০২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে এসবিএসকেএস’র সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন 

ময়মনসিংহে সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির (এসবিএসকেএস) ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে নগরীর অনুভব কমিউনিটি সেন্টারে এ উপলক্ষে সন্মাননা ক্রেস্ট, স্মরনিকা উন্মোচন, কেট কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাবেক সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার জ্যোতির্ময় সাহা।
সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কো ফেলো যুগ্ন সচিব (অবঃ) ডক্টর আশরাফুন্নেছা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুগ্ন সচিব ডক্টর আশরাফুন্নেছা বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যান সমিতি (এসবিএসকেএস) একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক এবং প্রাচীনতম বেসরকারি আর্থসামাজিক ও গবেষণা ভিত্তিক সংস্থা। বৃহত্তর ময়মনসিংহে কর্মকান্ডে জড়িত পুরনো এনজিও’র মধ্যে সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতি অন্যতম। এটি শুধুমাত্র সম্পদ প্রদানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্যই কাজ করছে না বরং মানবাধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রশিক্ষণ, প্রতিবন্ধী সহায়তা কার্যক্রম, গবেষণা কাজ এবং সুশাসন এবং আইনের ধারার সমাজকে সমর্থন করার জন্যও কাজ করছে। সংস্থাটি সক্রিয়ভাবে গবেষণা এবং গবেষণাকে প্রভাবিত করার উদ্যোগে নিযুক্ত রয়েছে এবং বিস্তৃত বিষয়ে সক্রিয় বিতর্ক এবং আলোচনার জন্য একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, এসবিএসকেএস  তথ্যপ্রযুক্তি তৈরির জ্ঞানকে উদ্দীপিত করে এবং গবেষণা, প্রচার এবং নীতি ওকালতির মাধ্যমে নীতিনির্ধারণকে প্রভাবিত করে তার দায়িত্ব পালন করে। এসবিএসকেএস স্টেকহোল্ডারদের জড়িত করার জন্য পারস্পরিক শক্তিশালীকরণের সরঞ্জাম হিসাবে গবেষণা এবং কথোপকথন স্থাপন করে। সুশাসন, সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সমর্থনে সমাজের প্রান্তিক গোষ্ঠীর জীবণ মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি।
ডক্টর আশরাফুন্নেছা বলেন, শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী শেখ সুলতান আহমেদকে। তিনি একজন ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি একাধারে ৪৭ বছর সততার সহিত প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব পালন করেছেন।  তার দীর্ঘ ৯২ বছর বয়সের প্রায় অর্ধেক সময় কেটেছে জনমানুষের কল্যাণকর কাজে। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে নিজ জেলা হতে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৩ বছর  আত্মগোপনে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। এই ক্ষণজন্মা মানুষটি ব্যক্তি জীবনেও নিঃসন্তান ছিলেন। আমি তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। আমি সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই এমন একটি বিশাল আয়োজন করার জন্য।
সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির
প্রধান নির্বাহী মোঃ নিজাম উদ্দিন হারুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ হারুন অর রশিদ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক রাজু আহমেদ, সারা সংস্থা ময়মনসিংহের নির্বাহী পরিচালক তুষার দারিং, গ্রামীন মানবিক উন্নয়ন সংস্থা (গ্রামাউস) ময়মনসিংহের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক আব্দুল খালেক। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, ড. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের কো-অর্ডিনেটর আরিফুজ্জামান পরাগ, সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সালেহা হামিদ ও  সালেহা খাতুনসহ প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সদস্যবৃন্দ, স্বজন ও উপকারভূগীরা।
জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহে এসবিএসকেএস’র সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন 

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০২৪
ময়মনসিংহে সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির (এসবিএসকেএস) ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে নগরীর অনুভব কমিউনিটি সেন্টারে এ উপলক্ষে সন্মাননা ক্রেস্ট, স্মরনিকা উন্মোচন, কেট কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাবেক সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার জ্যোতির্ময় সাহা।
সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কো ফেলো যুগ্ন সচিব (অবঃ) ডক্টর আশরাফুন্নেছা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুগ্ন সচিব ডক্টর আশরাফুন্নেছা বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যান সমিতি (এসবিএসকেএস) একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক এবং প্রাচীনতম বেসরকারি আর্থসামাজিক ও গবেষণা ভিত্তিক সংস্থা। বৃহত্তর ময়মনসিংহে কর্মকান্ডে জড়িত পুরনো এনজিও’র মধ্যে সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতি অন্যতম। এটি শুধুমাত্র সম্পদ প্রদানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্যই কাজ করছে না বরং মানবাধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রশিক্ষণ, প্রতিবন্ধী সহায়তা কার্যক্রম, গবেষণা কাজ এবং সুশাসন এবং আইনের ধারার সমাজকে সমর্থন করার জন্যও কাজ করছে। সংস্থাটি সক্রিয়ভাবে গবেষণা এবং গবেষণাকে প্রভাবিত করার উদ্যোগে নিযুক্ত রয়েছে এবং বিস্তৃত বিষয়ে সক্রিয় বিতর্ক এবং আলোচনার জন্য একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, এসবিএসকেএস  তথ্যপ্রযুক্তি তৈরির জ্ঞানকে উদ্দীপিত করে এবং গবেষণা, প্রচার এবং নীতি ওকালতির মাধ্যমে নীতিনির্ধারণকে প্রভাবিত করে তার দায়িত্ব পালন করে। এসবিএসকেএস স্টেকহোল্ডারদের জড়িত করার জন্য পারস্পরিক শক্তিশালীকরণের সরঞ্জাম হিসাবে গবেষণা এবং কথোপকথন স্থাপন করে। সুশাসন, সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সমর্থনে সমাজের প্রান্তিক গোষ্ঠীর জীবণ মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি।
ডক্টর আশরাফুন্নেছা বলেন, শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী শেখ সুলতান আহমেদকে। তিনি একজন ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি একাধারে ৪৭ বছর সততার সহিত প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব পালন করেছেন।  তার দীর্ঘ ৯২ বছর বয়সের প্রায় অর্ধেক সময় কেটেছে জনমানুষের কল্যাণকর কাজে। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে নিজ জেলা হতে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৩ বছর  আত্মগোপনে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। এই ক্ষণজন্মা মানুষটি ব্যক্তি জীবনেও নিঃসন্তান ছিলেন। আমি তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। আমি সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই এমন একটি বিশাল আয়োজন করার জন্য।
সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির
প্রধান নির্বাহী মোঃ নিজাম উদ্দিন হারুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ হারুন অর রশিদ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক রাজু আহমেদ, সারা সংস্থা ময়মনসিংহের নির্বাহী পরিচালক তুষার দারিং, গ্রামীন মানবিক উন্নয়ন সংস্থা (গ্রামাউস) ময়মনসিংহের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক আব্দুল খালেক। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, ড. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের কো-অর্ডিনেটর আরিফুজ্জামান পরাগ, সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সালেহা হামিদ ও  সালেহা খাতুনসহ প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সেহড়া বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সদস্যবৃন্দ, স্বজন ও উপকারভূগীরা।