১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ২১ দফা দাবিতে ৩ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিতে ৩ ঘন্টায় বেতন বাড়লো ১হাজার
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ২১ দফা দাবিতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন জে এম আই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা।এ সময় আন্দোলনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ৩ ঘন্টা পর সেনাবাহিনী এসে যানজট স্বাভাবিক করেছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায় বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টায় কাজে যোগ না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সামনে  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে প্রায় ১৫শর বেশি শ্রমিক। এ সময় কোম্পানির পক্ষ থেকে কয়েকজন আন্দোলনককারীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তাদেরকে ধাওয়া দেয় শ্রমিকরা।এ সময় কয়েকটি গাড়িতে আক্রমণ করতে দেখা যায় শ্রমিকদের, খবর পেয়ে পুলিশ এসে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে দাবী মেনে নেওয়া হলে স্বাভাবিক হয়।
মেনে নেয়া উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো,প্রতিবছর ১০%হারে বেতন বৃদ্ধি, বর্তমানে ১হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধি,নাইট বিল ১০০ টাকা বৃদ্ধি ও টিফিন ৫০ টাকা,দুটি ঈদে উৎসবভাতা ৯০% বৃদ্ধি,পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নির্মাণ,প্রতিবছরের লভাংশ শ্রমআইন অনুযায়ী দিতে হবে,এমবিবিএস ২টি ডাক্তার থাকতে হবে,ওয়াশরুম ২৪ঘন্টা খোলা রাখতে হবে,শ্রমআইন অনুযায়ী কেজুয়াল ছুটি ও মেডিকেল ছুটি,শ্রমিকদের জন্য একটি এম্বুলেন্স,নারী পুরুষ শ্রমিকদের পোষাকের রং ভিন্ন করা,নারী পুরুষের আলাদা কেন্টিন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
জানা যায়, বিভিন্ন কারণে কোম্পানিটিতে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এর মধ্যে গত ১০ অক্টোবর কোম্পানি কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়। শ্রমিকদের দাবি, সেদিন সরকারি ঘোষণা উপেক্ষা করে বন্ধের দিন কারখানা খোলা রাখা এবং গজারিয়া উপজেলার রসুলপুর গ্রামের একজন শ্রমিক মর্নিং সেক্টরে কাজ করা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ছুটি না দিয়ে তার সাথে উল্টো খারাপ আচরণ করা হয়। দীর্ঘসময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তাকে হাসপাতালে না নিয়ে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। অসুস্থ অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় মারা যায় সেই শ্রমিক।এই ঘটনায় রাগে ফেটে পড়ে শ্রমিকরা। এরপর থেকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা।
আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মধ্যে ইয়াসিন ও হালিম   মিয়া বলেন, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করে তা অমানবিক। সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা করে না তারা। জোর করে শ্রমিকদের ওভারটাইম করতে বাধ্য করা হয়। অসুস্থ হলে হাসপাতালে যেতে দেওয়া হয় না। বিভিন্ন কারণে বাধ্য হয়ে ২১ দফা দাবি নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি।আমাদের কাজ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। বেঁধে দেওয়ার সময়ের ভেতরে নির্দিষ্ট পরিমাণ কাজ না করতে পারলে বেতন কাটা হয়। সরকারি ছুটি এমনকী ঈদের সময়ও আমরা ছুটি পাই না। এরকম অমানবিক নিয়ম অন্য কোনো কোম্পানিতে আছে কিনা আমরা জানি না। দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভে আজ আমরা বাধ্য হয়ে পথে নেমেছি।অসুস্থতার কারনে অফিস থেকে ২/১ ঘন্টা আগে বাহির হলে,আমাদের ওভারটাইম থেকে সে সময় কেটে দেয়।
এ সম্পর্কে জানতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মোস্তফা জামান(ভুট্টো) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘জেএমআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে কর্মরত শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো আমরা মেনে নিয়েছি।আমরা বরাবরই শ্রমিক বান্ধব,তাই শ্রমিকদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব সমঝোতায় যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছি।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনূর আক্তার জানান,  শ্রমিকরা ২১ দফা আন্দোলনে মহাসড়ক অবরোধ করলে বিষয়টি আমি জানতে পারলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে  মালিক পক্ষে সাথে কথা বলি। মালিক পক্ষ শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবী গুলো মেনে নেন। শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ২১ দফা দাবিতে ৩ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৪
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ২১ দফা দাবিতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন জে এম আই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা।এ সময় আন্দোলনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ৩ ঘন্টা পর সেনাবাহিনী এসে যানজট স্বাভাবিক করেছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায় বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টায় কাজে যোগ না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সামনে  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে প্রায় ১৫শর বেশি শ্রমিক। এ সময় কোম্পানির পক্ষ থেকে কয়েকজন আন্দোলনককারীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তাদেরকে ধাওয়া দেয় শ্রমিকরা।এ সময় কয়েকটি গাড়িতে আক্রমণ করতে দেখা যায় শ্রমিকদের, খবর পেয়ে পুলিশ এসে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে দাবী মেনে নেওয়া হলে স্বাভাবিক হয়।
মেনে নেয়া উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো,প্রতিবছর ১০%হারে বেতন বৃদ্ধি, বর্তমানে ১হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধি,নাইট বিল ১০০ টাকা বৃদ্ধি ও টিফিন ৫০ টাকা,দুটি ঈদে উৎসবভাতা ৯০% বৃদ্ধি,পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নির্মাণ,প্রতিবছরের লভাংশ শ্রমআইন অনুযায়ী দিতে হবে,এমবিবিএস ২টি ডাক্তার থাকতে হবে,ওয়াশরুম ২৪ঘন্টা খোলা রাখতে হবে,শ্রমআইন অনুযায়ী কেজুয়াল ছুটি ও মেডিকেল ছুটি,শ্রমিকদের জন্য একটি এম্বুলেন্স,নারী পুরুষ শ্রমিকদের পোষাকের রং ভিন্ন করা,নারী পুরুষের আলাদা কেন্টিন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
জানা যায়, বিভিন্ন কারণে কোম্পানিটিতে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এর মধ্যে গত ১০ অক্টোবর কোম্পানি কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়। শ্রমিকদের দাবি, সেদিন সরকারি ঘোষণা উপেক্ষা করে বন্ধের দিন কারখানা খোলা রাখা এবং গজারিয়া উপজেলার রসুলপুর গ্রামের একজন শ্রমিক মর্নিং সেক্টরে কাজ করা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ছুটি না দিয়ে তার সাথে উল্টো খারাপ আচরণ করা হয়। দীর্ঘসময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তাকে হাসপাতালে না নিয়ে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। অসুস্থ অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় মারা যায় সেই শ্রমিক।এই ঘটনায় রাগে ফেটে পড়ে শ্রমিকরা। এরপর থেকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা।
আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মধ্যে ইয়াসিন ও হালিম   মিয়া বলেন, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করে তা অমানবিক। সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা করে না তারা। জোর করে শ্রমিকদের ওভারটাইম করতে বাধ্য করা হয়। অসুস্থ হলে হাসপাতালে যেতে দেওয়া হয় না। বিভিন্ন কারণে বাধ্য হয়ে ২১ দফা দাবি নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি।আমাদের কাজ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। বেঁধে দেওয়ার সময়ের ভেতরে নির্দিষ্ট পরিমাণ কাজ না করতে পারলে বেতন কাটা হয়। সরকারি ছুটি এমনকী ঈদের সময়ও আমরা ছুটি পাই না। এরকম অমানবিক নিয়ম অন্য কোনো কোম্পানিতে আছে কিনা আমরা জানি না। দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভে আজ আমরা বাধ্য হয়ে পথে নেমেছি।অসুস্থতার কারনে অফিস থেকে ২/১ ঘন্টা আগে বাহির হলে,আমাদের ওভারটাইম থেকে সে সময় কেটে দেয়।
এ সম্পর্কে জানতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মোস্তফা জামান(ভুট্টো) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘জেএমআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে কর্মরত শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো আমরা মেনে নিয়েছি।আমরা বরাবরই শ্রমিক বান্ধব,তাই শ্রমিকদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব সমঝোতায় যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছি।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনূর আক্তার জানান,  শ্রমিকরা ২১ দফা আন্দোলনে মহাসড়ক অবরোধ করলে বিষয়টি আমি জানতে পারলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে  মালিক পক্ষে সাথে কথা বলি। মালিক পক্ষ শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবী গুলো মেনে নেন। শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন।