১০:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভালুকায় মসজিদের দানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে মসজিদের ওয়াকফকৃত সম্পত্তির আয় থেকে ২৫ ভাগ দানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ওয়াকফ দলিলের তিন মোতওয়াল্লী ও তাদের পরিবারের লোকজনের ওপর।
এলাকাবাসিরা জানায়, ডাকাতিয়া গ্রামের মৃত কাজিম উদ্দিনের ছেলে আবুল মাজম জীবিত থাকাবস্থায় তার সম্পদের ১২শতক জমি সরাসরি ডাকাতিয়া জামে মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। পরবর্তীতে ২১০৪নং দলিলে আরও ২ একর ৭০ শতক জমি একই মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। তবে সেই ওয়াকফ দলিলে আবুল মাজমের তিন মেয়ে জেলেমন নেছা, হাছনা খাতুন ও তাহেরুন নেছাকে মোতওয়াল্লী করেন। দলিলে উল্লেখ্য করা হয় যে সম্পদের বার্ষিক আয়ের ২৫ ভাগ মসজিদে দান করিবে এবং বাকী ৭৫ ভাগ যারা গরীব মিসকিন ও আবুল মাজমের বাৎসরিক ওরশ এবং মিলাদ মাহফিলের কাজে ব্যবহৃত হবে। কিন্তু ওয়াকফ দলিলের পর ২৫ ভাগ দানের অর্থ মসজিদে প্রদান করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে আবুল মাজমের ভাতিজা আব্দুর রহমান রাজিব বলেন, আমার চাচা আবুল মাজম মৃত্যুর পূর্বে ডাকাতিয়া জামে মসজিদের নামে ২ একর ৭০ শতক জমি ওয়াকফ করে দেন। ওয়াকফকৃত সম্পদের মাঝে চাষাবাদের জমিসহ বাড়িঘর ছিল। সেখানে দুতলা একটি টিনের ঘর, আরেকটি চার চালা টিনের ঘর ও রান্না ঘর ছিল। সেটি আবুল মাজমের মেয়ের নাতীরা লোকজন নিয়ে খুলে বিক্রি করে দেন। এতে আবুল মাজমের আপন চাচাত ভাই লাল মামুদ, সোনা মিয়া ও আশরাফ আলী বাধা দিলেও তাদের কোনো কথার তোয়াক্কা করেনি।
আবুল মাজমের নাতী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ডাকাতিয়া জামে মসজিদ নয় পাশের আল হুদা জামে মসজিদের নামে ২ একর ৭০শতক জমি ওয়াকফ করে দেন তার নানা। তারা ওই মসজিদেই ভাগের টাকা দান করছেন। বছরে ওয়াজ মাহফিল করেন তার আবুল মাজমের নামে। তবে দানের কোনো রশিদ বা প্রাপ্তি স্বীকারের কাগজ তাদের কাছে নেই। তাছাড়া তার নানার নামে বছরে করা মাহফিলের লিফলেটও তাদের সংরক্ষনে নেই।
এদিকে রাজিব আরও জানান, কোনো ওয়াজ মাহফিল করেনি তারা। তাছাড়া এই ডাকাতিয়া জামে মসজিদের নাম উল্লেখ করে দলিল হয়েছে। সেটি হবে কিভাবে। তাছাড়া পাশে মসজিদ হয়েছে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে চার বছর হয়। আর আবুল মাজম মারা গেছেন ১০-১৫ বছর হয়ে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে ডাকাতিয়া জামে মসজিদই ছিল। এখানেই সবাই নামাজ আদায় করতেন। এখন কয়েক বছর হল পাশেই মসজিদ নির্মাণ হয়েছে। ডাকাতিয়া জামে মসজিদে জমি ওয়াকফ করে দেওয়ার কথা তারা শুনেছেন।
ডাকাতিয়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আবুল মাজম এই মসজিদে ২ একর ৭০ শতক জমি ওয়াকফ করে দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত দলিলে উল্লেখিত ২৫ ভাগ মসজিদে দানের টাকা আমরা পাইনি। উল্টো আবুল মাজমের মেয়ে, জামাতা ও নাতীরা ওয়াকফকৃত সম্পদ জোরপূর্বক ভোগ দখল করে খাচ্ছে। তাদেরকে কিছু বলতে গেলেও অশোভন আচরণ করেন। তিনি আরও বলেন, কি পরিমাণ টাকা দানের হবে সেটি সঠিক হিসাব ছাড়া বলা যাচ্ছেনা। তবে প্রায় ১৫ বছর যাবত মসজিদ কমিটি পাচ্ছেনা। তাছাড়া ওয়াকফকৃত জমি ভাগিদার দিয়ে চাষাবাদ করার কথা থাকলেও তারা নিজেরাই সেটি করছে। ওয়াকফ দলিলের কোনো শর্তই বা বয়ানই তারা মানছেন না।
ডাকাতিয়া জামে মসজিদের সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন বিএ জানান, এ ব্যাপারে আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দাখিল করবো।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভালুকায় মসজিদের দানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৪

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে মসজিদের ওয়াকফকৃত সম্পত্তির আয় থেকে ২৫ ভাগ দানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ওয়াকফ দলিলের তিন মোতওয়াল্লী ও তাদের পরিবারের লোকজনের ওপর।
এলাকাবাসিরা জানায়, ডাকাতিয়া গ্রামের মৃত কাজিম উদ্দিনের ছেলে আবুল মাজম জীবিত থাকাবস্থায় তার সম্পদের ১২শতক জমি সরাসরি ডাকাতিয়া জামে মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। পরবর্তীতে ২১০৪নং দলিলে আরও ২ একর ৭০ শতক জমি একই মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। তবে সেই ওয়াকফ দলিলে আবুল মাজমের তিন মেয়ে জেলেমন নেছা, হাছনা খাতুন ও তাহেরুন নেছাকে মোতওয়াল্লী করেন। দলিলে উল্লেখ্য করা হয় যে সম্পদের বার্ষিক আয়ের ২৫ ভাগ মসজিদে দান করিবে এবং বাকী ৭৫ ভাগ যারা গরীব মিসকিন ও আবুল মাজমের বাৎসরিক ওরশ এবং মিলাদ মাহফিলের কাজে ব্যবহৃত হবে। কিন্তু ওয়াকফ দলিলের পর ২৫ ভাগ দানের অর্থ মসজিদে প্রদান করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে আবুল মাজমের ভাতিজা আব্দুর রহমান রাজিব বলেন, আমার চাচা আবুল মাজম মৃত্যুর পূর্বে ডাকাতিয়া জামে মসজিদের নামে ২ একর ৭০ শতক জমি ওয়াকফ করে দেন। ওয়াকফকৃত সম্পদের মাঝে চাষাবাদের জমিসহ বাড়িঘর ছিল। সেখানে দুতলা একটি টিনের ঘর, আরেকটি চার চালা টিনের ঘর ও রান্না ঘর ছিল। সেটি আবুল মাজমের মেয়ের নাতীরা লোকজন নিয়ে খুলে বিক্রি করে দেন। এতে আবুল মাজমের আপন চাচাত ভাই লাল মামুদ, সোনা মিয়া ও আশরাফ আলী বাধা দিলেও তাদের কোনো কথার তোয়াক্কা করেনি।
আবুল মাজমের নাতী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ডাকাতিয়া জামে মসজিদ নয় পাশের আল হুদা জামে মসজিদের নামে ২ একর ৭০শতক জমি ওয়াকফ করে দেন তার নানা। তারা ওই মসজিদেই ভাগের টাকা দান করছেন। বছরে ওয়াজ মাহফিল করেন তার আবুল মাজমের নামে। তবে দানের কোনো রশিদ বা প্রাপ্তি স্বীকারের কাগজ তাদের কাছে নেই। তাছাড়া তার নানার নামে বছরে করা মাহফিলের লিফলেটও তাদের সংরক্ষনে নেই।
এদিকে রাজিব আরও জানান, কোনো ওয়াজ মাহফিল করেনি তারা। তাছাড়া এই ডাকাতিয়া জামে মসজিদের নাম উল্লেখ করে দলিল হয়েছে। সেটি হবে কিভাবে। তাছাড়া পাশে মসজিদ হয়েছে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে চার বছর হয়। আর আবুল মাজম মারা গেছেন ১০-১৫ বছর হয়ে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে ডাকাতিয়া জামে মসজিদই ছিল। এখানেই সবাই নামাজ আদায় করতেন। এখন কয়েক বছর হল পাশেই মসজিদ নির্মাণ হয়েছে। ডাকাতিয়া জামে মসজিদে জমি ওয়াকফ করে দেওয়ার কথা তারা শুনেছেন।
ডাকাতিয়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আবুল মাজম এই মসজিদে ২ একর ৭০ শতক জমি ওয়াকফ করে দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত দলিলে উল্লেখিত ২৫ ভাগ মসজিদে দানের টাকা আমরা পাইনি। উল্টো আবুল মাজমের মেয়ে, জামাতা ও নাতীরা ওয়াকফকৃত সম্পদ জোরপূর্বক ভোগ দখল করে খাচ্ছে। তাদেরকে কিছু বলতে গেলেও অশোভন আচরণ করেন। তিনি আরও বলেন, কি পরিমাণ টাকা দানের হবে সেটি সঠিক হিসাব ছাড়া বলা যাচ্ছেনা। তবে প্রায় ১৫ বছর যাবত মসজিদ কমিটি পাচ্ছেনা। তাছাড়া ওয়াকফকৃত জমি ভাগিদার দিয়ে চাষাবাদ করার কথা থাকলেও তারা নিজেরাই সেটি করছে। ওয়াকফ দলিলের কোনো শর্তই বা বয়ানই তারা মানছেন না।
ডাকাতিয়া জামে মসজিদের সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন বিএ জানান, এ ব্যাপারে আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দাখিল করবো।