লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সরকারি খাদ্য গুদামের ৩০ টন চাল উদ্ধার করা হয়েছে।অভিযানের পর থেকে আত্নগোপনে রয়েছে কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মোঃ ফেরদৌস আলম। ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক।
শুক্রবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের সুকানদিঘী এলাকার চালকল মালিক একরামুল হকের গুদাম থেকে ৩০ টন ওজনের ৬০০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের সরকারী খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা খাদ্য পরিদর্শক (ওসি এলএসডি) মোঃ ফেরদৌস আলম বৃহস্পতিবার(৩ সেপ্টেম্বর)দিবাগত রাতে ২৫টি ট্রলিযোগে গুদাম থেকে চাল সরিয়ে ফেলছন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক খাদ্যা গুদামে অভিযান চালান কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জহির ইমাম। এ সময় চালের হিসাবে গরমিল ও গুদাম কর্মকর্তা লাপাত্তা থাকায় ওই খাদ্য গুদামটি সিলগালা করা হয়।
আত্মসাৎ হওয়া চাল উদ্ধারে জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান নামেন কালীগঞ্জ ইউএনও মোঃ জহির ইমাম। পরে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের সুকানদিঘী এলাকার চালকল মালিক একরামুল হকের গুদাম থেকে ৩০ মেঃটন ওজনের ৬০০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় গুদাম মালিককেও পাওয়া যায়নি।
ঘটনা তদন্তে শুক্রবার সকালে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে মাহবুব হোসেনকে আহ্বায়ক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে (ভার) সদস্যসচিব করে গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহির ইমাম বলেন, ট্রলিতে করে রাতের আঁধারে ভোটমারী সরকারী খাদ্যাগুদাম থেকে চাল সরানো হচ্ছে, এমন গোপন খবরে রাতেই গুদাম পরিদর্শনে যাই। সেখানে গুদাম কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরে উর্ধতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে গুদাম সিলগালা করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে ওই খাদ্য গুদাম থেকে সরানো ৬০০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে ভোটমারী গুদাম কর্মকর্তা মোঃ ফেরদৌস আলমের সন্ধান পেতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তছরুপকৃত চাল উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান খাদ্য গুদামের ২৫০ টন চাল আত্মসাৎ করে নিখোঁজ রয়েছেন গুদাম কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম। আমরা অভিযান চালিয়ে ৬০০ বস্তা অর্থাৎ ৩০ টন চাল উদ্ধার করেছি। বাকিটা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আমি নিজেও গুদাম পরিদর্শন করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
























