বিগত সরকারের সময়ে ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে সরকারি কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে সাবেক পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের বিনোদন ক্লাব গড়ে মানুষের দূর্ভোগ সৃষ্টি করায় বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী রাস্তা বের করতে ক্লাবটিতে হানা দিয়েছে। এ সময় তারা অবৈধ ভাবে নির্মাণকৃত দেওয়াল ভেঙ্গে চলাচল শুরু করে।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর শহরের পলাশগড় এলাকায় গড়ে উঠা রিক্রেয়েশন ক্লাবের আশেপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে রাস্তা মুক্ত করে হাজারো নারী পুরুষ।
পৌর এলাকার পলাশগড়, বামুনপাড়া, রামনগর,তেতুলিয়,তিরুথিয়াসহ ১০ গ্রামের নারী পুরুষ শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ৫ আগষ্ট ক্লাবটিতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেন।
এরপর থেকে তাদের রাস্তা অভমুক্ত করতে গত ৮ আগষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে।
এক পর্যায়ে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইফতেখার ইউনুস বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসীর দাবি ধাওয়া শুনেন। এবং গ্রামবাসীদের যৌতিক দাবি জেলা প্রশাসককে অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
দীর্ঘদিনেও প্রশাসন থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আজ এলাকাবাসী তাদের রাস্তা বের করেন।
জানা যায়, জামালপুর পৌরসভার নিজস্ব ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশনের মধ্যে জামালপুর রিক্রিয়েশন ক্লাব নামের একটি ভিআইপি বিনোদন ক্লাব গড়ে তুলেন জামালপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। মির্জা আজমকে খুঁশি করতে ওই ক্লাবের উন্নয়ন কাজের জন্যে জামালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ছানু কোটি কোটি টাকার প্রকল্প দেন। প্রকল্প দিয়েছেন জেলা পরিষদও তাদের কোটি টাকার অর্থায়নে করা হচ্ছে ক্লাবের মূল গে পৌরসভার কোটি কোটি টাকা একটি ক্লাবের উন্নয়নে ব্যয়কে অযৌক্তিক বলছেন সাবেক পৌর সভার মেয়র।
জামালপুর শহরের পলাশগড় এলাকায় সাড়ে ৪ একর জমির ওপর ছিলো একমাত্র পৌরসভার ময়লা আর্বজনা ফেলার ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশন। ২০২১ সালে পুরো ডাম্পিং স্টেশন বন্ধ করে দিয়ে, ওই জমি নাম মাত্র মূল্যে ২০ বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয় রিক্রিয়েশন ক্লাবকে। এছাড়াও পৌরসভার আট শহর প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে ক্লাবটির জন্য নির্মাণ করা হয় সীমানা প্রাচীর, রাস্তা ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা।
২০২১ সালে পুরো ডাম্পিং স্টেশন বন্ধ করে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ক্লাবটি যাত্রা শুরু করে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লাবটিতে চলতো অনৈতিক কাজ। আর ক্লাব নির্মাণের ফলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ৬ টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষের চলাচলের রাস্তা। এছাড়াও দখল করা হয়েছে কয়েকজনের জমি। এর প্রতিবাদ করতে গেলে হামলার শিকার হয়েছেন অনেকে। ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী জামালপুর -৩ আসনের সাবেক এমপি মির্জা আজমের নির্দেশে এসব কাজ করেছেন জামালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও ক্লাবটির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ছানু। মির্জা আজমের ভাতিজা জামাই বা ডান হাত হিসেবেই চিনতেন মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ছানুকে। আর মির্জা আজমকে খুঁশি করতেই কোন নিয়ম-নীতির তুয়াক্কা না করেই পৌরসভা থেকে একে একে প্রকল্প দিয়েছেন ওই ক্লাবে।
জামালপুর পৌরসভা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোস্তফা কামাল সুমন বলেন, বাস্তবে এটি এখন রিক্রিয়েশন ক্লাব করার সময় দেওযানগঞ্জ বাইপাস থেকে পলাশগড় পর্যন্ত কানেকটিং রোড়টি ছিল সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়। বাউন্ডারি দেওয়ালের কাজ করানো হয়। এরাকাবাসীর দাবি ছিল রাস্তাটি চালু থাকুক। কিস্তু সেই দাবি রিক্রেয়েশন ক্লাব না মেনে রাস্তার কাজটি আর হয় নাই। তিনি মনে করেন জনস্বার্থে রাস্তাটি অপেন হওয়া উচিত।পলাশগড় গ্রামসহ ১০ টি গ্রামের মানুষ চলাচল করতো। রিক্রেয়েশন ক্লাব করার সময় সেই রাস্তা প্রাচীর দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে।এলাকার ২০/২৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতো। কৃষকরা ফসল নিয়ে যেতো। স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজে যাতায়াত করতো। এখন ২/৩ ঘন্টার রাস্তা পেরিয়ে যেতে হচ্ছে। সরকারের কাছে দাবি করছি আমাদের চলাচলের রাস্তাটি খুলে দেয়ার জন্য।
জামালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এডভোকেট শাহ্ মোঃ ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, এই ক্লাবটি সাথে পৌরসভার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। পৌরসভার কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা নেই।যেখানে পৌরসভার স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা নাই ব্যক্তিগত কিছু মানুষের স্বার্থে ক্লাবের কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা শহরের অত্যান্ত প্রভাবশালী।তাদের স্বার্থেই এই ক্লাবটি করা হয়েছে।এটার সাথে পৌরসভার জনগণের কোন স্বার্থ নাই। কাজেই পৌরসভা এই জায়গাটি এভাবে দিতে পারে না।
রিক্রিয়েশন ক্লাবের সদস্য হওয়ার জন্য গুনতে হতো ৫ লাখ টাকা। মির্জা আজমকে খুঁশি করতেও দলের প্রভাবশালী অনেক নেতা-কর্মীরাও ৫ লাখ টাকা দিয়ে সদস্য পদ নেন। বর্তমানে ৪ শ ৬৯ জন সদস্য রয়েছে ক্লাবটিতে। আর একটি বেসরকারি ক্লাবের জন্য পৌরসভার এতো ব্যয় অযৌক্তিক ও বিধি পরিপন্থি বলে মনে করছেন অনেকেই।
























