০২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশসেরা পুরস্কার পাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভূয়া জন্ম নিবন্ধন ইস্যু

গত ছয় অক্টোবর জন্ম নিবন্ধন ও সর্বোচ্চ মৃত্যু নিবন্ধন ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম দক্ষতার সাথে সম্পাদনের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ সেরা পুরস্কার পায় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদ। অথচ সেই ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই গত এপ্রিল মাসের ২৪ তারিখে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার এক ব্যক্তির নামে নিয়মবহির্ভূত ভাবে একটি জন্ম নিবন্ধন ইস্যু করা হয়। সদ্য দেশসেরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচিত হওয়া পরিষদ থেকে মাস ছয়েক আগে এমন নিয়ম বহির্ভূত একটি জন্ম নিবন্ধন কিভাবে ইস্যু হলো তা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে ওই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাদের পাসওয়ার্ড ও আইডি হ্যাকড হয়েছিল জানিয়ে সেসময় এটি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সবুজ বাংলা পত্রিকাকে জানান।
জানা যায়, গত ৩ মার্চ সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার বুল বুল চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির নামে ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি জন্ম নিবন্ধন ইস্যু করা হয়। যা অনলাইনে লিপিবদ্ধ রয়েছে মর্মে জানতে পেয়ে তা যাচাইয়ে সরেজমিন গেলে লিপিবদ্ধ থাকার বিষয়টি পরিষদের উদ্যোক্তাও নিশ্চিত করেন। নিবন্ধনে বুল বুল চৌধুরীর পিতার নাম বানোয়ারী লাল চৌধুরী ও মাতার নাম শীলা রানী চৌধুরী। স্থায়ী ঠিকানা: দক্ষিণ ডুবাঐ, ডুবাঐ বাজার, ৩৩১০, পুটিজরী, বাহুবল, হবিগঞ্জ। জন্মস্থান: হবিগঞ্জ, বাংলাদেশ হিসেবে রয়েছে। তবে বর্তমান ঠিকানা জন্ম নিবন্ধনের কপিতে কোথাও লিপিবদ্ধ নেই। বুল বুল চৌধুরী বাহুবলে এই জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে বড় ধরনের জমি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদে গেলে পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহীদ উল্লাহ মন্ডলকে পাওয়া যায়নি।  সে বেশ কিছুদিন ধরে পরিষদে আসছে না বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ সবুজ বাংলা পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের পাসওয়ার্ড, আইডি একসময় হ্যাক হয়েগেছিল। এটা জানতে পেরে তাৎক্ষণিক পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়। আমার মনে হয় বুল বুল চৌধুরীর নামে যে আইডি হয়েছে তা হ্যাক করেই করা হয়েছে। কাগজে আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। চেয়ারম্যান সাহেবেরটা মনে হয় ঠিক আছে। কোনভাবে হয়তো কাগজটা চেয়ারম্যানের কাছে ধরে দিয়েছে উনি সই করে দিয়েছেন। যখন দেখছে আমার সই আছে তখন সে দিয়ে দিয়েছে। পরিষদে চেয়ারম্যান কতদিন ধরে আসেনা জানতে চাইলে তিনি বলেন উনি এক সপ্তাহ ধরে অফিসে আসছেন না।’
এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ মন্ডলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সবুজ বাংলা পত্রিকাকে বলেন, আমি মৌলভীবাজারের কোন স্বাক্ষর দিছি না। আমার ইউনিয়নের ঠিকানা এবং সচিবের স্বাক্ষর ছাড়া আমি কোন স্বাক্ষর দিই না, এগুলো দেইখা স্বাক্ষর দেই। পরিষদে না আসার বিষয়ে প্রশ্ন করলে উনি বলেন, আসতেছি, একটু ঝামেলা আছে, তাই পরিষদে বই কম। কানিহারীতেই আছি।’
ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) জুয়েল আহমেদ সবুজ বাংলা পত্রিকাকে বলেন, ‘কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়ে আমি অবগত না। তবে ইতিমধ্যে আইডি হ্যাক হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এটির ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটেছে কি-না তা আমার জানা নেই। বুল বুল চৌধুরীর জন্ম নিবন্ধনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনকরণ এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম দক্ষতার সাথে সম্পাদনের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়টি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এতে দেশসেরা ১০ ইউনিয়ন এর মধ্যে কানিহারী ইউনিয়ন (ত্রিশাল-ময়মনসিংহ) ১ম স্থান অধিকার করে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফের হাত থেকে সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ।
জনপ্রিয় সংবাদ

দেশসেরা পুরস্কার পাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভূয়া জন্ম নিবন্ধন ইস্যু

আপডেট সময় : ০৭:১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪
গত ছয় অক্টোবর জন্ম নিবন্ধন ও সর্বোচ্চ মৃত্যু নিবন্ধন ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম দক্ষতার সাথে সম্পাদনের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ সেরা পুরস্কার পায় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদ। অথচ সেই ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই গত এপ্রিল মাসের ২৪ তারিখে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার এক ব্যক্তির নামে নিয়মবহির্ভূত ভাবে একটি জন্ম নিবন্ধন ইস্যু করা হয়। সদ্য দেশসেরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচিত হওয়া পরিষদ থেকে মাস ছয়েক আগে এমন নিয়ম বহির্ভূত একটি জন্ম নিবন্ধন কিভাবে ইস্যু হলো তা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে ওই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাদের পাসওয়ার্ড ও আইডি হ্যাকড হয়েছিল জানিয়ে সেসময় এটি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সবুজ বাংলা পত্রিকাকে জানান।
জানা যায়, গত ৩ মার্চ সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার বুল বুল চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির নামে ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি জন্ম নিবন্ধন ইস্যু করা হয়। যা অনলাইনে লিপিবদ্ধ রয়েছে মর্মে জানতে পেয়ে তা যাচাইয়ে সরেজমিন গেলে লিপিবদ্ধ থাকার বিষয়টি পরিষদের উদ্যোক্তাও নিশ্চিত করেন। নিবন্ধনে বুল বুল চৌধুরীর পিতার নাম বানোয়ারী লাল চৌধুরী ও মাতার নাম শীলা রানী চৌধুরী। স্থায়ী ঠিকানা: দক্ষিণ ডুবাঐ, ডুবাঐ বাজার, ৩৩১০, পুটিজরী, বাহুবল, হবিগঞ্জ। জন্মস্থান: হবিগঞ্জ, বাংলাদেশ হিসেবে রয়েছে। তবে বর্তমান ঠিকানা জন্ম নিবন্ধনের কপিতে কোথাও লিপিবদ্ধ নেই। বুল বুল চৌধুরী বাহুবলে এই জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে বড় ধরনের জমি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদে গেলে পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহীদ উল্লাহ মন্ডলকে পাওয়া যায়নি।  সে বেশ কিছুদিন ধরে পরিষদে আসছে না বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ সবুজ বাংলা পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের পাসওয়ার্ড, আইডি একসময় হ্যাক হয়েগেছিল। এটা জানতে পেরে তাৎক্ষণিক পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়। আমার মনে হয় বুল বুল চৌধুরীর নামে যে আইডি হয়েছে তা হ্যাক করেই করা হয়েছে। কাগজে আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। চেয়ারম্যান সাহেবেরটা মনে হয় ঠিক আছে। কোনভাবে হয়তো কাগজটা চেয়ারম্যানের কাছে ধরে দিয়েছে উনি সই করে দিয়েছেন। যখন দেখছে আমার সই আছে তখন সে দিয়ে দিয়েছে। পরিষদে চেয়ারম্যান কতদিন ধরে আসেনা জানতে চাইলে তিনি বলেন উনি এক সপ্তাহ ধরে অফিসে আসছেন না।’
এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ মন্ডলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সবুজ বাংলা পত্রিকাকে বলেন, আমি মৌলভীবাজারের কোন স্বাক্ষর দিছি না। আমার ইউনিয়নের ঠিকানা এবং সচিবের স্বাক্ষর ছাড়া আমি কোন স্বাক্ষর দিই না, এগুলো দেইখা স্বাক্ষর দেই। পরিষদে না আসার বিষয়ে প্রশ্ন করলে উনি বলেন, আসতেছি, একটু ঝামেলা আছে, তাই পরিষদে বই কম। কানিহারীতেই আছি।’
ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) জুয়েল আহমেদ সবুজ বাংলা পত্রিকাকে বলেন, ‘কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়ে আমি অবগত না। তবে ইতিমধ্যে আইডি হ্যাক হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এটির ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটেছে কি-না তা আমার জানা নেই। বুল বুল চৌধুরীর জন্ম নিবন্ধনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনকরণ এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম দক্ষতার সাথে সম্পাদনের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়টি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এতে দেশসেরা ১০ ইউনিয়ন এর মধ্যে কানিহারী ইউনিয়ন (ত্রিশাল-ময়মনসিংহ) ১ম স্থান অধিকার করে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফের হাত থেকে সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ।