চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগ যুবলীগের হামলা ও শিক্ষার্থীদের আহতের প্রতিবাদে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধদের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ছাত্র সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়ামোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে যেয়ে ছাত্র সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় ইবি সমন্বয়ক এস এম সুইট, সহ-সমন্বয়ক তানভীর মন্ডল, ইয়াশিরুল কবীর সৌরভ, সায়েম আহমেদ সহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা আমাদের সংগ্রাম, চলছে চলবে; আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ; একশন একশন, ডাইরেক্ট একশন; আওয়ামী লীগের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান; ছাত্রলীগের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান; স্বৈরাচারের দোসরেরা হুশিয়ার সাবধান; চবিতে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই; আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করো করতে হবে ইত্যাদি বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আনসার, আইনজীবী সহ বিভিন্ন উপায়ে আমাদের বিপ্লবকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দালাল রাষ্ট্রপতি চুপ্পু আমাদের বিপ্লবকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি ভুল করে অবৈধ রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ গ্রহণ করেছে। এ সরকারকে অবৈধ সরকার হিসেবে আখ্যা দেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র চলছে। অবৈধ রাষ্ট্রপতিকে অনতিবিলম্বে তার পদ থেকে বিতাড়িত করতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে। এই সন্ত্রাসী সংগঠনকেও বাংলাদেশের মাটিতে নিষিদ্ধ করতে হবে।
সহ-সমন্বয়ক সায়েম আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের নব্য স্বাধীনতার নস্যাৎ করার লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদী শক্তি এখনো তাদের কালো হাত দেখাচ্ছে। আমার ভাইদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সেই রক্তের দাগ এখনো শুকায় নাই। স্বাধীনতার স্বাদ আমরা এখনো আস্বাদন করতে পারি নাই। যদি এই পরাজিত শক্তি ন্যূনতম উত্থানের চেষ্টা করে, প্রতিবিপ্লবের চেষ্টা করে লাশ ফেলে দেবো। কোন কথা না, কাউকে তোয়াক্কা করি না, সরাসরি লাশ ফেলে দেব। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সন্ত্রাসলীগের শেষ চিহ্নটুকু বাংলার মাটিতে থাকা পর্যন্ত আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করে যাব।
সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, প্রায় ১৫০০ শহীদের শাহাদাত বরণ ও ২৯ হাজার আহত ভাইবোনের আত্মত্যাগের ফলে আমরা আজকের স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু সেই পরাজিত শক্তি তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদী কায়দায় তাদের খায়েশ মেটানোর চেষ্টা করছে। যারা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ যুবলীগকে ধারণ করে, লালন করে তাদের প্রতি আপনারা চোখ কান খোলা রাখবেন। যদি দেখেন কোথাও তারা সংঘটিত হওয়ার চেষ্টা করছে তাদের প্রতিহত করবেন। আমাদের লড়াই সংগ্রাম শেষ হয়ে যায়নি, আগামী দিনেও আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই সংগ্রাম করতে হবে।























