চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের(চবি) ইংরেজি বিভাগের নানা জটিলতা, সেশন জট, শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে মুক্ত হতে ৭ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) নতুন কলা অনুষদের সামনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে তারা বিভাগের সভাপতি বরাবর বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে একটি চিঠি দেয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান যাকীয়াহ তাসনীম আমাদের রেজাল্ট খারাপ করেছে। ১৮-আগস্ট অফিসিয়াল রেজাল্ট প্রকাশিত হওয়ার পর দেখি আমাদের ৩৩ জন শিক্ষার্থী ফেইল, ১৭ জন ফাস্ট ক্লাস বাকি সকলের রেজাল্ট সেকেন্ড ক্লাস। কিন্তু আমাদের এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। আমরা অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী কর্তৃপক্ষকে সকল বিষয় লিখিত ও মৌখিক ভাবে বিষয়টি জানায়।
তারা আরও বলেন, এ রেজাল্ট গত ৫ বছরে আমাদের ডিপার্টমেন্টের রেজাল্টের সাথে কোন পরিসংখ্যানে মিলেনা। আমাদের ডিপার্টমেন্টের স্যার ম্যাডামরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়, ওখানে ৩.৫০ থেকে ৩.৮০ পর্যন্ত রেজাল্ট নিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে। এছাড়াও দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের রেজাল্ট হয় ৪.০০, ৩.৫০, ৩.৮০ বা নূন্যতম ৩ নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে। শুধু মাত্র আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেশন জ্যাম ও এমন রেজাল্ট নিয়ে বাংলাদেশের স্বনামধন্য কোন প্রতিষ্টান বিশেষ করে ব্যাংকের ফরমও সংগ্রহ করার যোগ্যতা রাখেনা। তাহলে আমরা কি এটাই ধরে নিবো যে, শুধু আমরা ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরাই মেধাহীন? আমরা এ হয়রানি থেকে মুক্তিচাই।
এসময় তারা ৭ দফা দাবি পেশ করে। দাবিগুলো হলো –
বর্তমান পরীক্ষা কমিটি বাতিল করে নতুন পরীক্ষা কমিটির মাধ্যমে মাস্টার্সের রেজাল্ট পূনর্মূল্যায়ন করা এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে রেজাল্ট মেনিপুলেশনের অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অপ্রত্যাশিত কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশে অকৃতকার্য এর বিষয়টি অধিক গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় আনতে হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাথে সামঞ্জস্য রেখে খাতা মূল্যায়ন করতে হবে।
সেশনজট মুক্ত বিভাগ করতে হবে। এবং কিভাবে সেশনজট মুক্ত করা হবে তার একটা রোডম্যাপ বা প্ল্যান বর্তমান চেয়ারম্যান কর্তৃক সবার সামনে উপস্থাপন করতে হবে। যেখানে বিভাগের সব শিক্ষকের সিগনেচার থাকা লাগবে। এবং এই সেশনজটে ভুক্তভোগী সকল শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
প্রতি ব্যাচের পরীক্ষা শেষে দুই মাসের মধ্যে রেজাল্ট পাবলিশ করতে হবে। এবং পরবর্তী ব্যাচের ক্লাস ১৫দিনের মধ্যে অবশ্যই শুরু করতে হবে। আর যেসকল ব্যাচ এখনো পুরোনো সিস্টেমে পরীক্ষা দিচ্ছে তারা যেন বৈষম্যের শিকার না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং হয়রানি করার অভিযোগে অফিস সহায়ক আবু মঞ্জুর চৌধুরীকে ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মবহির্ভূত ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক কোন জরিমানা কিংবা অন্য টাকা (যেটা চেয়ারম্যান ফান্ড হিসেবে পরিচিত) আদায় করা যাবেনা।
থিসিস যারা নিয়েছে তাদের সবার রেজাল্ট রেগুলার ব্যাচের সাথে পাবলিশ করতে হবে। বছরের পর বছর রেজাল্ট আটকে রাখা যাবেনা।
এ ঘটনায় আজ রোববার দুপুরে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান, ২ জন ডিন ও শিক্ষকগণ মিটিং এ বসেন। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এবং আগের পরীক্ষা কমিটি বাতিল করে নতুন করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও অফিস সহায়ক আবু মঞ্জুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগে তাকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহ এ নূর কুদসী ইসলাম।


























