০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাকে হত্যা করে ফ্রীজে রাখেন ছেলে, অতঃপর র‍্যাবের হাতে আটক

বগুড়ায় ফ্রীজ থেকে মায়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১২) বগুড়া কোম্পানি। আটককৃত সাদ বিন আজিজুর রহমান (১৯) দুপচাঁচিয়ার দারুসসুন্নাহ কামিল মাদরাসা শিক্ষার্থী। কোম্পানি কমান্ডার এহতেশামুল হক খাঁন সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ১০ নভেম্বর জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জয়পুরপাড়া এলাকায় ‘আজিজিয়া মঞ্জিল’ নামে নিজ বাসায় আজিজুর রহমানের স্ত্রী উম্মে সালমা খাতুন (৫০) এর লাশ ডিপ ফ্রিজের ভিতর ঢুকিয়ে রাখে। দারুসসুন্নাহ কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা মসজিদের খতিব এর বাড়িতে হত্যাকান্ড এবং হত্যার পর লাশ ডিপ ফ্রিজের ভিতর রাখার মত নৃশংসের ঘটনায় উক্ত এলাকায় রীতিমতো ডাকাতি সহ হত্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় হত্যাকারী সন্দেহে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিহতের ছোট ছেলে মোঃ সাদ বিন আজিজুর রহমানকে কাহালু উপজেলার পাঁচপীর আড়োবাড়ী এলাকায় আসামীর দাদা রমজান মোল্লার বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত উম্মে সালমা খাতুনের সাথে আসামী মোঃ সাদ বিন আজিজুর রহমানের হাত খরচের টাকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবৎ ঝগড়া বিবাদ চলে আসছিলো এবং বাসা থেকে প্রায় প্রতিদিনই ৫০০-১০০০ টাকা হারিয়ে যেতো। ঘটনার দিন সকালে তার মা উম্মে সালমা খাতুনের সাথে হাত খরচের টাকা নিয়ে কথার কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডা হয়। পরে ছেলে রাগ করে সকালের নাস্তা না খেয়ে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুপচাঁচিয়া দারুসসুন্নাহ কামিল মাদ্রাসায় ক্লাস করার জন্য চলে যায়। মাদ্রসায় সকাল ১১টায় ক্লাসের বিরতি হলে মাদ্রাসার আশপাশ এবং তার বাসার কাছাকাছি এলাকায় ঘুরে বেড়ায় এবং অনুমান সাড়ে বারোটায় সে বাসায় প্রবেশ করে দেখতে পান তার মা বাসায় বসে একা বটি দিয়ে মিষ্টি কুমড়ার তরকারি কাটাকাটি করছিলো। এ সময় আসামী পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তার মায়ের পিছন দিক থেকে নাক-মুখ চেপে ধরে ধস্তাধস্তি শুরু করে। পরে নাক-মুখ দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে মায়ের শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে হত্যা নিশ্চিত করে।
পরে দুই হাত ওড়না দিয়ে বেঁধে বাসায় থাকা ডিপ ফ্রিজের ভিতর রেখে ফ্রিজের ঢাকনা লাগিয়ে দেয়। ঘটনাটি ডাকাতির ঘটনা হিসেবে সাজানোর জন্য বাসায় থাকা কুড়াল দিয়ে আলমারিতে কয়েকটি কোপ মেরে কুড়াল সেখানে রেখে বাসার মেইন গেইটে তালা দিয়ে বের হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে ছেলে নিজেই আবার মেইন গেটের তালা খুলে বাসায় প্রবেশ করে তার বাবা আজিজুর রহমানকে ফোন করে জানায় যে, মাকে বাসায় পাওয়া যাচ্ছে না।
তখন নিজ হাতেই ডিপ ফ্রিজের ঢাকনা খুলে মৃত দেহ উদ্ধার করে এবং ডাকাত দল এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। আটককৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
আজাদুর রহমান
জনপ্রিয় সংবাদ

মাকে হত্যা করে ফ্রীজে রাখেন ছেলে, অতঃপর র‍্যাবের হাতে আটক

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪
বগুড়ায় ফ্রীজ থেকে মায়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১২) বগুড়া কোম্পানি। আটককৃত সাদ বিন আজিজুর রহমান (১৯) দুপচাঁচিয়ার দারুসসুন্নাহ কামিল মাদরাসা শিক্ষার্থী। কোম্পানি কমান্ডার এহতেশামুল হক খাঁন সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ১০ নভেম্বর জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জয়পুরপাড়া এলাকায় ‘আজিজিয়া মঞ্জিল’ নামে নিজ বাসায় আজিজুর রহমানের স্ত্রী উম্মে সালমা খাতুন (৫০) এর লাশ ডিপ ফ্রিজের ভিতর ঢুকিয়ে রাখে। দারুসসুন্নাহ কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা মসজিদের খতিব এর বাড়িতে হত্যাকান্ড এবং হত্যার পর লাশ ডিপ ফ্রিজের ভিতর রাখার মত নৃশংসের ঘটনায় উক্ত এলাকায় রীতিমতো ডাকাতি সহ হত্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় হত্যাকারী সন্দেহে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিহতের ছোট ছেলে মোঃ সাদ বিন আজিজুর রহমানকে কাহালু উপজেলার পাঁচপীর আড়োবাড়ী এলাকায় আসামীর দাদা রমজান মোল্লার বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত উম্মে সালমা খাতুনের সাথে আসামী মোঃ সাদ বিন আজিজুর রহমানের হাত খরচের টাকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবৎ ঝগড়া বিবাদ চলে আসছিলো এবং বাসা থেকে প্রায় প্রতিদিনই ৫০০-১০০০ টাকা হারিয়ে যেতো। ঘটনার দিন সকালে তার মা উম্মে সালমা খাতুনের সাথে হাত খরচের টাকা নিয়ে কথার কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডা হয়। পরে ছেলে রাগ করে সকালের নাস্তা না খেয়ে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুপচাঁচিয়া দারুসসুন্নাহ কামিল মাদ্রাসায় ক্লাস করার জন্য চলে যায়। মাদ্রসায় সকাল ১১টায় ক্লাসের বিরতি হলে মাদ্রাসার আশপাশ এবং তার বাসার কাছাকাছি এলাকায় ঘুরে বেড়ায় এবং অনুমান সাড়ে বারোটায় সে বাসায় প্রবেশ করে দেখতে পান তার মা বাসায় বসে একা বটি দিয়ে মিষ্টি কুমড়ার তরকারি কাটাকাটি করছিলো। এ সময় আসামী পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তার মায়ের পিছন দিক থেকে নাক-মুখ চেপে ধরে ধস্তাধস্তি শুরু করে। পরে নাক-মুখ দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে মায়ের শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে হত্যা নিশ্চিত করে।
পরে দুই হাত ওড়না দিয়ে বেঁধে বাসায় থাকা ডিপ ফ্রিজের ভিতর রেখে ফ্রিজের ঢাকনা লাগিয়ে দেয়। ঘটনাটি ডাকাতির ঘটনা হিসেবে সাজানোর জন্য বাসায় থাকা কুড়াল দিয়ে আলমারিতে কয়েকটি কোপ মেরে কুড়াল সেখানে রেখে বাসার মেইন গেইটে তালা দিয়ে বের হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে ছেলে নিজেই আবার মেইন গেটের তালা খুলে বাসায় প্রবেশ করে তার বাবা আজিজুর রহমানকে ফোন করে জানায় যে, মাকে বাসায় পাওয়া যাচ্ছে না।
তখন নিজ হাতেই ডিপ ফ্রিজের ঢাকনা খুলে মৃত দেহ উদ্ধার করে এবং ডাকাত দল এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। আটককৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
আজাদুর রহমান