০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কমিটি বিরোধ

রামগঞ্জে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৭

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কমিটি বিরোধের জেরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৯নং ভোলাকোট ইউনিয়নে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার নাগমুদ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আরমান হোসেন রাকিব ও সদস্য ফাহিম চৌধুরীর মধ্যে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। সোমবার দুপুরে ফাহিম ইউনিয়ন পরিষদে গেলে রাকিবের নেতৃত্বে একদল কর্মী তাকে মারধর করে। ফাহিমকে মারধরের প্রতিবাদে ঐদিন বিকেলেই বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং রাকিবের পদত্যাগের দাবি জানান। সমাবেশ শেষে উভয় গ্রুপ একত্রিত হলে আবার সংঘর্ষ বাঁধে। এতে বিএনপি নেতা কবির পাটোয়ারী (৫০), আহাম্মেদ তপু, ওহীদ উল্লা, বেলায়েত (৪২), তোফাজ্জল (৫২), সাইফুল ইসলাম (৪৫), যুবদলের রাজু পাটোয়ারী (২৮), শাহাদাত পাটোয়ারী, সিরাজ মিয়া (২৩), ছাত্রদলের শরীফ হোসেন, মিরাজ হোসেন, সিয়াম, ফাহিম, শাকিল, সাদ্দাম হোসেন (২১), সজীব (২৪), ইমন (২৪) আহত হয়। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন বাদে বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। ঘটনার সময় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল খায়ের মুকসুদী ও সাধারণ সম্পাদক নুর নবীসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সংঘর্ষের সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল খায়ের মুকসুদী বলেন, ছাত্রদলের একটি অংশ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। আমরা নেতাকর্মীরা বাজারে এলে দুই গ্ৰুপের সংঘর্ষ বাঁধে।
এ বিষয়ে ছাত্রদল সদস্য ফাহিম চৌধুরী বলেন, একতরফাভাবে আমাদের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে সভাপতি রাকিব আমাকে মারধর করে। এরপর তার নেতৃত্বে আরও একটি গ্রুপ আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আরমান হোসেন রাকিব বলেন, ইউনিয়নের ১, ২, ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করায় সামাজিক মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। এটাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বাঁধে।
রামগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারের বিপিএলে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

কমিটি বিরোধ

রামগঞ্জে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৭

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কমিটি বিরোধের জেরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৯নং ভোলাকোট ইউনিয়নে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার নাগমুদ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আরমান হোসেন রাকিব ও সদস্য ফাহিম চৌধুরীর মধ্যে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। সোমবার দুপুরে ফাহিম ইউনিয়ন পরিষদে গেলে রাকিবের নেতৃত্বে একদল কর্মী তাকে মারধর করে। ফাহিমকে মারধরের প্রতিবাদে ঐদিন বিকেলেই বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং রাকিবের পদত্যাগের দাবি জানান। সমাবেশ শেষে উভয় গ্রুপ একত্রিত হলে আবার সংঘর্ষ বাঁধে। এতে বিএনপি নেতা কবির পাটোয়ারী (৫০), আহাম্মেদ তপু, ওহীদ উল্লা, বেলায়েত (৪২), তোফাজ্জল (৫২), সাইফুল ইসলাম (৪৫), যুবদলের রাজু পাটোয়ারী (২৮), শাহাদাত পাটোয়ারী, সিরাজ মিয়া (২৩), ছাত্রদলের শরীফ হোসেন, মিরাজ হোসেন, সিয়াম, ফাহিম, শাকিল, সাদ্দাম হোসেন (২১), সজীব (২৪), ইমন (২৪) আহত হয়। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন বাদে বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। ঘটনার সময় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল খায়ের মুকসুদী ও সাধারণ সম্পাদক নুর নবীসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সংঘর্ষের সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল খায়ের মুকসুদী বলেন, ছাত্রদলের একটি অংশ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। আমরা নেতাকর্মীরা বাজারে এলে দুই গ্ৰুপের সংঘর্ষ বাঁধে।
এ বিষয়ে ছাত্রদল সদস্য ফাহিম চৌধুরী বলেন, একতরফাভাবে আমাদের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে সভাপতি রাকিব আমাকে মারধর করে। এরপর তার নেতৃত্বে আরও একটি গ্রুপ আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আরমান হোসেন রাকিব বলেন, ইউনিয়নের ১, ২, ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করায় সামাজিক মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। এটাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বাঁধে।
রামগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।