১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অভিভাবকহীন রংপুর সিটি কর্পোরেশনে কাজের ধীরগতি

 

দেশের দি¦তীয় বৃহত্তর সিটি কর্পোরেশন হলো রংপুর সিটি কর্পোরেশন। সেই সিটি কর্পোরেশন আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে ছিল অবহেলার পাত্র। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র ছিলেন মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান। রংপুরের মানুষ নৌকায় ভোট না দেওয়ার কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনের দিক থেকে পছন্দ করতেন না রংপুর সিটি কর্পোরেশনসহ রংপুরের মানুষকে। তাদের অপরাধ কী লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেওয়া। শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে এমন কথা না বললেও কাজেই তা প্রমাণ করেছেন। জাতীয় বাজেটে চলতি অর্থ বছরে একটি টাকার বরাদ্দ রাখেনি রংপুর সিটি কর্পোরেশনের জন্য। রংপুরের মানুষের সুখে দুঃখে ছায়ার মত পাশে থেকে নগর পিতার দায়িত্ব পালন করছিল মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কার শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা পদ ত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যায়। দেশে গঠন হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শুরু হয় সংস্কার কার্যক্রম। অপসরণ করা হয় উপজেলা ও জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আদেশে সিটি কর্পোরেশনগুলোর মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে অপসারণ করে বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেনকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ১৯ আগস্ট প্রশাসক হিসেবে যোগ দিলেও নগর ভবনে খুব একটা সময় দেননি তিনি। বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা দায়ের করা মামলা হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁকেও বদলি করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া কয়েকজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। অনেকে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই পলাতক। ৪৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২২ জনই অনুপস্থিত। এ অবস্থায় বিভিন্ন বিভাগে কাজের গতি থেমে গেছে। স্থবির হয়ে পড়েছে সিটি কর্পোরেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম। ব্যাঘাত ঘটছে উন্নয়ন কর্মকান্ডেও। সিটি কর্পোরেশনের জন্ম মৃত্যু নিবন্ধকের কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতারা ভিড় করছে। অনেকে অনলাইনে আবেদন করে কাগজপত্র জমা দিতে আসে। তবে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন না থাকায় জন্ম মৃত্যু সনদ না পেয়ে ফেরত যেতে হচ্ছে নাগরিকদের। ২৬নং ওয়ার্ডের মহাদেবপুর এলাকার উত্তম কুমার বলেন, কাউন্সিলর না থাকায় শিশুর জন্ম সনদ মিলল না। ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজাদা আরমান আত্মগাপনে আছেন। ২০নং ওয়ার্ডের বিলকিস বেগম সাত দিন ধরে মৃত্যু সনদ নিতে কাউন্সিলরের অফিসে ঘুরছেন। তিনি বলেন, কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলামকে পাওয়া যায় না। একই অভিযোগ করেন ২৪নং ওয়ার্ডেও আলতাব হোসেন। জন্ম মৃত্যু নিবন্ধক মোহাম্মদ আলী বলেন, কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন না থাকায় সনদ দিতে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিন অন্তত ২০০ সনদ দেওয়ার কথা থাকলেও এখন তা অর্ধেকে নেমেছে। একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, যে সকল কাউন্সিলর আত্মগোপনে রয়েছে, তাদের কার্য সম্পাদনের জন্য সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরদের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে। তবে কাজের কাজ কী হচ্ছে এমন প্রশ্ন সাধারণ নাগরিকদের। প্রশাসক না থাকায় অনেকেই সময় মত আসেনও না কাজ করেন না। এমনটাই মনে হচ্ছে গত রবিবারের চিত্র দেখে। রবিবার ছুটিতে ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতেমা। তার চেম্বারে দেখা গেল এসি ও ফ্যান ছেড়ে আরাম করছেন অফিস সহায়ক রিপন মিয়া। প্যানেল মেয়র মাহাবুবার রহমান মঞ্জু বলেন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের ওই ওয়ার্ডগুলোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসক না থাকায় ঠিকাদাররা বিল পাচ্ছেন না। বেদখল জমি উদ্ধারে বিলম্ব হচ্ছে। বিল তুলতে না পারায় বাকি কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন সচিব বলেন, কাউন্সিলররা টানা তিন মাসিক সভায় অনুপস্থিত থাকলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিভাবকহীন রংপুর সিটি কর্পোরেশনে কাজের ধীরগতি

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

 

দেশের দি¦তীয় বৃহত্তর সিটি কর্পোরেশন হলো রংপুর সিটি কর্পোরেশন। সেই সিটি কর্পোরেশন আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে ছিল অবহেলার পাত্র। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র ছিলেন মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান। রংপুরের মানুষ নৌকায় ভোট না দেওয়ার কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনের দিক থেকে পছন্দ করতেন না রংপুর সিটি কর্পোরেশনসহ রংপুরের মানুষকে। তাদের অপরাধ কী লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেওয়া। শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে এমন কথা না বললেও কাজেই তা প্রমাণ করেছেন। জাতীয় বাজেটে চলতি অর্থ বছরে একটি টাকার বরাদ্দ রাখেনি রংপুর সিটি কর্পোরেশনের জন্য। রংপুরের মানুষের সুখে দুঃখে ছায়ার মত পাশে থেকে নগর পিতার দায়িত্ব পালন করছিল মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কার শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা পদ ত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যায়। দেশে গঠন হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শুরু হয় সংস্কার কার্যক্রম। অপসরণ করা হয় উপজেলা ও জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আদেশে সিটি কর্পোরেশনগুলোর মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে অপসারণ করে বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেনকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ১৯ আগস্ট প্রশাসক হিসেবে যোগ দিলেও নগর ভবনে খুব একটা সময় দেননি তিনি। বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা দায়ের করা মামলা হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁকেও বদলি করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া কয়েকজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। অনেকে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই পলাতক। ৪৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২২ জনই অনুপস্থিত। এ অবস্থায় বিভিন্ন বিভাগে কাজের গতি থেমে গেছে। স্থবির হয়ে পড়েছে সিটি কর্পোরেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম। ব্যাঘাত ঘটছে উন্নয়ন কর্মকান্ডেও। সিটি কর্পোরেশনের জন্ম মৃত্যু নিবন্ধকের কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতারা ভিড় করছে। অনেকে অনলাইনে আবেদন করে কাগজপত্র জমা দিতে আসে। তবে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন না থাকায় জন্ম মৃত্যু সনদ না পেয়ে ফেরত যেতে হচ্ছে নাগরিকদের। ২৬নং ওয়ার্ডের মহাদেবপুর এলাকার উত্তম কুমার বলেন, কাউন্সিলর না থাকায় শিশুর জন্ম সনদ মিলল না। ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজাদা আরমান আত্মগাপনে আছেন। ২০নং ওয়ার্ডের বিলকিস বেগম সাত দিন ধরে মৃত্যু সনদ নিতে কাউন্সিলরের অফিসে ঘুরছেন। তিনি বলেন, কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলামকে পাওয়া যায় না। একই অভিযোগ করেন ২৪নং ওয়ার্ডেও আলতাব হোসেন। জন্ম মৃত্যু নিবন্ধক মোহাম্মদ আলী বলেন, কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন না থাকায় সনদ দিতে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিন অন্তত ২০০ সনদ দেওয়ার কথা থাকলেও এখন তা অর্ধেকে নেমেছে। একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, যে সকল কাউন্সিলর আত্মগোপনে রয়েছে, তাদের কার্য সম্পাদনের জন্য সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরদের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে। তবে কাজের কাজ কী হচ্ছে এমন প্রশ্ন সাধারণ নাগরিকদের। প্রশাসক না থাকায় অনেকেই সময় মত আসেনও না কাজ করেন না। এমনটাই মনে হচ্ছে গত রবিবারের চিত্র দেখে। রবিবার ছুটিতে ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতেমা। তার চেম্বারে দেখা গেল এসি ও ফ্যান ছেড়ে আরাম করছেন অফিস সহায়ক রিপন মিয়া। প্যানেল মেয়র মাহাবুবার রহমান মঞ্জু বলেন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের ওই ওয়ার্ডগুলোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসক না থাকায় ঠিকাদাররা বিল পাচ্ছেন না। বেদখল জমি উদ্ধারে বিলম্ব হচ্ছে। বিল তুলতে না পারায় বাকি কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন সচিব বলেন, কাউন্সিলররা টানা তিন মাসিক সভায় অনুপস্থিত থাকলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।