যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে ত্রুটিপূর্ণ সিজারে দুই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর গ্রামের বাবু মোল্যার স্ত্রী শারমিন বেগম (২৬) ও একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী আসমা বেগম (৩২)। অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মনজুরুল মুরশিদের ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রোপচারে একের পর এক রোগী মারা গেলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়না।
শারমিন বেগমের স্বামী বাবু মোল্যা জানান, শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নওয়াপাড়া ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে শারমিন বেগম (২৬) ও আসমা খাতুন (৩২) এর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। এসময় তাদের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এরপর তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে শারমিন খাতুনের অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোববার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। একই সময় অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অপর নারী আসমা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। আসমার মৃত্যুতে বিক্ষুদ্ধ স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালটি ভাঙচুর ও ঘেরাও করে। প্রসূতি শারমিন ও আসমার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেছিলেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মনজুরুল মুরশিদ।
শারমিন খাতুনের স্বামী বাবু মোল্যা বলেন, আমার স্ত্রীকে ফাতেমা হাসপাতালের ডাক্তার ভুল অপারেশন করে হত্যা করেছে। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
ফাতেমা হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকারী ডা. মনজুরুল মুরশিদ সাংবাদিকদের জানান, ভুল অস্ত্রোপচার নয়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কারণে দ্রুত খুলনায় পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এভাবে মৃত্যু হবে ভাবতেও পারছি না।
নওয়াপাড়া ফাতেমা হাসপাতালের মালিক রফিকুল ইসলাম বাঘা জানান, প্রথম দিন একজন মৃত্যুবরণ করেছিলো। রোববার দুপুরে আরো একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। দুই পরিবারের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের
গত ৩০ জুন ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে ডা. মুনজুরুল মুরশিদের ভুল সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে মারা যান চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার রাজের স্ত্রী ও অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামের আরশাফ শেখের মেয়ে ইতি বেগম (২২)। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ডা. মনজুরুল মুরশিদের ত্রুটিপূর্ণ সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে একের পর এক প্রসূতি রোগী মারা যাচ্ছে। ঘটনার পরে নামমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কোন ব্যবস্থা গ্রহণের নজির নেই।
সূত্র জানায়, ডা. মনজুরুল মুরশিদ খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে রয়েছেন। উর্ধ্বতন এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করেন সিভিল সার্জন অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। এই দুই কর্মকর্তা ডা. মনজুরুল মুরশিদের অধিনস্থ। ফলে তারা তদন্ত করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেবেন তা নিয়েও রয়েছে সমালোচনা। ফলে ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রোপচারে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় তিনি পার পেয়ে যান।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি নিজে অভয়নগরে ক্লিনিক ও হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করবো।





















