০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একদিনে পাহাড় ধসে নিহত ৬ রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি কক্সবাজারে : নাকাল জনজীবন, ভোগান্তিতে পর্যটক 

Oplus_131072

কক্সবাজারে অতি বৃষ্টিতে জনজীবন নাকাল, ভোগান্তিতে পর্যটকরা
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারে টানা দুইদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি উঠেছে বিভিন্ন হোটেল মোটেল থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতে। শহরের প্রধান সড়কে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমেছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। পাহাড়ধসে একদিনেই মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।
শুক্রবার ভোররাত তিনটার দিকে ঝিলংজা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডিক্কুল এলাকায় অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ধসে মৃত্যু হয়েছে একই পরিবারের তিনজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুল করিম সিকদার।
নিহতরা হলেন ঝিলংজা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডিক্কুল এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী আঁখি মনি (২৫) ও তার দুই সন্তান ময়না (৫) মায়া (২)। অপরদিকে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে আরো তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-২ ব্লকের কবির আহমেদের ছেলে আব্দুর রহিম, আব্দুল হাফেজ এবং আব্দুল ওয়াহেদ।
কক্সবাজার ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কমিশন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ দৌজা নয়ন জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণে উখিয়া ১৪ নম্বর হাকিম পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় দসে তিনটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকেরা বিধ্বস্ত ঘর বাড়িতে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ২৪ ঘন্টায় ( গতকাল সকাল ০৬ টা থেকে আজ সকাল ০৯ টা পর্যন্ত)  মোট বৃষ্টিপাতের পরিমান ৪০১ মিমি রেকর্ড করা হয়ছে। চলমান মৌসুমে এটি একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড।
আজ দুপুর পযন্ত ৫০১ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোঃ আব্দুল হান্নান।
বৃষ্টির কারণে সমুদ্র উত্তাল। বৈরি আবহাওয়ার কারনে বন্ধ রয়েছে কক্সবাজার মহেশখালী যাতায়াতের খেয়াঘাট। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যবসা বাণিজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভোগান্তিতে পড়ে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী বাসি।
সরজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া, পেশকার পাড়া, বাজারঘাটা, কুতুবদিয়া পাড়া সহ নির্মলাঞ্চলে কোমর সমান পানিতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ।
কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টের হোটেল মোটেল ও প্রতিটি অলি-গলিসহ মূল সড়কেও হাঁটু পরিমাণ পানি জমেছে। সড়কে চলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, কারসহ কিছু যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে আছে। এর ফলে অনেক রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
টেক পাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক নেতা আজিজ রাসেল বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই আমাদে ঘরবাড়ি ডুবে যায়। মূলত জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণ পৌর কর্তৃপক্ষের গাফেলতি। অপরিকল্পিত উন্নয়ন। পরিকল্পিত ড্রেনেস ব্যবস্থা না থাকায় এমনটি হয়।
পর্যটক উদ্দোক্তা আনোয়ার কামাল বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে যায়। মূলত পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ড্রেন না থাকায়। এতে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা সকল পর্যটক স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
জনপ্রিয় সংবাদ

একদিনে পাহাড় ধসে নিহত ৬ রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি কক্সবাজারে : নাকাল জনজীবন, ভোগান্তিতে পর্যটক 

আপডেট সময় : ০৮:২৩:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
কক্সবাজারে অতি বৃষ্টিতে জনজীবন নাকাল, ভোগান্তিতে পর্যটকরা
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারে টানা দুইদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি উঠেছে বিভিন্ন হোটেল মোটেল থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতে। শহরের প্রধান সড়কে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমেছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। পাহাড়ধসে একদিনেই মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।
শুক্রবার ভোররাত তিনটার দিকে ঝিলংজা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডিক্কুল এলাকায় অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ধসে মৃত্যু হয়েছে একই পরিবারের তিনজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুল করিম সিকদার।
নিহতরা হলেন ঝিলংজা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডিক্কুল এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী আঁখি মনি (২৫) ও তার দুই সন্তান ময়না (৫) মায়া (২)। অপরদিকে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে আরো তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-২ ব্লকের কবির আহমেদের ছেলে আব্দুর রহিম, আব্দুল হাফেজ এবং আব্দুল ওয়াহেদ।
কক্সবাজার ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কমিশন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ দৌজা নয়ন জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণে উখিয়া ১৪ নম্বর হাকিম পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় দসে তিনটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকেরা বিধ্বস্ত ঘর বাড়িতে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ২৪ ঘন্টায় ( গতকাল সকাল ০৬ টা থেকে আজ সকাল ০৯ টা পর্যন্ত)  মোট বৃষ্টিপাতের পরিমান ৪০১ মিমি রেকর্ড করা হয়ছে। চলমান মৌসুমে এটি একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড।
আজ দুপুর পযন্ত ৫০১ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোঃ আব্দুল হান্নান।
বৃষ্টির কারণে সমুদ্র উত্তাল। বৈরি আবহাওয়ার কারনে বন্ধ রয়েছে কক্সবাজার মহেশখালী যাতায়াতের খেয়াঘাট। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যবসা বাণিজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভোগান্তিতে পড়ে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী বাসি।
সরজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া, পেশকার পাড়া, বাজারঘাটা, কুতুবদিয়া পাড়া সহ নির্মলাঞ্চলে কোমর সমান পানিতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ।
কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টের হোটেল মোটেল ও প্রতিটি অলি-গলিসহ মূল সড়কেও হাঁটু পরিমাণ পানি জমেছে। সড়কে চলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, কারসহ কিছু যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে আছে। এর ফলে অনেক রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
টেক পাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক নেতা আজিজ রাসেল বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই আমাদে ঘরবাড়ি ডুবে যায়। মূলত জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণ পৌর কর্তৃপক্ষের গাফেলতি। অপরিকল্পিত উন্নয়ন। পরিকল্পিত ড্রেনেস ব্যবস্থা না থাকায় এমনটি হয়।
পর্যটক উদ্দোক্তা আনোয়ার কামাল বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে যায়। মূলত পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ড্রেন না থাকায়। এতে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা সকল পর্যটক স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হয়।