১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরে ৮৩৫ মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব

ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ, ঘণ্টা, কাঁসরের ঝনঝন শব্দ আর উলুধ্বনিতে রংপুরে ৮৩৫ মন্ডপে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ ৯ অক্টোবর বুধবার সকালে নগরীর কালিবাড়ী মন্দিরে বেলষষ্ঠির মধ্য দিয়ে শারদীয় উৎসব শুরু হয়। শঙ্খ বাজিয়ে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন মন্দিরের সহকারী পুরোহিত খোকন চ্যাটার্জি। ষষ্ঠীর মহা আয়োজনে দেবী দুর্গাকে দর্শন করতে ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয় মন্দির প্রাঙ্গণ। পরিবর্তিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে সকল মানুষের মনে শান্তি বয়ে আনবে মা দুর্গা, এমন প্রত্যাশা ভক্তদের। মন্দিরে পূজা দিতে আসা এনজিও কর্মী গৌরাঙ্গ চন্দ্র বলেন, বুধবার সকাল থেকে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলোর খবরে আমরা কিছুটা শঙ্কিত। যদিও এখন পর্যন্ত রংপুরে কোনোরূপ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি। আমরা চাইবো দশমীতে মায়ের বিসর্জন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তার দিয়ে যাবেন। যাতে করে আমরা ভক্তরা কোনো প্রকার শঙ্কা না নিয়ে মন্ডপে এসে পূজা স¤পন্ন করতে পারি। রংপুরে সকল ধর্মের মানুষ শারদীয় দুর্গোৎসবের মেতে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ। অদ্বিতীয়া নামের আরেক ভক্ত বলেন, মায়ের পূজা শুরু হয়েছে। অনেক আনন্দ করবো। মায়ের কাছে প্রার্থনা জগতের সকল মানুষ যেন শান্তিতে থাকে। কল্যাণ বয়ে আনে ধরনীতে। আমরা যারা শিক্ষার্থী রয়েছি তাদের পড়াশোনায় যেন জ্ঞানের দ্বার উন্মোচিত করে মা। এমন চাওয়া আমাদের সকলের। রংপুর পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ বছর রংপুর মহানগরসহ আট উপজেলার ৮৩৫টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে যাবতীয় নিরাপত্তার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মন্ডপ কমিটি ও প্রশাসন। প্রত্যেকটি মন্ডপে শৃঙ্খলা কমিটির পাশাপাশি থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এবার দুর্গোৎসবে র‌্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্যদের পাশাপাশি থাকবে সেনাবাহিনীর টহল টিমের নজরদারি। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ডপের নিরাপত্তা জোরদারে থাকবে বাড়তি ব্যবস্থা। রংপুর মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ স¤পাদক অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, মন্ডপে মন্ডপে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভক্তরাও বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে মন্ডপগুলোতে আসছে। সবমিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা অর্চনা করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মা দেবীর দুর্গার গমন ও আগমন নিয়ে ধর্মসভা মন্দিরের পুরোহিত ডেনী লাহিরী বলেন, শাস্ত্রমতে দিনক্ষণ নিয়ে প্রতিবছর মায়ের আগমন ও গমন হয়। এবার মায়ের আগমন দোলনায় হয়েছে আর গমন হবে গজে করে। যা শাস্ত্র মতে দেবীর উৎকৃষ্টতম বাহন। দেবীর আগমন বা গমন হাতিতে হলে মর্ত্যলোক ভরে ওঠে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধিতে। পূর্ণ হয় ভক্তদের মনোবাঞ্ছা। পরিশ্রমের সুফল পায় মর্ত্যলোকের অধিবাসীগণ। অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি নয়, ঠিক যতটা প্রয়োজন ততটা বর্ষণ এমন প্রার্থনা আমাদের। রংপুর জেলা পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন বলেন, রংপুরে প্রতিটি মন্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব যাতে করতে পারে, সেজন্য সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজাকে ঘিরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সজাগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে ৮৩৫ মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ, ঘণ্টা, কাঁসরের ঝনঝন শব্দ আর উলুধ্বনিতে রংপুরে ৮৩৫ মন্ডপে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ ৯ অক্টোবর বুধবার সকালে নগরীর কালিবাড়ী মন্দিরে বেলষষ্ঠির মধ্য দিয়ে শারদীয় উৎসব শুরু হয়। শঙ্খ বাজিয়ে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন মন্দিরের সহকারী পুরোহিত খোকন চ্যাটার্জি। ষষ্ঠীর মহা আয়োজনে দেবী দুর্গাকে দর্শন করতে ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয় মন্দির প্রাঙ্গণ। পরিবর্তিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে সকল মানুষের মনে শান্তি বয়ে আনবে মা দুর্গা, এমন প্রত্যাশা ভক্তদের। মন্দিরে পূজা দিতে আসা এনজিও কর্মী গৌরাঙ্গ চন্দ্র বলেন, বুধবার সকাল থেকে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলোর খবরে আমরা কিছুটা শঙ্কিত। যদিও এখন পর্যন্ত রংপুরে কোনোরূপ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি। আমরা চাইবো দশমীতে মায়ের বিসর্জন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তার দিয়ে যাবেন। যাতে করে আমরা ভক্তরা কোনো প্রকার শঙ্কা না নিয়ে মন্ডপে এসে পূজা স¤পন্ন করতে পারি। রংপুরে সকল ধর্মের মানুষ শারদীয় দুর্গোৎসবের মেতে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ। অদ্বিতীয়া নামের আরেক ভক্ত বলেন, মায়ের পূজা শুরু হয়েছে। অনেক আনন্দ করবো। মায়ের কাছে প্রার্থনা জগতের সকল মানুষ যেন শান্তিতে থাকে। কল্যাণ বয়ে আনে ধরনীতে। আমরা যারা শিক্ষার্থী রয়েছি তাদের পড়াশোনায় যেন জ্ঞানের দ্বার উন্মোচিত করে মা। এমন চাওয়া আমাদের সকলের। রংপুর পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ বছর রংপুর মহানগরসহ আট উপজেলার ৮৩৫টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে যাবতীয় নিরাপত্তার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মন্ডপ কমিটি ও প্রশাসন। প্রত্যেকটি মন্ডপে শৃঙ্খলা কমিটির পাশাপাশি থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এবার দুর্গোৎসবে র‌্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্যদের পাশাপাশি থাকবে সেনাবাহিনীর টহল টিমের নজরদারি। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ডপের নিরাপত্তা জোরদারে থাকবে বাড়তি ব্যবস্থা। রংপুর মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ স¤পাদক অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, মন্ডপে মন্ডপে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভক্তরাও বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে মন্ডপগুলোতে আসছে। সবমিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা অর্চনা করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মা দেবীর দুর্গার গমন ও আগমন নিয়ে ধর্মসভা মন্দিরের পুরোহিত ডেনী লাহিরী বলেন, শাস্ত্রমতে দিনক্ষণ নিয়ে প্রতিবছর মায়ের আগমন ও গমন হয়। এবার মায়ের আগমন দোলনায় হয়েছে আর গমন হবে গজে করে। যা শাস্ত্র মতে দেবীর উৎকৃষ্টতম বাহন। দেবীর আগমন বা গমন হাতিতে হলে মর্ত্যলোক ভরে ওঠে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধিতে। পূর্ণ হয় ভক্তদের মনোবাঞ্ছা। পরিশ্রমের সুফল পায় মর্ত্যলোকের অধিবাসীগণ। অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি নয়, ঠিক যতটা প্রয়োজন ততটা বর্ষণ এমন প্রার্থনা আমাদের। রংপুর জেলা পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন বলেন, রংপুরে প্রতিটি মন্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব যাতে করতে পারে, সেজন্য সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজাকে ঘিরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সজাগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।