জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় কে.জি.এস মহর সোবহান মফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম জুলফিকার আলী লেবুর বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছে শফিউল আলম শফিসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। ঘটনাটি উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের কাহেতপাড়া গ্রামে।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শফিউল আলম শফিসহ প্রায় ২০০ স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গত ১৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক তিনটার সময় প্রধান প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে স্কুলের নৈশ প্রহরী জুয়েল কায়েতপাড়া বাজারে স্কুল সংলগ্ন শফিউল আলমের মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড ঘটায়। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে উল্টো তিনি নৈশ প্রহরী জুয়েলকে দিয়ে মো. শফিউল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করান।
এলাকাবাসী এই প্রধান শিক্ষকের ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত হবার কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অবনতিসহ সার্বিক পরিবেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছেছে বলেও জানান।
যেকোন বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে তার ইচ্ছামতো বিদ্যালয় পরিচালনা করে। এই মামলাবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলছে না।
ভুক্তভোগী শফিউল আলম জানান, আমি ২০১২ সালে কে.জি.এস স্কুল সংলগ্ন এক খণ্ড জমি ক্রয় করি। যাহার আরওআর দাগ নং ৫২৮, ৫২৯ এবং বিআরএস দাগ নং ৭২, ৭৩। উত্তরাধিকার সূত্রে অত্র ভূমির মালিক ছিলেন আব্দুল সবুর, আব্দুল বারেক, মিনহাজুল, সীমাহীন এবং ভানু বেগম।
তারা প্রত্যেকেই বিআরএস ৭২ এবং ৭৩ নং দাগে যথাক্রমে ৪ ও ৫ শতাংশ অর্থাৎ মোট ৯ শতাংশ জমি সাবকবলা প্রদান করেন। জমি ক্রয়ের পর আমি তাতে কয়েকটি দোকান তুলে ভাড়া দেই।
এসএম জুলফিকার আলী লেবু মাস্টার অনেকদিন থেকেই বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করে আসছিল যাতে করে আমি উক্ত মার্কেট ভেঙে জমিটা ছেড়ে দেই।
শফিউল আলম আরো জানান, গত ১৫ এপ্রিল আনুমানিক রাত তিনটার সময় ওই প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে স্কুলের নৈশপ্রহরী জুয়েল পেট্রোল ঢেলে দিয়ে ওই মার্কেটে অগ্নি সংযোগ করে। ফলে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই এবং কয়লার স্তুপে পরিণত হয় মার্কেটের দোকানগুলো। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক প্রায় ৫০ লাখ টাকা। আমার এবং ভাড়াটিয়াদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ বাতাস। আমি এর বিচার চাই এবং আমরা সম্পদের ক্ষতিপূরণ চাই।
এ বিষয়ে কে.জি.এস মহর সোবাহান মফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম জুলফিকার আলী লেবু জানান, এই জমি মূলত স্কুলেরই। এটা স্কুলের খেলার মাঠের একাংশ। ১৯৭৫ সনে জমির মূল মালিক মিয়ার উদ্দিনের কাছ থেকে আনসার আলী এই জমি ক্রয় করে। ১৯৮৪ স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে ৮৫ সালে আনসার আলী স্কুলের কাছে জমিটা বিক্রি করে দেয়। কিন্তু ২০১২ সালে মিয়ার উদ্দিনের ওয়ারিশগণের কাছ থেকে বিআরএস মূলে শফিউল আলম জমি ক্রয় করে। কিন্তু বিআরএস রেকর্ডে ভুলবশত: জমির পূর্বের মালিক মিয়ার উদ্দিনের নামে হয়। এটা নিয়ে অনেক মামলা-মোকদ্দমা, বিচার-সালিশ হয়েছে। ইতিমধ্যে স্কুলের জমির বিষয়ে মামলায় আমরা রায় পেয়েছি। আর আমাকে ফাঁসানোর জন্য ওরাই মার্কেট পুড়িয়ে দিয়েছে এবং দাবী করেছে মার্কেটে ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এবিষয়ে পিবিআই তদন্ত করছে। খুব দ্রুত আমরা রিপোর্ট পাবো আশা রাখি এবং সুষ্ঠু বিচার পাবো। এটা আমার ব্যক্তগত জমি না স্কুলের জমি অতএব আমি প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমার দায়বন্ধতার জায়গা থেকে আমি এই মামলা লড়ছি। এজন্য আমাকে অনেক হেনস্থ করা হয়েছে।
























