১২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শহিদ আবরারের চেতনায় বলীয়ান হয়ে ফ্যাসিস্টদের রুখে দিতে হবে: জবি শিক্ষার্থীরা

ভারতীয় আগ্রাসন ও বাংলাদেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির  বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শহিদ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষীকিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে(জবি) স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া এই স্মরণসভায় শহিদ আবরার ও ২৪ এর গণ আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে সকল অন্যায় ও স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার আশা ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১ টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্ত্বরে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই স্মরণ সভায় শিক্ষার্থীরা শহিদ আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের পাশাপাশি ২৪ এর গণ আন্দোলনের শহিদদের বিশেষভাবে স্মরণ করে। এছাড়াও বক্তারা ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আবরারের সাহসী ভূমিকার স্মৃতিচারণ করে। এই স্মরণসভার মধ্য দিয়ে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করতে এবং বিগত প্রশাসনের মতো কোন বিশেষ পক্ষের হয়ে কাজ না করারও দাবি জানায়।

এ বিষয়ে ইভান তাহসিফ বলেন, আমরা দেখেছি বিগত সরকারের ১৬ বছরের শাসনে কিভাবে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হয়েছে। তাদের সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ছিলো ভারতের কাছে নতজানু। আবরার ফাহাদ এর প্রতিবাদ করায় তাকে শহিদ হতে হয়েছে। আমরা একটি স্বাধীন ক্যাম্পাস চাই যাতে করে আর কাউকে আবরার ফাহাদ হতে না হয়।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান হাসান ইমন বলেন, আমাদের এই স্মরণসভার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে হচ্ছে। দল মত নির্বিশেষে আমরা সবাই আবরার ফাহাদের মহান ত্যাগকে স্মরণ করছি। আবরার ফাহাদ অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কিভাবে রুখে দাড়াতে হয় তার একটি মঞ্চ তৈরি করে গেছেন। এই মঞ্চকে ব্যবহার করে আমরাও সকল প্রকার ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারকে শক্ত হাতে রুখে দিতে চাই।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এই স্মরণ-সভার মধ্য দিয়ে আমরা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদের অদম্য সাহসকে স্মরণ করছি ও তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আবরার ফাহাদ জীবন দিয়ে দেখিয়ে গেছেন কিভাবে আগ্রাসণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয়। আমরা তার এই ত্যাগের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে স্মরণসভার আয়োজন করেছি। যাতে করে নতুন কোন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারাও প্রতিরোধমুখী হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের প্রতি আমাদের চাওয়া হলো তারা বিগত প্রশাসনের মতো কোন দলের অন্ধ গোলামি না করে স্বাধীনভাবে কাজ করুক। তারা অন্যায়কে অন্যায় এবং ন্যায়কে ন্যায় হিসেবে গ্রহণ করার সাহসটুকু রাখুক। তারা তাদের বিবেক দিয়ে তাদের দায়িত্বটুকু সম্পাদন করুক।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পানি ও গ্যাস চুক্তির বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার। পরদিন ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে  নিয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করে।

কমিশনার সংকটে বেরোবির প্রথম ব্রাকসু নির্বাচনে অনিশ্চয়তা

শহিদ আবরারের চেতনায় বলীয়ান হয়ে ফ্যাসিস্টদের রুখে দিতে হবে: জবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৪:৫১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০২৪

ভারতীয় আগ্রাসন ও বাংলাদেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির  বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শহিদ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষীকিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে(জবি) স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া এই স্মরণসভায় শহিদ আবরার ও ২৪ এর গণ আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে সকল অন্যায় ও স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার আশা ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১ টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্ত্বরে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই স্মরণ সভায় শিক্ষার্থীরা শহিদ আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের পাশাপাশি ২৪ এর গণ আন্দোলনের শহিদদের বিশেষভাবে স্মরণ করে। এছাড়াও বক্তারা ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আবরারের সাহসী ভূমিকার স্মৃতিচারণ করে। এই স্মরণসভার মধ্য দিয়ে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করতে এবং বিগত প্রশাসনের মতো কোন বিশেষ পক্ষের হয়ে কাজ না করারও দাবি জানায়।

এ বিষয়ে ইভান তাহসিফ বলেন, আমরা দেখেছি বিগত সরকারের ১৬ বছরের শাসনে কিভাবে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হয়েছে। তাদের সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ছিলো ভারতের কাছে নতজানু। আবরার ফাহাদ এর প্রতিবাদ করায় তাকে শহিদ হতে হয়েছে। আমরা একটি স্বাধীন ক্যাম্পাস চাই যাতে করে আর কাউকে আবরার ফাহাদ হতে না হয়।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান হাসান ইমন বলেন, আমাদের এই স্মরণসভার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে হচ্ছে। দল মত নির্বিশেষে আমরা সবাই আবরার ফাহাদের মহান ত্যাগকে স্মরণ করছি। আবরার ফাহাদ অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কিভাবে রুখে দাড়াতে হয় তার একটি মঞ্চ তৈরি করে গেছেন। এই মঞ্চকে ব্যবহার করে আমরাও সকল প্রকার ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারকে শক্ত হাতে রুখে দিতে চাই।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এই স্মরণ-সভার মধ্য দিয়ে আমরা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদের অদম্য সাহসকে স্মরণ করছি ও তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আবরার ফাহাদ জীবন দিয়ে দেখিয়ে গেছেন কিভাবে আগ্রাসণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয়। আমরা তার এই ত্যাগের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে স্মরণসভার আয়োজন করেছি। যাতে করে নতুন কোন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারাও প্রতিরোধমুখী হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের প্রতি আমাদের চাওয়া হলো তারা বিগত প্রশাসনের মতো কোন দলের অন্ধ গোলামি না করে স্বাধীনভাবে কাজ করুক। তারা অন্যায়কে অন্যায় এবং ন্যায়কে ন্যায় হিসেবে গ্রহণ করার সাহসটুকু রাখুক। তারা তাদের বিবেক দিয়ে তাদের দায়িত্বটুকু সম্পাদন করুক।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পানি ও গ্যাস চুক্তির বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার। পরদিন ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে  নিয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করে।