জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর, ইউজিসির পাইলট কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির দাবিসহ ৩ দফা দাবিতে রাজপথে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে এসময় শিক্ষাভবনের সামনের চৌরাস্তা মোড়ে অবস্থান করে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল এসময় শিক্ষা ভবনে স্মারকলিপি দেয়।
আজ সোমবার বেলা ১ টার দিকে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
এর আগে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ত্ব চত্বরে মিলিত হয়ে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে রায়সাহেব বাজার মোড়, তাতিবাজার মোড় হয়ে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট মোড় হয়ে মিছিলটি শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নেই।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা- ‘দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের আবাসন, কবে দিবে প্রশাসন?’, ‘লেগেছে রে লেগেছে রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়, যত পারো রক্ত নাও,সেনাবাহিনীর হাতে ক্যাম্পাস দাও’, ‘জমি নিতেই ৬ বছর, হল হতে কয় বছর’, ‘টেন্ডারবাজ প্রশাসন চলবে না, চলবে না, মুলা ঝুলানো প্রশাসন চলবে না, চলবে না’, ‘বছরের পর বছর যায় প্রশাসন শুধু মুলা ঝুলায়সহ প্রশাসনকে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১ টা হল রয়েছে, তা সত্বেও তাদের পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। অথচ জগন্নাথ সব অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমাদের কেন যুক্ত করা হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের অধিকার ফিরে না পাই ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা সংগ্রাম করে যাব।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, আমরা ভেবেছিলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে উপাচার্য হলে দাবি আদায় হবে কিন্তু তা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মুলা ঝুলিয়ে রেখেছে। আমরা আর মুলায় বিশ্বাসী না। যদি কেও মনে করে চক্রান্ত করে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজে দুর্নীতি করবেন তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের উৎখাত করতে প্রস্তুত আছে।
আন্দোলনের মুখপাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌসিব মাহমুদ সোহান বলেন, ” আমরা জানি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়েরগুলোর মধ্যে জগন্নাথ বেশি বৈষম্যের শিকার। আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধ দাড়িয়েছি। আমরা আমাদের দাবি গুলোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রনালয়কে তিন দিনের একটি আল্টিমেটাম দিবো। এবং হিট প্রকল্পের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে আজকের মধ্যেই লিখিত দিতে হবে।”
দাবিগুলো হলো স্বৈরাচার আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রজেক্ট ডিরেক্টর কে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সাত দিনের মধ্যে সেনাবাহিনীর দক্ষ অফিসারদের হাতে এই দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা সহ ঘোষণা করতে হবে যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর হয়েছে। অবিলম্বে বাকি ১১ একর জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং পুরাতন ক্যাম্পাস নিয়ে স্বৈরাচার সরকারের আমলের সকল চুক্তি বাতিল করতে হবে। সম্প্রতি ইউজিসির ঘোষণাকৃত পাইলট প্রকল্পে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক বাজেট সর্বনিম্ন ৫০০ (পাঁচশত) কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।

























