০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নওগাঁ রাণীনগরে নিজ বাড়িতেই মেয়েসহ অবরুদ্ধ গৃহবধূ মুসলেহা

 নওগাঁর রাণীনগরে নিজের বাড়িতেই অবরুদ্ধ অবস্থায় বসবাস করছেন গৃহবধূ মুসলেহা খাতুন ও তার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে মানজুরা মাহী। তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর হুমকি-ধামকীতে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এই পরিবার। বর্তমানে রেজাউলের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে বাহিরে স্বাভাবিক চলাচল করতে পারছে না পরিবারটি। দ্রুতই সুষ্ঠ তদন্তের ভিত্তিতে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সমাধান প্রত্যাশা করছে ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার মাস্টারপাড়ায় বসবাসরত আবুল কাশেমের মেয়ে গৃহবধূ মুসলেহা খাতুন জানান গত ২০০৬ সালে প্রেমের ফাঁদে ফেলে উপজেলার মধ্যরাজাপুর গ্রামের মৃত-লুৎফর রহমানের ছেলে সেনাবাহিনীর সদস্য (সাবেক) রেজাউল করিম জুয়েলের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামীর চাহিদা পূরণের চেস্টা করে আসছিলো মুসলেহা। সাংসারিক জীবনে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে তেমন একটা বোঝাপোড়া ছিলো না। এর মধ্যেই তাদের ঘরে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়।
দীর্ঘ সময় পার হলেও পারিবারিক কলহের শেষ হয় না। দিন যতই যায় স্বামীর কাছ থেকে নানা ভাবে মানসিক নির্যাতন ও অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধি পেতেই থাকে। গত কয়েক বছর সেই মাত্রাকে আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয় তার নামে থাকা ৪শতাংশ জমি ও বাড়ি। ২শতাংশ জমি আবার রেজাউলের সহকর্মী এক্স আর্মি মোমেনুল হকের কাছে বিক্রি করে রেজাউল। এছাড়া লোকমুখে জানা যায় যে রেজাউল গোপনে আরেকটি বিয়ে করেছে। এমন নির্যাতন ও অত্যাচার থেকে মুক্ত হতেই গত এপ্রিল মাসের ২৫তারিখে রেজাউলকে তালাক প্রদান করেছে মুসলেহা। এরপর থেকে রেজাউল মুসলেহার নামে থাকা বাড়ি ও জমি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পায়তারা শুরু করে। এমন অবস্থা থেকে রেহাই পেতে গত জুন মাসের ১৩তারিখে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। এছাড়া রেজাউল মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে জমি ও বাড়ির উপর একটি মামলাও দায়ের করেছে। পরবর্তিতে গত ৫আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তাদের উপর রেজাউলের অত্যাচার ও নির্যাতন বৃদ্ধি পেতে থাকে।
তিনি আরো বলেন গত ২০আগস্ট দুপুরে রেজাউল কৌশল করে তাকে সেনাবাহিনী ক্যাম্পে ডেকে নেয় এবং সেই সুযোগে সন্ত্রাসীদের নিয়ে রেজাউল অন্যায় ভাবে বাসার তালা ভেঙ্গে ৭৫হাজার টাকা ও ৩ভরি সোনাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। একই কায়দায় ২১আগস্ট আবারো বাসায় হামলা করে তাদের বের করে দিয়ে বাসা দখলের চেস্টা করে। এমন অবস্থা দেখে মেয়ে মানজুরা মানসিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে আবারো রেজাউল জোরপূর্বক জমি ও বাসা লিখে নেওয়ার জন্য একই কায়দায় হামলা করলে তৎকালীন সময়ে পুলিশের সহযোগিতা না পেলেও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পায় তারা। বর্তমানে এই পরিবার রেজাউলের বিভিন্ন হুমকি-ধামকীতে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে রেজাউলের দৃষ্টান্তর মূলক শাস্তি চায় গৃহবধূ মুসলেহা ও তার পরিবার।
গৃহবধূ মুসলেহার মেয়ে মানজুরা মাহী বলে আমাদের প্রতি বাবার বছরের পর বছর উদাসীনতার কারণে আমরা অতিষ্ঠ। বিশেষ করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে আমি চরম ভাবে মর্মাহত। একটি মেয়ে তার বাবার কাছে নিরাপদ নয় এমনটি ভাবলেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে ইচ্ছে করে। আমি এই রকম বাবার মৃত্যুদন্ড শাস্তি কামনা করছি।
অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম বলেন আমার বিরুদ্ধে তোলা আমার স্ত্রীর অধিকাংশ অভিযোগই মিথ্যে ও বানোয়াট। বর্তমানে মুসলেহা একটি কুচক্রী তৃতীয় পক্ষের দ্বারা ভুল ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সাংসারিক জীবনে কলহ থাকবে কিন্তু তার মানে এই নয় যে ছাড়াছাড়িই তার একমাত্র সমাধান। আমিও আমার স্ত্রীর দ্বারা মানসিক ভাবে অনেক নির্যাতিত হয়েছি। তবুও আমি তাদের কাছে ফিরে গেছি। কিন্তু বর্তমানে একটি চক্র মুসলেহাকে ট্যাপে ফেলে ওই বাসা ও জমি বিক্রি করার পায়তারা করছে। অনেক কষ্ট করে আমি ওই বাসা করেছি। ওই বাসা ও জমি বিক্রি হলে মুসলেহা ও আমার মেয়ে পথে বসবে। তাই আমি বার বার চেষ্টা করেছি এমন পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিতে। কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে ভুল বুঝে স্বামী তালাক করেছে। যেহেতু বিষয়টি আইনী প্রক্রিয়ায় চলে গেছে সেহেতু আমিও বিষয়টি আইনগত ভাবেই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধান কামনা করছি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান বলেন সম্প্রতি এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে আদালতে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না পর্যন্ত শান্ত থাকার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছি। এর মধ্যে যদি রেজাউল হুমকি-ধামকী প্রদান করে থাকেন তাহলে সেটি ফৌজদারী বিষয়। সেই বিষয়ে গৃহবধূ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁ রাণীনগরে নিজ বাড়িতেই মেয়েসহ অবরুদ্ধ গৃহবধূ মুসলেহা

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
 নওগাঁর রাণীনগরে নিজের বাড়িতেই অবরুদ্ধ অবস্থায় বসবাস করছেন গৃহবধূ মুসলেহা খাতুন ও তার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে মানজুরা মাহী। তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর হুমকি-ধামকীতে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এই পরিবার। বর্তমানে রেজাউলের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে বাহিরে স্বাভাবিক চলাচল করতে পারছে না পরিবারটি। দ্রুতই সুষ্ঠ তদন্তের ভিত্তিতে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সমাধান প্রত্যাশা করছে ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার মাস্টারপাড়ায় বসবাসরত আবুল কাশেমের মেয়ে গৃহবধূ মুসলেহা খাতুন জানান গত ২০০৬ সালে প্রেমের ফাঁদে ফেলে উপজেলার মধ্যরাজাপুর গ্রামের মৃত-লুৎফর রহমানের ছেলে সেনাবাহিনীর সদস্য (সাবেক) রেজাউল করিম জুয়েলের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামীর চাহিদা পূরণের চেস্টা করে আসছিলো মুসলেহা। সাংসারিক জীবনে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে তেমন একটা বোঝাপোড়া ছিলো না। এর মধ্যেই তাদের ঘরে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়।
দীর্ঘ সময় পার হলেও পারিবারিক কলহের শেষ হয় না। দিন যতই যায় স্বামীর কাছ থেকে নানা ভাবে মানসিক নির্যাতন ও অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধি পেতেই থাকে। গত কয়েক বছর সেই মাত্রাকে আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয় তার নামে থাকা ৪শতাংশ জমি ও বাড়ি। ২শতাংশ জমি আবার রেজাউলের সহকর্মী এক্স আর্মি মোমেনুল হকের কাছে বিক্রি করে রেজাউল। এছাড়া লোকমুখে জানা যায় যে রেজাউল গোপনে আরেকটি বিয়ে করেছে। এমন নির্যাতন ও অত্যাচার থেকে মুক্ত হতেই গত এপ্রিল মাসের ২৫তারিখে রেজাউলকে তালাক প্রদান করেছে মুসলেহা। এরপর থেকে রেজাউল মুসলেহার নামে থাকা বাড়ি ও জমি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পায়তারা শুরু করে। এমন অবস্থা থেকে রেহাই পেতে গত জুন মাসের ১৩তারিখে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। এছাড়া রেজাউল মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে জমি ও বাড়ির উপর একটি মামলাও দায়ের করেছে। পরবর্তিতে গত ৫আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তাদের উপর রেজাউলের অত্যাচার ও নির্যাতন বৃদ্ধি পেতে থাকে।
তিনি আরো বলেন গত ২০আগস্ট দুপুরে রেজাউল কৌশল করে তাকে সেনাবাহিনী ক্যাম্পে ডেকে নেয় এবং সেই সুযোগে সন্ত্রাসীদের নিয়ে রেজাউল অন্যায় ভাবে বাসার তালা ভেঙ্গে ৭৫হাজার টাকা ও ৩ভরি সোনাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। একই কায়দায় ২১আগস্ট আবারো বাসায় হামলা করে তাদের বের করে দিয়ে বাসা দখলের চেস্টা করে। এমন অবস্থা দেখে মেয়ে মানজুরা মানসিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে আবারো রেজাউল জোরপূর্বক জমি ও বাসা লিখে নেওয়ার জন্য একই কায়দায় হামলা করলে তৎকালীন সময়ে পুলিশের সহযোগিতা না পেলেও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পায় তারা। বর্তমানে এই পরিবার রেজাউলের বিভিন্ন হুমকি-ধামকীতে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে রেজাউলের দৃষ্টান্তর মূলক শাস্তি চায় গৃহবধূ মুসলেহা ও তার পরিবার।
গৃহবধূ মুসলেহার মেয়ে মানজুরা মাহী বলে আমাদের প্রতি বাবার বছরের পর বছর উদাসীনতার কারণে আমরা অতিষ্ঠ। বিশেষ করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে আমি চরম ভাবে মর্মাহত। একটি মেয়ে তার বাবার কাছে নিরাপদ নয় এমনটি ভাবলেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে ইচ্ছে করে। আমি এই রকম বাবার মৃত্যুদন্ড শাস্তি কামনা করছি।
অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম বলেন আমার বিরুদ্ধে তোলা আমার স্ত্রীর অধিকাংশ অভিযোগই মিথ্যে ও বানোয়াট। বর্তমানে মুসলেহা একটি কুচক্রী তৃতীয় পক্ষের দ্বারা ভুল ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সাংসারিক জীবনে কলহ থাকবে কিন্তু তার মানে এই নয় যে ছাড়াছাড়িই তার একমাত্র সমাধান। আমিও আমার স্ত্রীর দ্বারা মানসিক ভাবে অনেক নির্যাতিত হয়েছি। তবুও আমি তাদের কাছে ফিরে গেছি। কিন্তু বর্তমানে একটি চক্র মুসলেহাকে ট্যাপে ফেলে ওই বাসা ও জমি বিক্রি করার পায়তারা করছে। অনেক কষ্ট করে আমি ওই বাসা করেছি। ওই বাসা ও জমি বিক্রি হলে মুসলেহা ও আমার মেয়ে পথে বসবে। তাই আমি বার বার চেষ্টা করেছি এমন পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিতে। কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে ভুল বুঝে স্বামী তালাক করেছে। যেহেতু বিষয়টি আইনী প্রক্রিয়ায় চলে গেছে সেহেতু আমিও বিষয়টি আইনগত ভাবেই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধান কামনা করছি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান বলেন সম্প্রতি এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে আদালতে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না পর্যন্ত শান্ত থাকার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছি। এর মধ্যে যদি রেজাউল হুমকি-ধামকী প্রদান করে থাকেন তাহলে সেটি ফৌজদারী বিষয়। সেই বিষয়ে গৃহবধূ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।