কক্সবাজার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের সকল শিক্ষকদের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদত্যাগে বাধ্য করলেন শিক্ষার্থীরা, ৫ শিক্ষিকার পদত্যাগে শিক্ষক শূন্য হয়ে পড়েছে কলেজটি।
গত ১ সেপ্টেম্বর, কক্সবাজার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ফ্যাকাল্টির পুরো কমিটির পদত্যাগ চেয়ে একদফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবি না মেনে উল্টো নারী শিক্ষার্থীদের উপর ছেলে শিক্ষার্থীরা অতর্কিত হামলা করেছে এমন অভিযোগ এনে প্রায় ৮ ঘন্টা আটকে রাখে ৫ শিক্ষিকা এবং ১১ ছাত্রকে। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের দুই আবাসিক মেডিকেল অফিসার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, র্যাব এসে প্রায় তিন ঘন্টা বৈঠক শেষে সকল শিক্ষক এক যোগে পদত্যাগ করে। একারণে শিক্ষক শূন্য হয়ে গেলো কলেজটি।
২ সেপ্টেম্বর, সোমবার দুপুরের সরজমিনে দেখা যায় সংকটের মুখে পড়েছে কলেজের ২৯৩ জন শিক্ষার্থী। পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কোন শিক্ষকই নেই। দাবী আদায় করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন এখন অনিশ্চিতার মুখে।শিক্ষকদের পদত্যাগের পর কক্সবাজার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের ক্লাসরুমগুলো ফাঁকা পড়ে আছে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে কলেজটি দীর্ঘদিন যদি শিক্ষক শূন্যতায় পড়ে তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে প্রতিষ্ঠানটি। তাই দ্রুত ক্লাসরুমে ফিরতে চায় শিক্ষার্থীরা।
পুরো বিষয়টিতে আলোচনার জন্য সমন্বয় করেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের দুই আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জিআরএম জিহাদুল ইসলাম এবং ডা. আশিকুর রহমান।
জিহাদুল ইসলাম বলেন, কয়েক ঘন্টা বৈঠকে বারবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি শিক্ষকরা মেনে নিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী পদত্যাগ করেছে সকল শিক্ষক। এখন কলেজটি শিক্ষক শূন্য হয়ে গেছে। কিভাবে এই সংকট দূর করা যাবে সেটি ডিজিএমএন দেখবে।
এদিকে দাবি মেনে নেওয়ায় সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলন সমন্বয়কারী উর্মী আক্তার বলেন, আমরা দূর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবি জানিয়েছিলাম। যেহেতু দূর্নীতিতে পুরো ফ্যাকাল্টি জড়িত ছিল তাদের পদত্যাগ আমরা চেয়েছি। আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে এতে আমরা সন্তুষ্ট কিন্তু আমাদের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি।
শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার বলেন, যেহেতু সকল শিক্ষক যখন পদত্যাগ করেছেন। সেহেতু শিক্ষক শূন্য হয়ে গেলো কলেজ। কর্তৃপক্ষ দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেবে আশাবাদী। কলেজের স্থিতিশীল অবস্থায় বজায় রাখুক। পড়ালেখার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসুক। বর্তমানে কোন শিক্ষক না থাকে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কর্তৃপক্ষ আমাদের দ্রুত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।






















