লবণের আগাম উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে কুতুবদিয়ায়। মহেশখালী, ঈদগাঁ ও কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ও চৌফলঢন্ডী ইউনিয়নে কয়েক দিনের মধ্যে ঘরে তুলতে পারবে লবণ এমটা জানিয়েছেন লবণ চাষীরা।
সাদা সোনা খ্যাত লবণ উৎপাদনের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে চাষীরা। তবে পুরোদমে মাঠে নামবে ডিসেম্বরের শুরুতে। মৌসুমের শেষ ঝড় বৃষ্টির আশঙ্কায় বেশির ভাগ লবণ চাষীরা এগোচ্ছে ডিমে তালে।
কক্সবাজার বিসিকও বলছে একই কথা। ১০-১৫ দিন পরে পুরোদমে লবণ উৎপাদন শুরু হবে জেলাজুড়ে। জেলার কুতুবদিয়া পেকুয়া, মগনামা, মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, কালারমারছড়া, হোয়ানক, কুতুবজুম, বড় মহেশখালী, ছোট মহেশখালী ও শাপলাপুর, কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী, ভারুয়াখালী, ঈদগাঁ ইউনিয়নের ইসলামপুর, পোকখালী, ইসলামাবাদ, নাপিতখালী, গোমাতলী টেকনাফের ণীলা হোয়াইঙ্কং, টেকনাফ সদর লবণ উৎপাদনের মুল হাব।
দেশের লবণ উৎপাদনে অন্যতম প্রধান জেলা কক্সবাজার। সাতক্ষীরা, খুলনা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আংশিক লবণ উৎপাদন হলেও লবণের সিংহভাগ উৎপাদন হয় কক্সবাজারে।
খোঁজনিয়ে জানাযায়, মহেশখালীর কিছু অংশে আগাম লবণ মাঠে কাজ করছে চাষীরা। বিশেষ করে মহেশখালী, ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, কালারমারছড়া, হোয়ানক, কুতুবজুম, বড় মহেশখালী, ছোট মহেশখালী ও শাপলাপুরের কিছু জায়গায় লবণ উৎপাদন হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে কুতুবদিয়ায় ৪ নভেম্বর মৌসুমের প্রথম লবণ উৎপাদন শুরু হয়। কক্সবাজারের খুরুশকুল, ভারুয়াখালী ও চৌফলদন্ডীতেও লবণ উৎপাদনের প্রস্তুতি দেখা গেছে।
লবণ চাষীদের তথ্য মতে, কুতুবদিয়ায় ৭০ শতাংশ, পেকুয়ায় ৫০ শতাংশ, টেকনাফে ১০ শতাংশ ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ৪০ শতাংশ মাঠ প্রস্তুত হয়েছে। বাকি উপজেলার চাষিরাও মাঠে নামতে শুরু করেছেন।
মহেশখালীর লবণ চাষী আবদুল খালেক এ মৌসুমে ৩ একর জমি লবণ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করেছেন। মাঠে নিরলস কাজ করছেন চাষীরা। লবণের বেড সমান করছে, পানি দিচ্ছে আর বিছানো কাগজে ফোটা ‘সাদা সোনা’ বেডের অদূরেই লবণ জমানোর গর্তে ফেলছে।
লবণ চাষী আতা উল্লাহ বলছেন, এখনো লবণের দাম কম, তবে আমদানি বন্ধ রয়েছে। লবণ চড়া দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী তারা। যদিও চলতি নভেম্বর গত বছরের তুলনায় লবণের দাম অনেক কম বলে জানিয়েছেন। মৌসুম ভালো হলে এবং লবণের ন্যায্য দাম পাবে বলে আশাবাদী তারা।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষের দিক থেকে মূলত লবণের মৌসুম শুরু। এসময়ে ২৬ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে দেড় লাখের অধিক মেট্রিক টন বেশি ধরা হয়েছে।
লবণের লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ে বিসিকের কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভুঁইয়া বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর লক্ষ্যমাত্রা আরো বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।
তবে এখনো পর্যন্ত পুরোদমে চাষিরা লবণ চাষ শুরু না করায় কত হাজার কৃষক রয়েছে তা নিশ্চিত করেনি বিসিক। পুরোদমে চাষাবাদ শুরু হলে জরিপ শেষে তা বলা যাবে বলে জানান।
গত বছরের তথ্য মতে, ৬৮ হাজার ৫০৫ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়েছিল ২৪ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন, যা বাণিজ্যিক লবণ উৎপাদন শুরুর পরবর্তী ৬২ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এবার তাপমাত্রা বেশি এবং ঝড়–বৃষ্টি না হলে লবণ উৎপাদন ২৬ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। দেশে লবণের বার্ষিক চাহিদা নির্ধারণ করা হয় ২৫ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রাশসক ( রাজস্ব) বিভীষণ কান্তি দাশ বলেন, কক্সবাজারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম লবণ শিল্পের জন্য সরকার বিশেষ নজর রেখেছে, বিসিকের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।






















