০৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আসামী দোষ স্বীকার করলেও তদন্ত কর্মকর্তার রিপোর্ট ভিন্ন খাতে প্রবাহিত

বগুড়ায় আইনজীবীর ছেলেকে হিরোইনে আসক্ত করে বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ধুনট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছে ভূক্তভোগী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী রাজ্জাকুল কবির বিদ্যুৎ। তবে বাদীর স্ত্রীর অভিযোগ মামলার বিষয়ে যথাযথ তথ্য প্রমাণ থাকলেও মামলার তদন্ত রিপোর্ট ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে।
বাদীর স্ত্রী ফৌজিয়া আখতার বিথি বেলকুচি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুনট, বগুড়াতে সহকারী শিক্ষিকা হিসাবে কর্মরত আছেন।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, আসামীগণ বাদীর ছেলেকে ফুটবল খেলার কথা বলে এলাঙ্গী বাজারে ডেকে নেয় এবং সেখানে বাজারের পাশে একটা জঙ্গলের ভিতর পরস্পর যোগসাজসে বাদীর নাবালক ছেলেকে হিরোইন সেবন করতে
বাধ্য করে। হেরোইন সেবনের দৃশা ভিডি ধারণা করে এবং পরবর্তীতে উক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে বাদীর নাবালক ছেলেকে তাদের সাথে নিয়মিত হেরোইন সেবন
করতে বাধ্য করে। বাদীর স্ত্রী কর্মসূত্রে থাকার সুযোগে আসামীগন বাদীর ছেলেকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাদীর স্ত্রীর ব্যবহৃত ৪ ভরিওজনের স্বর্ণের ব্রেসলেট এবং ২ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়।
যাহার আনুমানিক মূল্য ৬ লক্ষাধিক টাকা।
স্থানীয় বাজারে শামীম জুয়েলার্সে গেলে চোরাই স্বর্ণ জেনেও তা একজন ক্রয় করে এবং শামীম জুয়েলার্স এর মালিক নিজে কিনে সেটা বিক্রি করে।
পরে বাদীর ছেলে নিখোঁজ হলে বাদী ও বাদীর স্ত্রী সম্ভাব্য সকল স্থানে বাদীর ছেলেকে খুঁজে কোন সন্ধান পায়নি। পরে জানতে পারে তার ছেলেকে অপহরণ করে বগুড়া শহরের সুত্রাপুর পানির ট্যাংকির আশেপাশে রেখেছে। পরে অপহরণকারীরা অতিরিক্ত মাদক সেবনে করিয়ে ছেড়ে দেয় তাকে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সৈকত হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি বন্ধুদের প্রলোভনে পড়ে এসব করেছি। আর স্বর্ণ গহনা গুলো শামীম জুয়েলার্সের মালিক শামীম কিনে নেয়, আমাদের যে টাকা দেয়ার কথা ছিলো তা আমাদের দেয়নি। তবে তার সাথে যোগাযোগ করলে তার ফুফাতো ভাই ব্যাস্থতা দেখান। পরে তার ভাবি জানান, টাকা দিয়ে মামলা আপোষ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কাউন্সিলর সেলিম এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক আরিফুর রহমান জানান, মামলার তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। এখন আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। তদন্ত অপছন্দ হলে বাদী নারাজি দিতে পারবেন।
আমি শিক্ষকতা করি আমার স্বামী আইনজীবী আমরা আইনের সুবিচারের আশায় কোর্ট থেকে ডিবির অধীনে তদন্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু ডিবি কর্মকর্তা আমাদের মামলার তদন্তে মিথ্যা রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আসামি এবং জুয়েলার্স এর মালিক গহনা ক্রয় বিক্রয়ের কথা স্বীকার করেছে, তারপরেও তদন্তকারি কর্মকর্তা কিভাবে এতো এতো মিথ্যা রিপোর্ট দিলো?
আমি আশাহত তাহলে কি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা সুবিচারের আশা করা কি আমাদের ভুল ছিল?
আমরা কি সুবিচার পাবো না?
এ বিষয়ে স্কুল শিক্ষিকা ফৌজিয়া আখতার বিথি বলেন, শামীম জুয়েলার্স এর মালিক নুরুল ইসলাম আমার সামনে ও ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সামনে বলেছে রাতুল, সৈকত আমার ছেলের বন্ধু ওরা গহনা বিক্রি করতে আসলে আমি গহনা কিনে নিয়েছি এগুলো চুরি করে আনা কি না তা তো আমি জানি না।
জনপ্রিয় সংবাদ

আসামী দোষ স্বীকার করলেও তদন্ত কর্মকর্তার রিপোর্ট ভিন্ন খাতে প্রবাহিত

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪
বগুড়ায় আইনজীবীর ছেলেকে হিরোইনে আসক্ত করে বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ধুনট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছে ভূক্তভোগী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী রাজ্জাকুল কবির বিদ্যুৎ। তবে বাদীর স্ত্রীর অভিযোগ মামলার বিষয়ে যথাযথ তথ্য প্রমাণ থাকলেও মামলার তদন্ত রিপোর্ট ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে।
বাদীর স্ত্রী ফৌজিয়া আখতার বিথি বেলকুচি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুনট, বগুড়াতে সহকারী শিক্ষিকা হিসাবে কর্মরত আছেন।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, আসামীগণ বাদীর ছেলেকে ফুটবল খেলার কথা বলে এলাঙ্গী বাজারে ডেকে নেয় এবং সেখানে বাজারের পাশে একটা জঙ্গলের ভিতর পরস্পর যোগসাজসে বাদীর নাবালক ছেলেকে হিরোইন সেবন করতে
বাধ্য করে। হেরোইন সেবনের দৃশা ভিডি ধারণা করে এবং পরবর্তীতে উক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে বাদীর নাবালক ছেলেকে তাদের সাথে নিয়মিত হেরোইন সেবন
করতে বাধ্য করে। বাদীর স্ত্রী কর্মসূত্রে থাকার সুযোগে আসামীগন বাদীর ছেলেকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাদীর স্ত্রীর ব্যবহৃত ৪ ভরিওজনের স্বর্ণের ব্রেসলেট এবং ২ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়।
যাহার আনুমানিক মূল্য ৬ লক্ষাধিক টাকা।
স্থানীয় বাজারে শামীম জুয়েলার্সে গেলে চোরাই স্বর্ণ জেনেও তা একজন ক্রয় করে এবং শামীম জুয়েলার্স এর মালিক নিজে কিনে সেটা বিক্রি করে।
পরে বাদীর ছেলে নিখোঁজ হলে বাদী ও বাদীর স্ত্রী সম্ভাব্য সকল স্থানে বাদীর ছেলেকে খুঁজে কোন সন্ধান পায়নি। পরে জানতে পারে তার ছেলেকে অপহরণ করে বগুড়া শহরের সুত্রাপুর পানির ট্যাংকির আশেপাশে রেখেছে। পরে অপহরণকারীরা অতিরিক্ত মাদক সেবনে করিয়ে ছেড়ে দেয় তাকে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সৈকত হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি বন্ধুদের প্রলোভনে পড়ে এসব করেছি। আর স্বর্ণ গহনা গুলো শামীম জুয়েলার্সের মালিক শামীম কিনে নেয়, আমাদের যে টাকা দেয়ার কথা ছিলো তা আমাদের দেয়নি। তবে তার সাথে যোগাযোগ করলে তার ফুফাতো ভাই ব্যাস্থতা দেখান। পরে তার ভাবি জানান, টাকা দিয়ে মামলা আপোষ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কাউন্সিলর সেলিম এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক আরিফুর রহমান জানান, মামলার তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। এখন আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। তদন্ত অপছন্দ হলে বাদী নারাজি দিতে পারবেন।
আমি শিক্ষকতা করি আমার স্বামী আইনজীবী আমরা আইনের সুবিচারের আশায় কোর্ট থেকে ডিবির অধীনে তদন্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু ডিবি কর্মকর্তা আমাদের মামলার তদন্তে মিথ্যা রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আসামি এবং জুয়েলার্স এর মালিক গহনা ক্রয় বিক্রয়ের কথা স্বীকার করেছে, তারপরেও তদন্তকারি কর্মকর্তা কিভাবে এতো এতো মিথ্যা রিপোর্ট দিলো?
আমি আশাহত তাহলে কি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা সুবিচারের আশা করা কি আমাদের ভুল ছিল?
আমরা কি সুবিচার পাবো না?
এ বিষয়ে স্কুল শিক্ষিকা ফৌজিয়া আখতার বিথি বলেন, শামীম জুয়েলার্স এর মালিক নুরুল ইসলাম আমার সামনে ও ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সামনে বলেছে রাতুল, সৈকত আমার ছেলের বন্ধু ওরা গহনা বিক্রি করতে আসলে আমি গহনা কিনে নিয়েছি এগুলো চুরি করে আনা কি না তা তো আমি জানি না।