সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব। রোববার বিকেলে এ মেলার পর্দা নামলো। মেলার শেষ দিনে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের চত্বর। গত ১৮ জানুয়ারী থেকে শুরু হয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারী শেষ হয় মাসব্যাপী এ লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব।
রোববার বিকেলে ফাউন্ডেশনের ময়ুরপঙ্খী মঞ্চে ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এ কে এম আজাদ সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম। তিনি সন্ধ্যায় মেলার সমাপনী ঘোষনা করেন।
অনুষ্ঠানে মাসব্যাপী এ মেলায় বিশেষ প্রর্দশনীর ৬৪ জন কারুশিল্পী, সাজসজ্জায় ৩ জন ও পুুতুল নাচ, বায়োস্কোপকে সম্মাননা স্বারক, প্রণোদনা ও ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। মাসব্যাপী এ লোকজ উৎসবে প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি দর্শকের সমাগম ঘটেছে।
দেশীয় সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনে আয়োজিত মাসব্যাপী এ মেলায় কর্মরত কারুশিল্প প্রদর্শনী, লোকজ প্রদর্শনী, পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ, নাগরদোলা, গ্রামীণ খেলাসহ বাহারী পণ্য সামগ্রীর প্রদর্শনের ব্যবস্থা ছিল। মাসব্যাপী এ উৎসবে প্রতিদিন লোকজ মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় বিভিন্ন স্কুলের ছেলে মেয়েদের পরিবেশনায় বিলুপ্ত প্রায় গ্রামীণখেলা, পুতুল নাচ, কর্মরত কারুশিল্পীর কারুপন্যের প্রর্শনীসহ নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও মেলায় গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম মাধ্যম ‘মৃৎশিল্পের প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন’ শিরোনামে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকাসহ কয়েকটি অঞ্চলের শিল্পীরা এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন।
ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক এ কে এম আজাদ সরকার জানান, এবারের মেলায় বিশেষ প্রদর্শনীতে ৩২টি ষ্টলে বাংলাদেশের ১৭ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ৬৪ কারুশিল্পী দেশের হারানো ঐতিহ্যকে আবার নতুন করে আবিস্কার করেছেন। প্রদর্শনীর গ্যালারীগুলো হলো সোনারগাঁয়ের জামদানী, কাঠের চিত্রিত হাতি- ঘোড়া-পুতুল, একতারা, বন্দরের রিকশা পেইটিং, মৌলভীবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শীতল পাটি, মাগুরা ও ঝিনাইদহের শোলাশিল্প, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি ও মৃৎশিল্প, কক্সবাজারের শাঁখা ঝিনুক শিল্প, রংপুরের শতরঞ্জি, ঠাকুরগাঁয়ের বাঁশের কারুশিল্প, কুমিল্লার খাদিশিল্প, তামা-কাঁসা-পিতলের কারুশিল্প, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারুশিল্প, কিশোরগঞ্জের টেরাকোটা পুতুল, বগুড়ার লোকজ খেলনা ও বাদ্রযন্ত্রসহ বিভিন্ন কারুশিল্পীরা তাদের স্বহস্তে তৈরি কারুপন্য প্রদর্শন করেন।
মেলার শেষ দিনে রোববার সন্ধ্যায় ফাউন্ডেশনের ময়ুরপঙ্খী মঞ্চে শিল্পীরা জাকজমকপূর্ণভাবে নানা অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। মেলায় আগত দর্শকরা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।





















