০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রীপুরে নিরীহ ব্যাক্তির বসতবাড়ী দখলের অভিযোগ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে

গাজীপুরের শ্রীপুরে সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে নিরীহ এক ব্যাক্তির বসতবাড়ী দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী আয়েশা সুষ্ঠু বিচার চেয়ে শ্রীপুর থানা ও গাজীপুর সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার (দাদা গ্রæপ) কারখানা সংলগ্ন স্থানে বসতবাড়ী দখলের ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলো একই গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলেসেনা সদস্য (কর্পোরাল) আশরাফুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী রুমা, তাদের সহযোগী বাচ্চু মিয়া, সেনা সদস্যের ছোট ভাই কাওরাইদ ইউনিয়নের ধামলই গ্রামের আলামিন, আবদার গ্রামের হামেদ আলীর ছেলে নজরুলসহ অজ্ঞাত ৫০-৬০ জন। সেনা সদস্য আশরাফুল ইসলাম রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত।

ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম আবদার গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। সে তার ফুফু মৃত বানু বেয়া এবং দুরজান বিবির কাছ থেকে ১৯৮২ সালে ১৩.৭ শতাংশ জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে বসবাস করে আসছেন।

থানা ও সেনা ক্যাম্পে দেয়া অভিযোগ এবং ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) দুপুরে সেনা সদস্য আশরাফুল ইসলাম, রুমা, বাচ্চু মিয়া, আলামিন এবং নজরুলসহ তাদের ৫০-৬০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বসতবাড়ীতে প্রবেশ করে ভাংচুর করে। এসময় ৬টি ঘরের ভাড়াটিয়াদেরকে মারধর এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। তাদেরকে বাধা দিলে হামলাকারীরা ভাড়াটিয়াদেরকে বিভন্ন হুমকি দেয়।

তিনি আরো বলেন ২০২০ সালের ১৯ জুলাই ৩.৫০ শতাংশ জমি বিক্রি করব জানতে পেরে সেনা সদস্য জমি ক্রয় করবে বলে জানায়। পরে ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ হলে তিনি নগদ ১০ লাখ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রি বায়না করেন। ১১ মাস পর উকিল নোটিশের মাধ্যমে বাকি টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদ দিলে সে পরিশোধ করেনি। পরে ২০২১ সালের ৬ মে  রাত সাড়ে ৮টায় আমাকে অপহরণ করে নিয়ে টাঙ্গাইল নিয়ে ভয় দেখিয়ে দলিলে স্বাক্ষর দিতে বলে। রাজি না হলে হাতুরি দিয়ে হাতের আংঙ্গুলে আঘাত করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। অপহরণের ঘটনায় সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গাজীপুর আদালতে অপহরণ মামলা (নং- ৫৯৮) চলমান রয়েছে।

অভিযুক্ত সেনা সদস্য আশরাফুল ইসলাম জানান, তিনি ২০২০ সালের ১৯ জুলাই ৩.৫০ শতাংশ জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নগদ ১০ লাখ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রি বায়না করেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সময় জমির মালিককে আরো ৬ লাখ টাকাসহ মোট ১৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। বিক্রেতা জমি বায়না রেজিস্ট্রি দিয়েও দখল না দেওয়ায় তিনি ভাড়াটিয়াদের ঘর থেকে বের করে বসতবাড়ীতে বসবাস করছেন। জমির মূল্য ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীপুরে নিরীহ ব্যাক্তির বসতবাড়ী দখলের অভিযোগ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০২৪

গাজীপুরের শ্রীপুরে সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে নিরীহ এক ব্যাক্তির বসতবাড়ী দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী আয়েশা সুষ্ঠু বিচার চেয়ে শ্রীপুর থানা ও গাজীপুর সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার (দাদা গ্রæপ) কারখানা সংলগ্ন স্থানে বসতবাড়ী দখলের ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলো একই গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলেসেনা সদস্য (কর্পোরাল) আশরাফুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী রুমা, তাদের সহযোগী বাচ্চু মিয়া, সেনা সদস্যের ছোট ভাই কাওরাইদ ইউনিয়নের ধামলই গ্রামের আলামিন, আবদার গ্রামের হামেদ আলীর ছেলে নজরুলসহ অজ্ঞাত ৫০-৬০ জন। সেনা সদস্য আশরাফুল ইসলাম রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত।

ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম আবদার গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। সে তার ফুফু মৃত বানু বেয়া এবং দুরজান বিবির কাছ থেকে ১৯৮২ সালে ১৩.৭ শতাংশ জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে বসবাস করে আসছেন।

থানা ও সেনা ক্যাম্পে দেয়া অভিযোগ এবং ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) দুপুরে সেনা সদস্য আশরাফুল ইসলাম, রুমা, বাচ্চু মিয়া, আলামিন এবং নজরুলসহ তাদের ৫০-৬০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বসতবাড়ীতে প্রবেশ করে ভাংচুর করে। এসময় ৬টি ঘরের ভাড়াটিয়াদেরকে মারধর এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। তাদেরকে বাধা দিলে হামলাকারীরা ভাড়াটিয়াদেরকে বিভন্ন হুমকি দেয়।

তিনি আরো বলেন ২০২০ সালের ১৯ জুলাই ৩.৫০ শতাংশ জমি বিক্রি করব জানতে পেরে সেনা সদস্য জমি ক্রয় করবে বলে জানায়। পরে ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ হলে তিনি নগদ ১০ লাখ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রি বায়না করেন। ১১ মাস পর উকিল নোটিশের মাধ্যমে বাকি টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদ দিলে সে পরিশোধ করেনি। পরে ২০২১ সালের ৬ মে  রাত সাড়ে ৮টায় আমাকে অপহরণ করে নিয়ে টাঙ্গাইল নিয়ে ভয় দেখিয়ে দলিলে স্বাক্ষর দিতে বলে। রাজি না হলে হাতুরি দিয়ে হাতের আংঙ্গুলে আঘাত করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। অপহরণের ঘটনায় সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গাজীপুর আদালতে অপহরণ মামলা (নং- ৫৯৮) চলমান রয়েছে।

অভিযুক্ত সেনা সদস্য আশরাফুল ইসলাম জানান, তিনি ২০২০ সালের ১৯ জুলাই ৩.৫০ শতাংশ জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নগদ ১০ লাখ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রি বায়না করেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সময় জমির মালিককে আরো ৬ লাখ টাকাসহ মোট ১৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। বিক্রেতা জমি বায়না রেজিস্ট্রি দিয়েও দখল না দেওয়ায় তিনি ভাড়াটিয়াদের ঘর থেকে বের করে বসতবাড়ীতে বসবাস করছেন। জমির মূল্য ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।