কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের নিহত আবু সাঈদের করব জিয়ারত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কোটা সংস্কার আন্দোলনে শহীদ রংপুরের আবু সাঈদের করব জিয়ারত ও তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করারর জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ ১০ আগস্ট শনিবার সকাল পৌনে ১১টায় হেলিকপ্টারে করে পীরগঞ্জে অবস্থিত রংপুর মেরিন একাডেমিতে পৌঁছান। সেখান থেকে তিন কিলোমিটার সড়কপথ পাড়ি দিয়ে সকাল ১১টার দিকে তিনি আবু সাঈদের বাড়ি বাবনপুর জাফরপাড়া গ্রামে যান। তারপর আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর আবু সাঈদের পরিবারে সঙ্গে কথা বলেন। এসময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন আবু সাঈদ এক পরিবারের সন্তান নয়, আবু সাঈদ এখন ঘরে ঘরে। নিহত আবু সাঈদসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব সবার। এজন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এসময় প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মা ইউনূস এর সাথে ছিলেন আরও দুই উপদেষ্টা। তারা হলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুর মেড্যিাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত রোগীদের দেখতে যাবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর পীরগঞ্জে আগমন উপলক্ষ্যে পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে। সড়কে, মোড়ে, মাঠে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা কঠোর পাহারায় রয়েছেন। পুরো এলাকায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করা হয়। তিনি ৮ আগস্ট শপথগ্রহণের পর শনিবার কোটা সংস্কার আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে আসেন। আবু সাঈদ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। গত ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড়ে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে প্রকাশ্যে পুলিশ গুলি করে আবু সাঈদকে হত্যা করা হয়। ১৭ জুলাই বাবনপুরে গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।

























