০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভাল নেই ঈশ্বরের আপনজনেরা

oplus_2

অস্পৃশ্য সনাতন সম্প্রদায়কে মহাত্মা গান্ধীজির দেওয়া নাম হলো হরিজন। হরিজন শব্দটির অর্থ ঈশ্বরের সন্তান। হরিজন শব্দটির মাধ্যমে মহাত্মা গান্ধী সমাজের অবহেলিত মানুষকে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

হরিজনরা সামাজিকভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত একটি জনগোষ্ঠী। হরিজনদের সমাজের মানুষ ঘৃণার চোখে দেখে। দেশের শহর, বন্দর কিংবা গ্রামগঞ্জে যারা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত সেসব ঝাড়ুদারকে হরিজন বলা হয়ে থাকে। হরিজনরা সনাতন ধর্মের সবচেয়ে নিচু শ্রেণির সম্প্রদায়। তাদের ভাষা, সংস্কৃৃতিতেও ভিন্নতা দেখা যায়।

এই সম্প্রদায়কে সমাজের মানুষ মেথর, সুইপার বলেই ডাকে। এই শব্দগুলিই তাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে এমনটাই মনে করতেন মহাত্মা গন্ধি। তাই তিনি সমাজে তাদের একটি সম্মানজনক স্থানে নেওয়ার জন্য নাম দিয়েছিলেন হরিজন মানে ঈশ্বরের আপনজন। কিন্তু তারা সমাজে এবং রাষ্ট্রে এখনো সেই সম্মানজনক স্থানের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর ৭৬ বছর পরেও হরিজনরা রাষ্ট্রে অধিকার বঞ্চিত এবং সমাজে সবচেয়ে নিচু শ্রেণি।

দেখা যায় হরিজনরা শহরের ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। ভোর সকালে তারা ঝাড়ু, বেলচা আর ট্রলি হাতে কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। বিট্রিশ আমলে জঙ্গল পরিষ্কার, চা-বাগানের কাজ, পয়নিষ্কাশন প্রভৃতি কাজের জন্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাদের এ দেশে আনা হয়। হরিজনদের কাছ থেকে সেবা নেওয়া যাবে, কিন্তু তাদের স্পর্শ করা যাবে না।

সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মহাত্মা গান্ধী দলিতদের মেথর, সুইপার না বলে হরিজন বলার অমোঘ বাণী দিয়ে গেছেন। কিন্তু সমাজ তাদের স্বীকৃতি দেয়নি। তারা মূল সমাজের সঙ্গে যুক্তও হতে পারেনি। হরিজনরা একটি খুপরি ঘরে কয়েকটি পরিবার মিলে একত্রে বসবাস করে থাকে। জায়গার অভাবে সবাই একসঙ্গে ঘুমাতে পারে না। পালাক্রমে একেকজনকে ঘুমাতে হয়। অনেক সময় ঘরের ভেতর পর্দা করে কক্ষ বানাতে হয়। রান্নার চুলাও শোয়ার ঘরে ঠাঁয় হয়। সব মিলিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ আর চরম কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় হরিজন সম্প্রদায়কে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আবাসন সঙ্কটের কারণে জামালপুরের হরিজন সম্প্রদায়ের প্রায় একশ পরিবার এক কক্ষেই একাধিক সদস্য নিয়ে বসবাস করে আসছেন।মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে এখানে বাস করছে হরিজনরা। বছরের পর বছর নোংড়া পরিবেশ আর ভাঙাচোরা ঘরে এসব পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করলেও নিরসনের উদ্যোগ নেই পৌর কর্তৃপক্ষের।

জানা যায়, ১৮৬৯ সালে জামালপুর পৌরসভা স্থাপনের পরপরই শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজে নিয়োজিত সুইপারদের আবাসন সমস্যা সমাধানে শহরের বজ্রাপুরে সুইপার কলোনি গড়ে তোলে পৌর কর্তৃপক্ষ। এই কলোনিতে দিন দিন জনসংখ্যা বাড়লেও গত দেড়শ বছরে বাড়েনি একটি ঘর কিংবা এক ইঞ্চি জমি। বর্তমানে কলোনিতে প্রায় ১০০  পরিবারে প্রায় পাঁচ শতাধিক লোক বসবাস করছে। কলোনিতে রয়েছে ছোট ছোট ১৯টি সেমিপাকা ঘর ও ১৭টি রান্না ঘর। প্রতিটি ঘরে ৫ থেকে ৬টি পরিবার গাদাগাদি করে বাস করছে। তাতেও জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় দিনের বেলা রান্না শেষে সেখানেই ঘুমিয়ে রাত কাটায় হরিজনরা। যে রান্না ঘরে হরিজনরা থাকছে সেসব ঘরের টিনের চাল জালের মতো ছিদ্র হয়ে গেছে। ঝড়-বৃষ্টির দিনে কাকভেজা হয়ে পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

কলোনীর বাসিন্দা সুদির বাসফোর বলেন,
আমার স্ত্রী এবং বিয়ের বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে একই রুমে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। বাসায় আত্মীয়-স্বজন আসলে মাঝে মাঝে আমাকে রাস্তায় রাত কাটাতে হয়।

কলোনির টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়েছে অনেক আগেই, তার উপর গোসলখানা মাত্র দুটি যেগুলো ব্যবহার করা যায় না বললেই চলে। যে কারণে সকাল থেকেই লাইন ধরতে হয় সবাইকে। বার বার পৌরসভায় জানানোর পরও তাদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কতৃপক্ষ হরিজনরা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বাস্থ্য সেবা নিতেও তাদের অবহেলার শিকার হতে হয়। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদেরকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয় আর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পথ বন্ধ কারণ তারা হরিজন সম্প্রদায়।

বেসরকারি হাসপাতালে হরিজনদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হলে ভদ্র সমাজের মানুষ তাদের হাসপাতালে সেবা নিতে আসবে না। হাসপাতালের সুনাম নষ্ট হবে। প্রতি মাসে হরিজন কলোনির বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা থাকলেও কখনোই স্বাস্থ্যকর্মীদের দেখা পায়নি এমনটাই জানান হরিজন কলোনির বাসিন্দারা।

শহর আর শহরবাসীকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেখে নগর সভ্যতার কারিগর যারা তাদের জীবনে ঘটেছে ছন্দপতন। জীবন সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ক্লান্ত হরিজনরা তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করে অন্য পেশায় নিয়োজিত করার স্বপ্ন দেখলেও সেই পথও বন্ধ। সুইপারের সন্তান তাই তাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করতে চায় না কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢুকতে দেওয়া হয় না হোটেল রেস্তোরাতেও খুব কষ্ট নিয়ে বললেন কলোনির কয়েকজন।

হরিজন কলোনির বাসিন্দা দুর্গা বাসফোর জানায়, তার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৫ জন। অথচ তাদের থাকার ঘর মাত্র একটি যার দৈর্ঘ্য ৯ ফিট আর প্রস্থ ৮ ফিট , জায়গা না হওয়ার কারনে খুব কষ্ট করে দিন রাত পার করতে হচ্ছে। এত কষ্ট আর সহ্য হচ্ছে না।

জানা যায়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৮০ শতাংশ সুইপার পদে জাত সুইপারদের নিয়োগের নিয়ম থাকলেও মানছে না কোনো প্রতিষ্ঠানই।

হরিজনদের অভিযোগ, কোটা অনুযায়ী তারা তো নিয়োগ পাচ্ছেই না বরং ঘুষ দিয়ে তাদের স্থান দখন করে নিচ্ছে সম্প্রদায়ের বাইরের লোকজন। ফলে হরিজন সম্প্রদায়ে বেকারের সংখ্যা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। কাজের অভাবে দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে, অভাব তাদের পিছু ছাড়ছে না।

জেলা সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী সুমন আদিত্য বলেন, হরিজন ছাড়া এক মুহূর্ত আমাদের চলা সম্ভব না অথচ তারা সমাজের সবচেয়ে বেশি অবহেলিত সম্প্রদায়। রাষ্ট্রের উচিত হরিজনদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, চাকরির ব্যবস্থা করা এবং সমাজে একটু সম্মান নিয়ে যেন তারা বেঁচে থাকতে পারে সেই নিশ্চয়তা প্রদান করে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। আমি মনে করি আমরা এই সম্প্রদায়কে অধিকার বঞ্চিত করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছি। সমাজে ঘৃনা উপেক্ষা করে এখন হরিজনদের মধ্যে কেউ কেউ শিক্ষিত হয়েছে। এরকম কয়েকজনের সাথে আমার পরিচয় আছে। তবে, হরিজনদেরও তাদের অধিকার পাওয়ার বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে এবং কথা বলতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাল নেই ঈশ্বরের আপনজনেরা

আপডেট সময় : ০৫:১১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪

অস্পৃশ্য সনাতন সম্প্রদায়কে মহাত্মা গান্ধীজির দেওয়া নাম হলো হরিজন। হরিজন শব্দটির অর্থ ঈশ্বরের সন্তান। হরিজন শব্দটির মাধ্যমে মহাত্মা গান্ধী সমাজের অবহেলিত মানুষকে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

হরিজনরা সামাজিকভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত একটি জনগোষ্ঠী। হরিজনদের সমাজের মানুষ ঘৃণার চোখে দেখে। দেশের শহর, বন্দর কিংবা গ্রামগঞ্জে যারা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত সেসব ঝাড়ুদারকে হরিজন বলা হয়ে থাকে। হরিজনরা সনাতন ধর্মের সবচেয়ে নিচু শ্রেণির সম্প্রদায়। তাদের ভাষা, সংস্কৃৃতিতেও ভিন্নতা দেখা যায়।

এই সম্প্রদায়কে সমাজের মানুষ মেথর, সুইপার বলেই ডাকে। এই শব্দগুলিই তাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে এমনটাই মনে করতেন মহাত্মা গন্ধি। তাই তিনি সমাজে তাদের একটি সম্মানজনক স্থানে নেওয়ার জন্য নাম দিয়েছিলেন হরিজন মানে ঈশ্বরের আপনজন। কিন্তু তারা সমাজে এবং রাষ্ট্রে এখনো সেই সম্মানজনক স্থানের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর ৭৬ বছর পরেও হরিজনরা রাষ্ট্রে অধিকার বঞ্চিত এবং সমাজে সবচেয়ে নিচু শ্রেণি।

দেখা যায় হরিজনরা শহরের ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। ভোর সকালে তারা ঝাড়ু, বেলচা আর ট্রলি হাতে কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। বিট্রিশ আমলে জঙ্গল পরিষ্কার, চা-বাগানের কাজ, পয়নিষ্কাশন প্রভৃতি কাজের জন্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাদের এ দেশে আনা হয়। হরিজনদের কাছ থেকে সেবা নেওয়া যাবে, কিন্তু তাদের স্পর্শ করা যাবে না।

সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মহাত্মা গান্ধী দলিতদের মেথর, সুইপার না বলে হরিজন বলার অমোঘ বাণী দিয়ে গেছেন। কিন্তু সমাজ তাদের স্বীকৃতি দেয়নি। তারা মূল সমাজের সঙ্গে যুক্তও হতে পারেনি। হরিজনরা একটি খুপরি ঘরে কয়েকটি পরিবার মিলে একত্রে বসবাস করে থাকে। জায়গার অভাবে সবাই একসঙ্গে ঘুমাতে পারে না। পালাক্রমে একেকজনকে ঘুমাতে হয়। অনেক সময় ঘরের ভেতর পর্দা করে কক্ষ বানাতে হয়। রান্নার চুলাও শোয়ার ঘরে ঠাঁয় হয়। সব মিলিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ আর চরম কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় হরিজন সম্প্রদায়কে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আবাসন সঙ্কটের কারণে জামালপুরের হরিজন সম্প্রদায়ের প্রায় একশ পরিবার এক কক্ষেই একাধিক সদস্য নিয়ে বসবাস করে আসছেন।মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে এখানে বাস করছে হরিজনরা। বছরের পর বছর নোংড়া পরিবেশ আর ভাঙাচোরা ঘরে এসব পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করলেও নিরসনের উদ্যোগ নেই পৌর কর্তৃপক্ষের।

জানা যায়, ১৮৬৯ সালে জামালপুর পৌরসভা স্থাপনের পরপরই শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজে নিয়োজিত সুইপারদের আবাসন সমস্যা সমাধানে শহরের বজ্রাপুরে সুইপার কলোনি গড়ে তোলে পৌর কর্তৃপক্ষ। এই কলোনিতে দিন দিন জনসংখ্যা বাড়লেও গত দেড়শ বছরে বাড়েনি একটি ঘর কিংবা এক ইঞ্চি জমি। বর্তমানে কলোনিতে প্রায় ১০০  পরিবারে প্রায় পাঁচ শতাধিক লোক বসবাস করছে। কলোনিতে রয়েছে ছোট ছোট ১৯টি সেমিপাকা ঘর ও ১৭টি রান্না ঘর। প্রতিটি ঘরে ৫ থেকে ৬টি পরিবার গাদাগাদি করে বাস করছে। তাতেও জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় দিনের বেলা রান্না শেষে সেখানেই ঘুমিয়ে রাত কাটায় হরিজনরা। যে রান্না ঘরে হরিজনরা থাকছে সেসব ঘরের টিনের চাল জালের মতো ছিদ্র হয়ে গেছে। ঝড়-বৃষ্টির দিনে কাকভেজা হয়ে পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

কলোনীর বাসিন্দা সুদির বাসফোর বলেন,
আমার স্ত্রী এবং বিয়ের বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে একই রুমে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। বাসায় আত্মীয়-স্বজন আসলে মাঝে মাঝে আমাকে রাস্তায় রাত কাটাতে হয়।

কলোনির টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়েছে অনেক আগেই, তার উপর গোসলখানা মাত্র দুটি যেগুলো ব্যবহার করা যায় না বললেই চলে। যে কারণে সকাল থেকেই লাইন ধরতে হয় সবাইকে। বার বার পৌরসভায় জানানোর পরও তাদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কতৃপক্ষ হরিজনরা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বাস্থ্য সেবা নিতেও তাদের অবহেলার শিকার হতে হয়। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদেরকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয় আর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পথ বন্ধ কারণ তারা হরিজন সম্প্রদায়।

বেসরকারি হাসপাতালে হরিজনদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হলে ভদ্র সমাজের মানুষ তাদের হাসপাতালে সেবা নিতে আসবে না। হাসপাতালের সুনাম নষ্ট হবে। প্রতি মাসে হরিজন কলোনির বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা থাকলেও কখনোই স্বাস্থ্যকর্মীদের দেখা পায়নি এমনটাই জানান হরিজন কলোনির বাসিন্দারা।

শহর আর শহরবাসীকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেখে নগর সভ্যতার কারিগর যারা তাদের জীবনে ঘটেছে ছন্দপতন। জীবন সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ক্লান্ত হরিজনরা তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করে অন্য পেশায় নিয়োজিত করার স্বপ্ন দেখলেও সেই পথও বন্ধ। সুইপারের সন্তান তাই তাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করতে চায় না কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢুকতে দেওয়া হয় না হোটেল রেস্তোরাতেও খুব কষ্ট নিয়ে বললেন কলোনির কয়েকজন।

হরিজন কলোনির বাসিন্দা দুর্গা বাসফোর জানায়, তার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৫ জন। অথচ তাদের থাকার ঘর মাত্র একটি যার দৈর্ঘ্য ৯ ফিট আর প্রস্থ ৮ ফিট , জায়গা না হওয়ার কারনে খুব কষ্ট করে দিন রাত পার করতে হচ্ছে। এত কষ্ট আর সহ্য হচ্ছে না।

জানা যায়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৮০ শতাংশ সুইপার পদে জাত সুইপারদের নিয়োগের নিয়ম থাকলেও মানছে না কোনো প্রতিষ্ঠানই।

হরিজনদের অভিযোগ, কোটা অনুযায়ী তারা তো নিয়োগ পাচ্ছেই না বরং ঘুষ দিয়ে তাদের স্থান দখন করে নিচ্ছে সম্প্রদায়ের বাইরের লোকজন। ফলে হরিজন সম্প্রদায়ে বেকারের সংখ্যা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। কাজের অভাবে দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে, অভাব তাদের পিছু ছাড়ছে না।

জেলা সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী সুমন আদিত্য বলেন, হরিজন ছাড়া এক মুহূর্ত আমাদের চলা সম্ভব না অথচ তারা সমাজের সবচেয়ে বেশি অবহেলিত সম্প্রদায়। রাষ্ট্রের উচিত হরিজনদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, চাকরির ব্যবস্থা করা এবং সমাজে একটু সম্মান নিয়ে যেন তারা বেঁচে থাকতে পারে সেই নিশ্চয়তা প্রদান করে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। আমি মনে করি আমরা এই সম্প্রদায়কে অধিকার বঞ্চিত করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছি। সমাজে ঘৃনা উপেক্ষা করে এখন হরিজনদের মধ্যে কেউ কেউ শিক্ষিত হয়েছে। এরকম কয়েকজনের সাথে আমার পরিচয় আছে। তবে, হরিজনদেরও তাদের অধিকার পাওয়ার বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে এবং কথা বলতে হবে।