০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘পকেট কমিটি’ বাতিলের দাবিতে একাট্টা তৃণমূল বিএনপি

‘দুঃসময়ে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে চলা নেতারা নবগঠিত কমিটিতে শীর্ষ পদ পেয়েছেন_এমন দাবি করে কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন-কর্মসূচি দিয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।তাদের দাবি,সম্প্রতি রাতের আঁধারে নান্দাইল উপজেলা বিএনপির পকেট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হয়েছে, যেখানে বিগত আওয়ামী দুঃশাসনে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি।
জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাত দুইটায় নান্দাইল উপজেলা বিএনপির ১১২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে।এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) কমিটি বাতিলের দাবিতে মোটরসাইকেল মিছিল বের করে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন পদবঞ্চিতরা। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় দিনের মতো সোমবারও দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, বিগত ১৭ বছর যারা আওয়ামী দুঃশাসনে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ঘোষিত কমিটিতে তাদের রাখা হয়নি। রাখা হয়েছে তাদের, যাদের বিগত সরকারি দলের নেতাকর্মীর সঙ্গে সখ্য ছিল। একারণে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। এমনকি অনতিবিলম্বে এই কমিটি বাতিল না করলে কঠিন কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সকাল এগারোটা থেকে নান্দাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের মোটরযান শ্রমিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন নেতাকর্মীরা। এমনকি ময়মনসিংহ- কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে চৌরাস্তা থেকে কানারামপুর পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন তারা। এসময় বিক্ষোভকারীরা ‘নিশি রাতের কমিটি মানি না, না মানবো না’, ‘আওয়ামী লীগের মদদপুষ্টদের কমিটি মানি না, না মানবো না’, ‘অবৈধ কমিটি বাতিল চাই করতে হবে’, ‘ত্যাগীদের মূল্যায়ন চাই, দিতে হবে’, _নানারকম স্লোগান দিতে থাকেন।
কমিটি প্রসঙ্গে নান্দাইল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদলের সভাপতি প্রার্থী মো. আকরাম হোসেন ফেরদৌস বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যারা আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন, তারা কমিটিতে স্থান পাননি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন এমন ব্যক্তিরাই সদ্য ঘোষিত কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। অনতিবিলম্বে নান্দাইল উপজেলা কমিটি বাতিল না করলে সকল পদবঞ্চিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে আমরা আরও কঠিন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইস্তেহারুল করিম টিপু সুলতান বলেন, গত ১৭ বছরে কোনো অত্যাচার নির্যাতনের শিকার বা কোনো মামলা হয়নি। তাছাড়া কমিটিতে অযোগ্য, অদক্ষ ও আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট লোকদের স্থান দেওয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্বাচিত করা হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই কমিটি বাতিল না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন সংগ্রাম চলবে।
উপজেলা ছাত্রদল নেতা হৃদয় হাসান বলেন, রাতের অন্ধকারে ঘরে বসে কমিটি গঠন করা হয়েছে।এই পকেট কমিটি কমিটি আমরা মানি না। গত ১৭ বছরে যাদের দলের অবদান নেই, যারা আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে চলেছে, তারা কমিটিতে ভালো অবস্থানে আছে। অথচ একজন মুক্তিযোদ্ধা ও রাজপথের যোদ্ধাকে ৬৭তম সদস্য করা হয়েছে। এই কমিটি বাতিল না করা পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।
এদিকে ইয়াসের খান চৌধুরীকে নবগঠিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ঘোষণা করায় তার সমর্থকরা রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আনন্দ মিছিল বের করলে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিয়ে  ৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে ।এছাড়াও দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। এসময় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায় এবং দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সংঘর্ষে আহত নবগঠিত উপজেলা বিএনপির সদস্য সাইদুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রের নেতাদের মতামতের ভিক্তিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের আনন্দ মিছিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কথিত বিএনপির নামধারী নেতা ও সমর্থকরা যেভাবে হামলা করেছে তা সংগঠনবিরোধী।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত দুইটায় দীর্ঘ ১১ বছর পর নান্দাইল উপজেলা বিএনপির ১১২ সদস্য বিশিষ্ট ও পৌর বিএনপির ৮১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। উপজেলা কমিটিতে সাবেক এমপি আনওয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীর ছেলে ইয়াসের খান চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল কাদিরকে সদস্য সচিব করা হয়। এছাড়াও কমিটিতে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক মেয়র আজিজুল ইসলাম পিকুলকে ও সদস্য সচিব করা হয় রফিকুল ইসলাম মনিরকে।
জনপ্রিয় সংবাদ

এবারের বিপিএলে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

‘পকেট কমিটি’ বাতিলের দাবিতে একাট্টা তৃণমূল বিএনপি

আপডেট সময় : ০৪:২৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
‘দুঃসময়ে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে চলা নেতারা নবগঠিত কমিটিতে শীর্ষ পদ পেয়েছেন_এমন দাবি করে কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন-কর্মসূচি দিয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।তাদের দাবি,সম্প্রতি রাতের আঁধারে নান্দাইল উপজেলা বিএনপির পকেট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হয়েছে, যেখানে বিগত আওয়ামী দুঃশাসনে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি।
জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাত দুইটায় নান্দাইল উপজেলা বিএনপির ১১২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে।এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) কমিটি বাতিলের দাবিতে মোটরসাইকেল মিছিল বের করে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন পদবঞ্চিতরা। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় দিনের মতো সোমবারও দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, বিগত ১৭ বছর যারা আওয়ামী দুঃশাসনে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ঘোষিত কমিটিতে তাদের রাখা হয়নি। রাখা হয়েছে তাদের, যাদের বিগত সরকারি দলের নেতাকর্মীর সঙ্গে সখ্য ছিল। একারণে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। এমনকি অনতিবিলম্বে এই কমিটি বাতিল না করলে কঠিন কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সকাল এগারোটা থেকে নান্দাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের মোটরযান শ্রমিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন নেতাকর্মীরা। এমনকি ময়মনসিংহ- কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে চৌরাস্তা থেকে কানারামপুর পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন তারা। এসময় বিক্ষোভকারীরা ‘নিশি রাতের কমিটি মানি না, না মানবো না’, ‘আওয়ামী লীগের মদদপুষ্টদের কমিটি মানি না, না মানবো না’, ‘অবৈধ কমিটি বাতিল চাই করতে হবে’, ‘ত্যাগীদের মূল্যায়ন চাই, দিতে হবে’, _নানারকম স্লোগান দিতে থাকেন।
কমিটি প্রসঙ্গে নান্দাইল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদলের সভাপতি প্রার্থী মো. আকরাম হোসেন ফেরদৌস বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যারা আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন, তারা কমিটিতে স্থান পাননি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন এমন ব্যক্তিরাই সদ্য ঘোষিত কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। অনতিবিলম্বে নান্দাইল উপজেলা কমিটি বাতিল না করলে সকল পদবঞ্চিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে আমরা আরও কঠিন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইস্তেহারুল করিম টিপু সুলতান বলেন, গত ১৭ বছরে কোনো অত্যাচার নির্যাতনের শিকার বা কোনো মামলা হয়নি। তাছাড়া কমিটিতে অযোগ্য, অদক্ষ ও আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট লোকদের স্থান দেওয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্বাচিত করা হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই কমিটি বাতিল না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন সংগ্রাম চলবে।
উপজেলা ছাত্রদল নেতা হৃদয় হাসান বলেন, রাতের অন্ধকারে ঘরে বসে কমিটি গঠন করা হয়েছে।এই পকেট কমিটি কমিটি আমরা মানি না। গত ১৭ বছরে যাদের দলের অবদান নেই, যারা আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে চলেছে, তারা কমিটিতে ভালো অবস্থানে আছে। অথচ একজন মুক্তিযোদ্ধা ও রাজপথের যোদ্ধাকে ৬৭তম সদস্য করা হয়েছে। এই কমিটি বাতিল না করা পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।
এদিকে ইয়াসের খান চৌধুরীকে নবগঠিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ঘোষণা করায় তার সমর্থকরা রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আনন্দ মিছিল বের করলে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিয়ে  ৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে ।এছাড়াও দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। এসময় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায় এবং দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সংঘর্ষে আহত নবগঠিত উপজেলা বিএনপির সদস্য সাইদুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রের নেতাদের মতামতের ভিক্তিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের আনন্দ মিছিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কথিত বিএনপির নামধারী নেতা ও সমর্থকরা যেভাবে হামলা করেছে তা সংগঠনবিরোধী।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত দুইটায় দীর্ঘ ১১ বছর পর নান্দাইল উপজেলা বিএনপির ১১২ সদস্য বিশিষ্ট ও পৌর বিএনপির ৮১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। উপজেলা কমিটিতে সাবেক এমপি আনওয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীর ছেলে ইয়াসের খান চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল কাদিরকে সদস্য সচিব করা হয়। এছাড়াও কমিটিতে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক মেয়র আজিজুল ইসলাম পিকুলকে ও সদস্য সচিব করা হয় রফিকুল ইসলাম মনিরকে।