কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলা সদর ৩নং রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক গত ৫ আগষ্টের ছাত্র জনতা অভ্যুত্থানের পর থেকে তার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল এগারোটায় একটি তদন্ত টিম আসে পরিষদ কার্যালয়ে। পরিষদের সকল নাগরিক সেবা কার্যক্রম ব্যহত হওয়ায় ইউপি সদস্য সহ সেবা প্রত্যাশীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমানকে প্রধান ও সমবায় কর্মকর্তা শাহআলম সরকার, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এটিএম রিয়াশাদকে সহযোগী করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত কালে তারা বিভিন্ন সেবা নিতে আসা ভোগান্তিতে পড়া নাগরিকদের নিকট হতে অভিযোগ সংগ্রহ করেন। এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন এসআই (নিরস্ত্র) মমিনুল ইসলাম ও তার সহযোগী।
চেয়ারম্যান এনামুল হক আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা মার্কা নিয়ে বিজয় লাভ করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ছাত্র জনতার আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতন হলে তিনি গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিষদের সকল ইউপি সদস্য ও কর্মচারীগণ। তার অনুপস্থিতিতে জন্ম-মৃত্যু সনদ,ট্রেড লাইসেন্স সহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়াও এ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নাগরিক সেবা দেওয়ার নামে একটি ভুয়া কার্ড বানিয়ে কার্ড বাণিজ্যের অভিযোগ সহ নানা অনিয়ম ও ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাৎ করার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে সুবিধাভোগীদের।
ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী বলেন দুর্নীতি পরায়ণ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গত ২ সেপ্টেম্বর ২৪ ইং তারিখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা ও সকল ইউপি সদস্য্যগণ চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। ওই দিন বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ উর্ধতন কয়েকটি দফতরে দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদত্যাগ চেয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অভিযোগকারী দের সাক্ষাতকার আমরা নিয়েছি এখন চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শুনবো। চেয়ারম্যান শুনানির জন্য আমাদের কাছে সময়ের আবেদন করলে আমরা তাকে আগামী রবিবার ২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ হলরুমে শুনানি গ্রহণ করা হবে মর্মে জানিয়েছি।
























