ভোলা সদর উপজেলার ৫২নং দক্ষিন আলীনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন ও ১৫টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বিক্রি করে ১২ লাখ টাকা, মহিলালীগের সভানেত্রী, আচমত মাষ্টারের স্ত্রী-প্রধান শিক্ষক কুলসুম বেগম ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগ নেতা,স্কুল কমিটির সভাপতি-বশির আহন্মেদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভাগ করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভবন ও গাছ নিলামে বিক্রি না করে তারা গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন। ওই ইউনিয়নের প্রতিটি স্কুল কলেজের একই অবস্থা বলে শিক্ষার্থী,ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবকেরা জানান।
সরজমিনে অভিযোগে জানা গেছে, ১৯২৬ সালে স্থানীয় সমাজ সেবকেরা ৬০ শতাংশ জমি ও লাখ লাখ টাকা চাদা দিয়ে দক্ষিন আলীনগরে জনবহুল এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। ওই বিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষাথী দেখে প্রশাসন কয়েকদিনের মধ্যে ওইটিকে সরকারী ঘোষনা করে ৮৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৭ ফুট প্রসস্ত করে দুটি আধাপাকা ভবন নির্মান করেন। ওই স্কুলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী লেখা-পড়া করে আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। এলজিইডি চতুর্থ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্কুলের এক অংশের স্থানে তৃতীয়তলার একটি পাকা ভবন নির্মান শুরু করেন। ওই স্থানে ৮৫ ফুট দৈর্ঘ্য-২৭ ফুট প্রসস্ত টিনসেট আধাপাকা ভবন ছিল। প্রধান শিক্ষক কুলসুম বেগম ও সভাপতি বশির আহন্মেদ ওই ভবনটি ও ১৫টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ গোপনে ১২ লাখ টাকা বিক্রি করে দুইজনে ভাগাভাগী করে নিয়ে যান। এখবর শিক্ষক, কমিটির সদস্যরা,অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে জানা জানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। আওয়ামীলীগ নেতা, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির হুমকির মুখে পড়ে অনেকে চুপে যান। আওয়ামীলীগ চিরদিনের জন্য রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় আছে, এটি নিয়ে বাড়া বাড়ি না করার জন্য এলাকায় হুমকি প্রদান করেন প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি চেয়ারম্যান বশিব। তাছাড়া প্রধান শিক্ষক কুলসুম বেগম ২০১৯ সালে ওই স্কুলে যোগদান করার পর থেকে কৌশলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়, বিনা রশিদে অর্থ আদায়, ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাৎ, কোচিং বাণিজ্য, উপবৃত্তির শিক্ষার্থী নির্বাচনে অনিয়মসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতি শুরু করেন। এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকলে ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছিলো। কিন্তু তৎকালীন সরকারের ক্ষমতাধর জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় প্রধান শিক্ষক নিবিঘ্নে নিজের অপকর্ম চালিয়ে যান, যার ভাগ পেতেন চেয়ারম্যান বশির আহন্মেদও।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্যরা প্রধান শিক্ষক কুলসুম বেগম ও সভাপতি বশির আহন্মেদের দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন-প্রধান শিক্ষক কুলসুম বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছে। আওয়ামীলীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকসহ সিন্ডিকেট করে নানা অনিয়ম দুর্নীতি শুরু করেন। তারা সরকারী কোন নিয়মই মানেনা। তার জন্য স্কুলে শিক্ষার্থী তেমন একটা নাই, অন্য দিকে চলে গেছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের ভুয়া নাম দিয়ে তারা উপবৃত্তির টাকা নিজেরাই ভাগ করে নেয়। বেশীর ভাগ সময় প্রধান শিক্ষক স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। এসব অনিয়ম নিয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে উল্টো রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে হুমকি-ধমকি ও নানাভাবে হয়রানি করা হতো।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক কুলসুম জানান, স্কুল ভবন ও গাছ সভাপতি আমাকে কিছু না বলে বিক্রি করে দিয়েছে। আমি বয়স্ক মহিলা মানুষ আমি তাদের কথার বাহিরে কিছু করতে পারিনাই। আপনি সংবাদটি কইরেননা, আপনার সাথে আমার ছেলে দেখা করবে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার অসিম প্রসাধ বিশ^াস বলেন, আমি ভোলা সদরে কিছুদিন আগে যোগদান করেছি, এর আগে জাহাঙ্গীর হোসেন নামের একজন শিক্ষা অফিসার ছিল, তিনি কোন চার্জ বুঝ না দিয়ে অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেছেন। তার পরেও আমি তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
























