যশোরের শার্শা উপজেলায় আফিল জুট এন্ড উইভিং মিলস্ লিমিটেডে হামলা চালিয়ে ব্যাপক মাত্রার ক্ষয়-ক্ষতি করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল সন্ত্রাসী জুট মিলের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। হামলায় মিলটির মেশিনারিজসহ অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে মিলটি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ায় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
হামলাকারীদের একদল এদিন প্রথমে মিলের প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে প্রধান ফটক খুলে দেয়। এরপর বাকিরা সাঠিসোটা ও অস্ত্র নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে মিলের অভ্যন্তরে থাকা মসজিদ, মেশিনারিজ ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়।
মিলটিতে কর্মরত ৭ হাজার কর্মীর পরিবারের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের অন্ন,বস্ত্র ও চিকিৎসাসহ সবকিছুর সংস্থান প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রাপ্ত মজুরির ওপর নির্ভরশীল। ফলে হামলায় মেশিনারিজসহ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও নিরাপত্তার অভাবে মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মিলের এক নারী শ্রমিক সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রতিষ্ঠান হামলা চালিয়ে আমাদের অন্ন-সংস্থান বন্ধ করে দিয়ে পেটে লাথি মারা হলো। পরিবার পরিজন নিয়ে আমার এখন কীভাবে দিনাতিপাত করবো। আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে এবার।
যশোর-১ (শার্শা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন এলাকার অসহায় প্রতিবন্ধী ও নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থানের জন্য শার্শা বাজারের পশ্চিমে ও যশোর-কোলকাতা সড়কের দক্ষিণ পাশে আফিল জুট এন্ড উইভিং মিলস লিমিটেড নামে একটি আধুনিকমানের জুট মিল স্থাপন করেন। এতে প্রায় ৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে দলমত সবাই কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন।
এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে অর্জিত আয় থেকে টাকা জমিয়ে এখানকার কর্মীরা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গরু, ছাগল ও মুরগির খামার গড়ে তুলে জীবনমানের পরিবর্তন করেছেন। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে শিক্ষিত করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অনেকের ছেলেমেয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। কিন্তু হামলা ও ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ায় ৭ হাজার পরিবারের মানুষের মুখে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ জমেছে।
আফিল জুট এন্ড ইউভিং মিলস লিমিটেডের অ্যাডমিন তোফায়েল আহমেদ জানান, দুস্কৃতিকারীরা মিলের ভেতর প্রবেশ করে মসজিদসহ এমডির কক্ষ ও কয়েকটি স্থাপনা ভাঙচুর করেছে। সবাই আতঙ্কে থাকায় এখনই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। এটি পরে জানা যাবে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান বলেন, সকাল ৯টার দিকে দুর্বৃত্তদের একটি দল আফিল জুট এন্ড উইভিং মিলস লিমিটেডে হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা পুলিশের একদল সদস্য নিয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কেউ মামলা করতে আসেনি। তবে জুটমিল কর্তৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানতে পেরেছি।
























