০৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে সমুদ্র বালিয়াড়ি দখল করে মারমেইড বিচ রিসোর্ট

মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি প্যাচারদ্বীপ এলাকায় বিশাল সৈকত বালিয়াড়ি এলাকা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে মারমেইড বিচ রিসোর্ট। সম্প্রতি বালিয়াড়ি দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা চলমান থাকলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে এই তা পরে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে। অভিযানের পর কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ মারমেইড বিচ রিসোর্টের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। বনবিভাগ মামলা করার কারণে স্হানীয় হিমছড়ি বিট কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শোভনকে বিভিন্ন মাধ্যমে হয়রানি  করার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের রামু উপজেলার পেঁচারদ্বীপ সৈকতের বালুচরের উপর নির্মিত অন্তত ৫ একর এলাকার অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল গত মাসের ২১ তারিখ। দিনব্যাপি অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করা হলেও আবারও সেই স্হাপনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে মারমেইড বীচ রিসোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বালিয়াড়িতে স্হাপনা গড়ে সেখানে করা হয়েছে ফুল মুন পার্টি। অভিযানকালিন কাঠের সেতু ভাঙ্গা হলেও আবারো কাঠের সাঁকোটি মেরামত করে চালু করা হয়েছে বালিযাড়িতে থাকা রিসোর্টগুলো। গত ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত সেখানে করা হয়েছে বানিং ক্র্যাব ফেস্টিভ্যাল। দখল করা সৈকতের বিশাল এলাকায় এই ফেস্টিভ্যাল করা হয়।
রামু উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল জানান, গত মাসে এই অভিযান পরিচালনা করা হলেও আবারো স্হাপনা তৈরি করা হযেছে কিনা তা জানা নেই । গত ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসে প্রায় ২০ একর জমি জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হলেও তৎকালিন সময়ের কিছু এমপি মন্ত্রীদের দাপট দেখিয়ে আবারো সেই জমি দখলে নিয়ে তৈরি করেছে মারমেইড রেস্তোরা। এখন প্রায় শত একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে এই  মারমেইড বিচ রিসোর্টটি। রিসোর্টের এলাকা বাড়াতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে দরিয়ানগর সৈকতের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক খাল ভরাট করে রেস্তোরাঁ তৈরির চেষ্টা চলছিল বেশকিছুদিন আগে থেকেই। রিসোর্টটির মালিক আনিসুল হক চৌধুরী সোহাগ। অভিযোগ উঠেছে, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইসিটিমন্ত্রী পলকসহ একাধিক মন্ত্রী-প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে সম্পর্কের বলয় দেখিয়ে একের পর এক সমুদ্রের বালিয়াড়ি দখল করেছেন সোহাগ। নিজেকে শেখ পরিবারের একজন দাবি করা সোহাগ দখলবাজি চালিয়ে গেলেও অজানা কারণে গত ১৫ বছর প্রশাসনের কেউ সেদিকে নজর দেননি। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রশাসনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বহমান খালের ওপর অবৈধ একটি সেতু নির্মাণ করেছেন যে সেতুর ওপর দিয়ে যেতে হবে সেই বিশেষ ডিজে ও মদের জোনে। তবে সেতুর কারণে খালে নৌকা চলাচল বিঘিঘ্নিত হচ্ছে। পর্যটনের দোহাই দিয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ড চললেও প্রশাসনের নিশ্চুপতায় প্রশ্ন উঠেছে স্হানীয় লোকজনের মনে।
অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারে কোন ভিআইপি আসলে এই রিসোর্টে আথিতিয়তা গ্রহণ করে অনেকেই। রিসোর্টের মালিক সোহাগ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন উর্ধ্বতন  কর্মকর্তার নাম দিয়ে বেশ বিশাল বালিয়াড়ি দখল করে সমুদ্র সৈকতে গড়ে তুলেছে বিশাল সাম্রাজ্য। এই বালিয়াড়ি যেন তার নিজস্ব সম্পদ এমনভাবে ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে । নামমাত্র কিছু জায়গা মারমেইড বিচ রিসোর্টের নামে থাকলেও তার বেশ কয়েকগুন অবৈধ দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যারফলে সরকার যেমন হারিয়েছে জমি তেমনি পরিবেশ প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান সমাজের সচেতন নাগরিকরা। বর্তমানে পর্যটন মৌসুম হওয়ার কারণে এখন  প্রতিষ্ঠানটি ডিজে ও মদের পার্টির জন্য বিশেষ জোন তৈরি করেছে ঝাউবীথির বাগানে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফুল মুন বিচ পার্টি’। এটা করতে গিয়ে কাটা পড়েছে শত শত ঝাউগাছ। উপড়ে ফেলা হয়েছে সমুদ্রসৈকত রক্ষায় রোপণ করা ঝাউবীথি। যার ফলে পরিবেশের পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশের একমাত্র ‘মেরিন ড্রাইভ সড়ক।
হিমছড়ির একটি ট্রলারের মাঝি রফিকুল ইসলাম বলেন, এ খাল দিয়েই স্হানীয় লোকজন ছোট ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে বের হতো। খালের ওপর সেতু নির্মাণ করায় সেতুর নিচ দিয়ে ট্রলার চালানো যাচ্ছে না। ফলে অনেকে তাদের মাছ ধরার ট্রলার বিক্রি করে দিয়েছেন।’
সম্প্রতি সরেজমিনে মারমেইড রিসোর্টে দেখা যায়, পর্যটক বা স্হানীয় লোকজন নির্মিত সেতু দিয়ে সেখানে প্রবেশ করতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। পরে ‘বিশেষ টোকেন হাতে দেওয়ার পর প্রবেশ করতে পারেন পর্যটকরা। স্হানীয় বাসিন্দাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কৌশলে একজনকে ম্যানেজ করে সেই সেতু দিয়ে বিশেষ জোনে। সেখানে গিয়ে দেখা মিলে শত শত ঝাউবীথি কেটে তৈরি করা হয়েছে নাচ-গানের মঞ্চ, কফিশপ, মদের বারস্বদৃশ্য বিশেষ জোন। এটি মূলত সমুদ্রে গজিয়ে ওঠা চর। জায়গাটিতে ঝাউবীথি রোপণ করেছিল উপকূলীয় বন বিভাগ, যেগুলো কেটে স্হাপনা তৈরি করেছে মারমেইড। প্রবেশের পথে বাধা দেওয়া মারমেইড রিসোর্টের কর্মী রেব হেম জানান, বিশেষ অনুমতি ছাড়া এই সেতুতে প্রবেশ নিষেধ। কর্তৃপক্ষের বিশেষ টোকেন ছাড়া এখানে কাউকে ঢুকতে দিতে নিষেধ করা হয়েছে। পরে রেস্টুরেন্টের কর্মী সালাম এসে দাবি করেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় রাতে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণ জানতে চাইলে ওসমান বলেন, ‘এখানে শুধু রুমে যারা আছেন, তারা আসতে পারবেন। আর প্রতি মাসে একটি বিশেষ ‘ডিজে পার্টি’ হয়। জনপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা ফি নেওয়া হয়। শুধু তারাই এখানে আসার অনুমতি পান। বিশেষ ডিজে পার্টিতে কী কী থাকে বা কী খাবার থাকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তেমন কিছু না, শুধু বিদেশি বিয়ার বা মদ, আর নাচ-গান থাকে। তবে ঝাউবীথি কেটে কেনো এমন স্হাপনা তৈরি করার বিষয়ে কেউ কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি। জানাযায়, ‘মারমেইডের মালিক সোহাগ স্হানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে হুমকিধমকি দিয়ে কিছু কাগজি জমি ক্রয় করেন। তারপর থেকে সেই জমির পাশের সমুদ্রসৈকতের বিশাল বালিয়াড়ি এলাকা অবৈধভাবে দখলে নেন। মারমেইডের বিশাল এলাকা।
জনপ্রিয় সংবাদ

এবারের বিপিএলে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

কক্সবাজারে সমুদ্র বালিয়াড়ি দখল করে মারমেইড বিচ রিসোর্ট

আপডেট সময় : ০৪:২৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি প্যাচারদ্বীপ এলাকায় বিশাল সৈকত বালিয়াড়ি এলাকা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে মারমেইড বিচ রিসোর্ট। সম্প্রতি বালিয়াড়ি দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা চলমান থাকলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে এই তা পরে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে। অভিযানের পর কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ মারমেইড বিচ রিসোর্টের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। বনবিভাগ মামলা করার কারণে স্হানীয় হিমছড়ি বিট কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শোভনকে বিভিন্ন মাধ্যমে হয়রানি  করার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের রামু উপজেলার পেঁচারদ্বীপ সৈকতের বালুচরের উপর নির্মিত অন্তত ৫ একর এলাকার অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল গত মাসের ২১ তারিখ। দিনব্যাপি অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করা হলেও আবারও সেই স্হাপনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে মারমেইড বীচ রিসোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বালিয়াড়িতে স্হাপনা গড়ে সেখানে করা হয়েছে ফুল মুন পার্টি। অভিযানকালিন কাঠের সেতু ভাঙ্গা হলেও আবারো কাঠের সাঁকোটি মেরামত করে চালু করা হয়েছে বালিযাড়িতে থাকা রিসোর্টগুলো। গত ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত সেখানে করা হয়েছে বানিং ক্র্যাব ফেস্টিভ্যাল। দখল করা সৈকতের বিশাল এলাকায় এই ফেস্টিভ্যাল করা হয়।
রামু উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল জানান, গত মাসে এই অভিযান পরিচালনা করা হলেও আবারো স্হাপনা তৈরি করা হযেছে কিনা তা জানা নেই । গত ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসে প্রায় ২০ একর জমি জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হলেও তৎকালিন সময়ের কিছু এমপি মন্ত্রীদের দাপট দেখিয়ে আবারো সেই জমি দখলে নিয়ে তৈরি করেছে মারমেইড রেস্তোরা। এখন প্রায় শত একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে এই  মারমেইড বিচ রিসোর্টটি। রিসোর্টের এলাকা বাড়াতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে দরিয়ানগর সৈকতের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক খাল ভরাট করে রেস্তোরাঁ তৈরির চেষ্টা চলছিল বেশকিছুদিন আগে থেকেই। রিসোর্টটির মালিক আনিসুল হক চৌধুরী সোহাগ। অভিযোগ উঠেছে, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইসিটিমন্ত্রী পলকসহ একাধিক মন্ত্রী-প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে সম্পর্কের বলয় দেখিয়ে একের পর এক সমুদ্রের বালিয়াড়ি দখল করেছেন সোহাগ। নিজেকে শেখ পরিবারের একজন দাবি করা সোহাগ দখলবাজি চালিয়ে গেলেও অজানা কারণে গত ১৫ বছর প্রশাসনের কেউ সেদিকে নজর দেননি। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রশাসনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বহমান খালের ওপর অবৈধ একটি সেতু নির্মাণ করেছেন যে সেতুর ওপর দিয়ে যেতে হবে সেই বিশেষ ডিজে ও মদের জোনে। তবে সেতুর কারণে খালে নৌকা চলাচল বিঘিঘ্নিত হচ্ছে। পর্যটনের দোহাই দিয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ড চললেও প্রশাসনের নিশ্চুপতায় প্রশ্ন উঠেছে স্হানীয় লোকজনের মনে।
অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারে কোন ভিআইপি আসলে এই রিসোর্টে আথিতিয়তা গ্রহণ করে অনেকেই। রিসোর্টের মালিক সোহাগ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন উর্ধ্বতন  কর্মকর্তার নাম দিয়ে বেশ বিশাল বালিয়াড়ি দখল করে সমুদ্র সৈকতে গড়ে তুলেছে বিশাল সাম্রাজ্য। এই বালিয়াড়ি যেন তার নিজস্ব সম্পদ এমনভাবে ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে । নামমাত্র কিছু জায়গা মারমেইড বিচ রিসোর্টের নামে থাকলেও তার বেশ কয়েকগুন অবৈধ দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যারফলে সরকার যেমন হারিয়েছে জমি তেমনি পরিবেশ প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান সমাজের সচেতন নাগরিকরা। বর্তমানে পর্যটন মৌসুম হওয়ার কারণে এখন  প্রতিষ্ঠানটি ডিজে ও মদের পার্টির জন্য বিশেষ জোন তৈরি করেছে ঝাউবীথির বাগানে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফুল মুন বিচ পার্টি’। এটা করতে গিয়ে কাটা পড়েছে শত শত ঝাউগাছ। উপড়ে ফেলা হয়েছে সমুদ্রসৈকত রক্ষায় রোপণ করা ঝাউবীথি। যার ফলে পরিবেশের পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশের একমাত্র ‘মেরিন ড্রাইভ সড়ক।
হিমছড়ির একটি ট্রলারের মাঝি রফিকুল ইসলাম বলেন, এ খাল দিয়েই স্হানীয় লোকজন ছোট ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে বের হতো। খালের ওপর সেতু নির্মাণ করায় সেতুর নিচ দিয়ে ট্রলার চালানো যাচ্ছে না। ফলে অনেকে তাদের মাছ ধরার ট্রলার বিক্রি করে দিয়েছেন।’
সম্প্রতি সরেজমিনে মারমেইড রিসোর্টে দেখা যায়, পর্যটক বা স্হানীয় লোকজন নির্মিত সেতু দিয়ে সেখানে প্রবেশ করতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। পরে ‘বিশেষ টোকেন হাতে দেওয়ার পর প্রবেশ করতে পারেন পর্যটকরা। স্হানীয় বাসিন্দাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কৌশলে একজনকে ম্যানেজ করে সেই সেতু দিয়ে বিশেষ জোনে। সেখানে গিয়ে দেখা মিলে শত শত ঝাউবীথি কেটে তৈরি করা হয়েছে নাচ-গানের মঞ্চ, কফিশপ, মদের বারস্বদৃশ্য বিশেষ জোন। এটি মূলত সমুদ্রে গজিয়ে ওঠা চর। জায়গাটিতে ঝাউবীথি রোপণ করেছিল উপকূলীয় বন বিভাগ, যেগুলো কেটে স্হাপনা তৈরি করেছে মারমেইড। প্রবেশের পথে বাধা দেওয়া মারমেইড রিসোর্টের কর্মী রেব হেম জানান, বিশেষ অনুমতি ছাড়া এই সেতুতে প্রবেশ নিষেধ। কর্তৃপক্ষের বিশেষ টোকেন ছাড়া এখানে কাউকে ঢুকতে দিতে নিষেধ করা হয়েছে। পরে রেস্টুরেন্টের কর্মী সালাম এসে দাবি করেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় রাতে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণ জানতে চাইলে ওসমান বলেন, ‘এখানে শুধু রুমে যারা আছেন, তারা আসতে পারবেন। আর প্রতি মাসে একটি বিশেষ ‘ডিজে পার্টি’ হয়। জনপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা ফি নেওয়া হয়। শুধু তারাই এখানে আসার অনুমতি পান। বিশেষ ডিজে পার্টিতে কী কী থাকে বা কী খাবার থাকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তেমন কিছু না, শুধু বিদেশি বিয়ার বা মদ, আর নাচ-গান থাকে। তবে ঝাউবীথি কেটে কেনো এমন স্হাপনা তৈরি করার বিষয়ে কেউ কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি। জানাযায়, ‘মারমেইডের মালিক সোহাগ স্হানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে হুমকিধমকি দিয়ে কিছু কাগজি জমি ক্রয় করেন। তারপর থেকে সেই জমির পাশের সমুদ্রসৈকতের বিশাল বালিয়াড়ি এলাকা অবৈধভাবে দখলে নেন। মারমেইডের বিশাল এলাকা।