স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বড় হৈবতপুরের মাঠে আব্দুলপুর গ্রামবাসীর চাষের জমি রয়েছে। সেখানে তারা বিভিন্ন ফসল চাষ করেন। মঙ্গলবার সকালে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালী-আব্দুলপুর ওয়ার্ডের মেম্বর আনিসুর রহমান আবাদী জমিতে সেচের পানি দিতে যান। এসময় তিনি পাশের জমির আইল কেটে দেন। এই নিয়ে বড় হৈবতপুর গ্রামের কয়েকজন চাষির সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এসময় বড় হৈবতপুর গ্রামবাসীর কাছে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হন মেম্বর আনিসুর রহমান। পরে তিনি ফিরে এসে গ্রামবাসীকে বিষয়টি জানালে তারা ক্ষুব্ধ হন একপ্রকার মাইকে ঘোষণা দিয়ে বড় হৈবতপুর মাঠে যান। এর আগে বড় হৈবতপুর গ্রামের কিছু লোক মাঠে ছিলেন। একপ্রকার দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গ্রামের মাতব্বরদের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষনিকভাবে থেমে যায়। পরে তারা আলোচনায় বসেন। কিন্তু আলোচনা শেষে মেম্বর আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে বড় হৈবতপুরের কয়েকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, হৈবতপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি রাজু জানান, তিনি ও বিএনপি কর্মী জিয়াউর, ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামীম (৩৬) এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কোষাধ্যক্ষ পাপ্পুসহ কয়েকজন গ্রামবাসী সংঘর্ষের খবর শুনে বড় হৈবপুর মাঠে যান ঘটনাটি মিমাংসার জন্য। আলোচনা শেষে তারা ফিরে আসছিলেন। এসময় মেম্বর আনিসুরের নেতৃত্বে তৌহিদুর , রমজান ও শফিসহ আরও কয়েকজন হামলা চালিয়ে তাদেরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। উপস্থিত লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে, আহত শফি জানান, হৈবতপুর মাঠে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে কমবেশি কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনিও একজন। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসলে বড় হৈবতপুরের লোকজন তাকে একা পেয়ে হাসপাতালের মধ্যে রেধড়ক মারধর করেছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার মিঠুন কুমার জানিয়েছেন, সংঘর্ষে আহত ৮ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এরমধ্যে গুরুতর ৪ জনকে ভর্তি করা হয়। বাকি ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে শফির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনায় রেফার্ড করা হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসির্) কাজী বাবুল জানিয়েছেন, সেচের পানি নিয়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এত কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।





















