বেশিরভাগই ছাড়পত্র নিয়ে গেছেন। গুরুতর আহত কয়েকজন এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘কোটা আন্দোলনে সংঘর্ষে আহত দুইশ’র বেশি মানুষ এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের চার জনই ছিলেন গুলিবিদ্ধ।
গত ১৬ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। নগরীর মুরাদপুর এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু হলেও তা ছড়িয়ে পড়ে বহদ্দারহাট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত। পরদিন একই এলাকার কয়েক কিলোমিটারজুড়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একপক্ষ অপরপক্ষের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন অস্ত্রধারীকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ১৮ ও ১৯ জুলাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের আবারও সংঘর্ষ হয়। পুলিশকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এতে ছয় জনের মৃত্যু ও শিক্ষার্থীসহ দুই শতাধিক আহত হন। (ছবি আছে)

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে কোটা আন্দোলন

গুলিবিদ্ধ হয়ে চমেক হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন তারা

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুলাই ২০২৪

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরমান হোসেন ও মাদ্রাসা শিক্ষক মো. ওসমান। চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকার দারুত তারবিয়াত মাদ্রাসার শিক্ষক মো. ওসমান (৩৫) ১৮ জুলাই মাগরিবের নামাজ পড়তে মসজিদে যাচ্ছিলেন। ঐ সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মাঝখানে পড়েন তিনি। এতে একাধিক ছররা গুলি এসে তার পেটে-পিঠে বিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন। সে দিন থেকেই চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখনও গুলির ক্ষত শুকায়নি। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি সহ অনেকেই।
চমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ওসমানের মতো গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নয় জন। গুলি লেগেছে কারও পেটে, কারও পিঠে আবার কারও পায়ে। কারও লেগেছে দুটি গুলি, কারও লেগেছে তিনটি আবার কারও লেগেছে পাঁচ-ছয়টি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতার সময়ে আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে ৪০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন চোখের সমস্যায় ভুগছেন। ক্ষত কিছুটা শুকানোর পর তাদের চক্ষু বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসাধীন ওসমান দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ঘটনার দিন আমি মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাচ্ছিলাম। এ সময় পুলিশের তাড়া খেয়ে আন্দোলনকারীরা দৌড়াতে থাকে। আমি তখন ষোলশহরের শুলকবহর গলিতে ছিলাম। দৌঁড়ায়নি, কারণ আন্দোলনে আমি নেই। পাঞ্জাবি পরা ছিলাম। পুলিশ মাত্র ৫-৬ হাত দূর থেকে আমাকে গুলি করেছে। সব গুলি পিঠে এসে লেগেছে আমার। তিনি বলেন, আমি যদি কোনও অপরাধ করতাম তাহলে পুলিশ ধরে নিয়ে যেতো। আন্দোলনে সম্পৃক্ততা পেলে শাস্তি দিতো। এভাবে কোনও কারণ ছাড়া আমাকে পুলিশ কেন গুলি করলো, বুঝতে পারলাম না।
একই হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরমান হোসেন (১৭), মো. আকাশ (১৮) ও মো. রুবেল (২২), অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন ইয়াস শরীফ খান (১৭), মো. আবুল বাশার (২৮), মো. সুজন (১৪) ও নাজমুল হোসেন (২৪)। চক্ষু বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন আমিরুল ইসলাম আরিফ (২২) নামে এক শিক্ষার্থী। চিকিৎসাধীন মো. আকাশ জানান, নগরীর মুরাদপুরে একটি গ্যারেজে কাজ শিখছি আমি। হামজারবাগ এলাকার বাসা থেকে ১৬ জুলাই দুপুরে ভাত খেয়ে গ্যারেজে যাওয়ার পথে মুরাদপুরে গুলিবিদ্ধ হই। আমার পেটের ডান পাশে দুটি গুলি লেগেছে। ইতোমধ্যে দুবার অপারেশন হয়েছে। কবে নাগাদ সুস্থ হবো, তা জানাতে পারছেন না চিকিৎসকরা।
১৮ জুলাই নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয় ১৪ বছরের কিশোর মো. সুজন। তার বাঁ পায়ে গুলি লেগেছে। এতে হাড় ভেঙে গেছে। হাসপাতালে সুজনের পাশে বসে আছেন মা নুরুন্নাহার বেগম। তিনি বলেন, আমার চার ছেলেমেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুজন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় বলে লেখাপড়া করাতে পারিনি। কারখানায় কাজ করতে দিয়েছি। ঘটনার দিন দুপুরে চান্দগাঁও এলাকা থেকে ভাত খেতে বহদ্দারহাট খাজা রোডের বাসায় আসার সময় পায়ে গুলি লাগে। পায়ের এক্স-রে করিয়েছি। চিকিৎসকরা বলেছেন, পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আমার মতো গরিব মানুষ কীভাবে ছেলের চিকিৎসা খরচ বহন করবো বুঝতেছি না। ইতোমধ্যে ধারদেনা করে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে।’
অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন আবুল বাশার পেশায় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী। ১৮ জুলাই বহদ্দারহাট এলাকায় ভ্যানে করে আম বিক্রি করছিলেন। সংঘর্ষের সময় পা, বুক ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে ডান পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আবুল বাশারের স্ত্রী হাফসা বেগম বলেন, বহদ্দারহাটে সংঘর্ষ শুরু হলে দোকান গুছিয়ে বাসায় ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার পা, বুক ও মাথায় পাঁচটি গুলি লাগে। আমার স্বামী কোনও দলের রাজনীতি করে না। ভ্যানে করে মৌসুমী ফল বিক্রি করে। আমের মৌসুম শুরুর পর থেকে আম বিক্রি করছিল। তার আয়ে কোনোমতে আমাদের সংসার চলে। গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। চিকিৎসা খরচ নিয়ে বেকায়দায় আছি।
আন্দোলন দেখতে গিয়ে বাঁ পায়ে গুলি লেগেছে ইয়াস শরীফের। তারও পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। চক্ষু বিভাগে চিকিৎসাধীন আমিরুলল ইসলাম আরিফ কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্র। কক্সবাজারে সংঘর্ষে আহত হন। তার চোখে ছররা গুলি লেগেছে। এতে চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক জানিয়েছেন। চমেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সৌমেন বলেন, সংঘর্ষে আহত ৩০ জনের বেশি আমাদের বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। বেশিরভাগই ছাড়পত্র নিয়ে গেছেন। গুরুতর আহত কয়েকজন এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘কোটা আন্দোলনে সংঘর্ষে আহত দুইশ’র বেশি মানুষ এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের চার জনই ছিলেন গুলিবিদ্ধ।
গত ১৬ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। নগরীর মুরাদপুর এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু হলেও তা ছড়িয়ে পড়ে বহদ্দারহাট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত। পরদিন একই এলাকার কয়েক কিলোমিটারজুড়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একপক্ষ অপরপক্ষের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন অস্ত্রধারীকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ১৮ ও ১৯ জুলাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের আবারও সংঘর্ষ হয়। পুলিশকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এতে ছয় জনের মৃত্যু ও শিক্ষার্থীসহ দুই শতাধিক আহত হন। (ছবি আছে)