১২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
চট্টগ্রামে কোটা আন্দোলন

চমেক হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন বুলেটবিদ্ধরা

মোঃ মোমিনুল ইসলাম। বয়স মাত্র ১৩। সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো কোমরের নিচের অংশের দু’পা। হাতে লাগানো স্যালাইন। যে বয়সে খেলাধুলা করার কথা, সেই শিশুই ছটফট করছে হাসপাতালের শয্যায়। মাথার পাশে বসে সন্তানের যন্ত্রণা ভুলানোর চেষ্টায় গর্ভধারিণী মা। কিন্তু বুলেটের ক্ষতের যন্ত্রণা মোমিনুল আর সইতে পারছে না। চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়েলিটি ওয়ার্ডের শয্যায় ছটফট করা শিশু মোমিনুল ইসলামের মা মোহসেনা বেগম জানান, তাদের বাসা নগরীর মনছুরাবাদ ঈদগাঁ এলাকায়। গত ৫ আগস্ট রাতে উৎসুক জনতার মিছিল-উল্লাস দেখতে বাসা থেকে বের হয় মোমিনুল। ওই সময় মনছুরাবাদ পুলিশ লাইন্সে হামলাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয় মোমিনুল। তার দু’পায়ে একাধিক বুলেটের আঘাত যন্ত্রণায় ছটফট করছে। যা খুবই কষ্টদায়ক। মা হিসেবে এ কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছে না। কিন্তু কি করব, চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই করার নেই। অসহায় গরীব তাই উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়।

পাশের আরেক বেডে শুয়ে আছে সুলতান মাহমুদ রাকিব (২০) নামে একজন। রাকিব কোতোয়ালীর সোবহানীয়া আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বুকে, ফুসফুসে, পেটে, পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। মারাত্মক গুলিবিদ্ধ হওয়ায় অস্ত্রোপচারও হয়েছে। তবে বুলেট বের হয়নি পুরোপুরি। শয্যার পাশে বসে থাকা রাকিবের ফুফাতো ভাই মোহাম্মদ করিম বলেন, এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয় নি রাকিব। তার শরীরের ভেতরে বুলেট রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। এই মুহূর্তে তার উন্নত চিকিৎসার খুবই প্রয়োজন।

খবর নিয়ে জানা গেছে, কোটা আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ ও সরকার পতন পরবর্তী সহিংসতায় শিশু মোমিনুল ও তরুণ রাকিবের মতো চমেক হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৩ জন শিক্ষার্থী-জনতা। যাদের সিংহভাগই গুলিবিদ্ধ। এদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। ভর্তি থাকাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তারা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন জানান, গুলিবিদ্ধসহ ভর্তি আহতদের চিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ওষুধ থেকে শুরু করে যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও সরকারিভাবে প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে সব ধরনের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পাওয়া গেলেও উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন আহতদের পরিবার। গতকাল চমেক হাসপাতালে ভর্তি থাকা আহত পরিবারের একাধিক সদস্যদের সঙ্গে প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তারা এ দাবি জানান।

 

 

 

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে আল হাবিব ইন্টা.ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঝে বই বিতরণ

চট্টগ্রামে কোটা আন্দোলন

চমেক হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন বুলেটবিদ্ধরা

আপডেট সময় : ০৪:২৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০২৪

মোঃ মোমিনুল ইসলাম। বয়স মাত্র ১৩। সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো কোমরের নিচের অংশের দু’পা। হাতে লাগানো স্যালাইন। যে বয়সে খেলাধুলা করার কথা, সেই শিশুই ছটফট করছে হাসপাতালের শয্যায়। মাথার পাশে বসে সন্তানের যন্ত্রণা ভুলানোর চেষ্টায় গর্ভধারিণী মা। কিন্তু বুলেটের ক্ষতের যন্ত্রণা মোমিনুল আর সইতে পারছে না। চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়েলিটি ওয়ার্ডের শয্যায় ছটফট করা শিশু মোমিনুল ইসলামের মা মোহসেনা বেগম জানান, তাদের বাসা নগরীর মনছুরাবাদ ঈদগাঁ এলাকায়। গত ৫ আগস্ট রাতে উৎসুক জনতার মিছিল-উল্লাস দেখতে বাসা থেকে বের হয় মোমিনুল। ওই সময় মনছুরাবাদ পুলিশ লাইন্সে হামলাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয় মোমিনুল। তার দু’পায়ে একাধিক বুলেটের আঘাত যন্ত্রণায় ছটফট করছে। যা খুবই কষ্টদায়ক। মা হিসেবে এ কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছে না। কিন্তু কি করব, চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই করার নেই। অসহায় গরীব তাই উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়।

পাশের আরেক বেডে শুয়ে আছে সুলতান মাহমুদ রাকিব (২০) নামে একজন। রাকিব কোতোয়ালীর সোবহানীয়া আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বুকে, ফুসফুসে, পেটে, পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। মারাত্মক গুলিবিদ্ধ হওয়ায় অস্ত্রোপচারও হয়েছে। তবে বুলেট বের হয়নি পুরোপুরি। শয্যার পাশে বসে থাকা রাকিবের ফুফাতো ভাই মোহাম্মদ করিম বলেন, এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয় নি রাকিব। তার শরীরের ভেতরে বুলেট রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। এই মুহূর্তে তার উন্নত চিকিৎসার খুবই প্রয়োজন।

খবর নিয়ে জানা গেছে, কোটা আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ ও সরকার পতন পরবর্তী সহিংসতায় শিশু মোমিনুল ও তরুণ রাকিবের মতো চমেক হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৩ জন শিক্ষার্থী-জনতা। যাদের সিংহভাগই গুলিবিদ্ধ। এদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। ভর্তি থাকাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তারা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন জানান, গুলিবিদ্ধসহ ভর্তি আহতদের চিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ওষুধ থেকে শুরু করে যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও সরকারিভাবে প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে সব ধরনের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পাওয়া গেলেও উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন আহতদের পরিবার। গতকাল চমেক হাসপাতালে ভর্তি থাকা আহত পরিবারের একাধিক সদস্যদের সঙ্গে প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তারা এ দাবি জানান।