১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিবালয়ে দুর্নীতির দায়ে অক্সফোর্ড একাডেমী স্কুল এর প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাত, স্বেচ্ছাচারিতা মুলক আচরন, অনিয়মতান্ত্রিক কাযর্কলাপ ও বিভিন্ন দুর্নীতির দায়ে শিবালয় উপজেলার অক্সফোর্ড একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মতিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.বেলাল হোসেন গত ১৭ অক্টোবর তাকে এ বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেন এবং গত ২০ অক্টোবর থেকে স্কুল খুলার পর থেকে তার এ বহিস্কারাদেশ কারযকর করা হয় বলে ইউএনও জানান।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যথানের পর পরই স্থানীয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের সহযোগীতায় বিদ্যালয়ের কমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতসহ নানাবিধ অনিয়ম নিয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও মো.বেলাল হোসেন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করেন। তদন্ত কমিটির তদন্তে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা মিলে এবং ব্যাপক অর্থ কেলেংকারি এবং বিভিন্ন দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়।এরপর অধ্যক্ষ মতিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন বিদ্যালয় সভাপতি ইউএনও মো. বেলাল হোসেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সভাপতি শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.বেলাল হোসেন বলেন, অধ্যক্ষ মতিনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।বিধিমালার আলোকে বিভাগীয় তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠণ করে দেয়া হয়েছে।তার বিরুদ্ধে দুর্ণীতির প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়ায় এখন বিভাগীয় তদন্ত শুরু হলো।এটা প্রমাণিত হলে এবং তারা সুপারিশ করলে তাকে চড়ান্ত বরখাস্তের জন্য আমরা বোর্ডে লিখব।
উল্লেখ্য ১৯৯৯ সালে প্রথমে কেজি স্কুল পরবর্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে  প্রতিষ্ঠা লাভ করে অক্সফোর্ড একাডেমী। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার মান নির্নয়ে এ বিদ্যালয় উপজেলার মধ্যে অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত।এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকেই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিলের অর্থ আত্মসাত, অনিয়ম-দুর্নীতি দায়ে গত ১০ মার্চ ২০১৪ ইং তারিখে ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক বহিস্কার হন তিনি। দীর্ঘ ৩৪ মাস বহিস্কার থাকার পর গত ১৬ জানুয়ারী ২০১৭ ইং তারিখে সাবেক সংসদ সদস্য এ,এম নাইমুর রহমান দুর্জয় ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের সহযোগীতায় তৎকালিন সভাপতি ইউএনও কামাল মোহাম্মদ রাশেদ তাকে স্বপদে বহাল করেন।এরপর থেকে তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন।কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নানা বিশৃঙ্খলা ও শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করেন তিনি । এ নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবক, শিক্ষক ও বিদ্যালয় হিতৈষীদের মাঝে দারুন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি উক্ত অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধান ও অডিট চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসলে বিদ্যালয় বর্তমান কিমিটির সভাপতি ইউওন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শিবালয়ে দুর্নীতির দায়ে অক্সফোর্ড একাডেমী স্কুল এর প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট সময় : ০৭:০৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০২৪
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাত, স্বেচ্ছাচারিতা মুলক আচরন, অনিয়মতান্ত্রিক কাযর্কলাপ ও বিভিন্ন দুর্নীতির দায়ে শিবালয় উপজেলার অক্সফোর্ড একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মতিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.বেলাল হোসেন গত ১৭ অক্টোবর তাকে এ বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেন এবং গত ২০ অক্টোবর থেকে স্কুল খুলার পর থেকে তার এ বহিস্কারাদেশ কারযকর করা হয় বলে ইউএনও জানান।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যথানের পর পরই স্থানীয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের সহযোগীতায় বিদ্যালয়ের কমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতসহ নানাবিধ অনিয়ম নিয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও মো.বেলাল হোসেন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করেন। তদন্ত কমিটির তদন্তে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা মিলে এবং ব্যাপক অর্থ কেলেংকারি এবং বিভিন্ন দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়।এরপর অধ্যক্ষ মতিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন বিদ্যালয় সভাপতি ইউএনও মো. বেলাল হোসেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সভাপতি শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.বেলাল হোসেন বলেন, অধ্যক্ষ মতিনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।বিধিমালার আলোকে বিভাগীয় তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠণ করে দেয়া হয়েছে।তার বিরুদ্ধে দুর্ণীতির প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়ায় এখন বিভাগীয় তদন্ত শুরু হলো।এটা প্রমাণিত হলে এবং তারা সুপারিশ করলে তাকে চড়ান্ত বরখাস্তের জন্য আমরা বোর্ডে লিখব।
উল্লেখ্য ১৯৯৯ সালে প্রথমে কেজি স্কুল পরবর্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে  প্রতিষ্ঠা লাভ করে অক্সফোর্ড একাডেমী। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার মান নির্নয়ে এ বিদ্যালয় উপজেলার মধ্যে অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত।এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকেই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিলের অর্থ আত্মসাত, অনিয়ম-দুর্নীতি দায়ে গত ১০ মার্চ ২০১৪ ইং তারিখে ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক বহিস্কার হন তিনি। দীর্ঘ ৩৪ মাস বহিস্কার থাকার পর গত ১৬ জানুয়ারী ২০১৭ ইং তারিখে সাবেক সংসদ সদস্য এ,এম নাইমুর রহমান দুর্জয় ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের সহযোগীতায় তৎকালিন সভাপতি ইউএনও কামাল মোহাম্মদ রাশেদ তাকে স্বপদে বহাল করেন।এরপর থেকে তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন।কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নানা বিশৃঙ্খলা ও শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করেন তিনি । এ নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবক, শিক্ষক ও বিদ্যালয় হিতৈষীদের মাঝে দারুন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি উক্ত অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধান ও অডিট চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসলে বিদ্যালয় বর্তমান কিমিটির সভাপতি ইউওন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।