১০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে জমজমাট ইফতার বাজার

ফেনীতে রমজানের প্রথম দিন থেকেই  হোটেল রোস্তোঁরায় ইফতার কেনা—বেচায় উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। গত  রবিবার  প্রথম রোজার দিন থেকেই প্রতিনিয়ত সকাল থেকে  ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে নবী রেস্টুরেন্ট এন্ড বিরিয়ানী হাউজ, রহমানিয়া হোটেল, ইন বিসমিল্লাহ, নাহার চৌধুরী চাইনিজ রেস্টুরেন্টে, হোটেল সাউদিয়া, জেল রোডে ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টে, মডেল থানার বিপরিতে সৌদি আল ফাহাম রেস্টুরেন্টে, শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে স্টার লাইন সুইটস, বেস্ট ইন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, বড় মসজিদ রোডে আরজু হোটেল, রেডিক্স হোটেল ও বিভিন্ন ফাস্ট ফুডের দোকানেসহ শহরের নানা অলি গলিতে নানা রকম বাহারি ইফতার বিক্রি করতে দেখা গেছে। নবী রেস্টুরেন্টে এন্ড বিরিয়ানির হাউজের ক্রেতা প্রবাসী জয়নাল আবেদীন জানান, দীর্ঘ দিন পর দেশে এসেছি। তাই বাসায় কয়েক পদের ইফতার তৈরি করা হয়েছে তবু প্রথম দিন থেকে  পরিবারের সবার সাথে ইফতার করতে নবী হোটেলে এসেছি বাড়তি কিছু ইফতারি আইটেম নেয়ার জন্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ইফতার কিনতে হয়েছে। এখানে বিভিন্ন রকম মুখরোচক ইফতার পাওয়া যায়। ফেনী শহর ঘুরে দেখা যায়, একদিকে প্রথম রমজান অন্য দিকে সরকারি বন্ধের দিনে শহরের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোঁরার সামনে ভোজন রশিকদের দীর্ঘ লাইন। একদিকে রমজান অন্যদিকে ছুটির দিন তাই পরিবারের সবার সাথে নানা আইটেম দিয়ে ইফতার করতে হোটেলে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

 প্রতিদিন সকাল থেকে  হোটেল—রেস্তোরাঁর সামনে মালিক ও কর্মচারীদের ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থানে শোভা পেতে শুরু করে ইফতারসামগ্রী। আর ইফতারের ঘণ্টা দু’য়েক আগে থেকেই পড়ে বেচাকেনার ধুম পড়েছে। আর পথচারীসহ যারা বাইরে ইফতার করেন তাদের জন্য আসন বিন্যাস করে রাখা হয়েছে রেস্তোরাঁগুলোতে। ইফতারের আধা ঘণ্টা আগে থেকেই শুরু হয় রেস্টুরেন্টগুলোতে চেয়ার দখলের লড়াই। এমন চিত্র প্রত্যক্ষ করা যায় বেলা শেষে । প্রতিকেজি জিলাপি ১৪০ —১৮০ টাকা দইবুন্দিয়া

২৬০, ফিরনি কেজি ২৫০, চিকেন পরোটা ছোলা ১৮০ টাকা কেজি। কাবাবের মধ্যে চিকেন রেশমি কাবাব ৮০, চিকেন ফ্রাই ১০০ চিকেন স্টিক পিস ১০ — ১২০ চিকেন নাগেট ৮০—১০০বিফ জালি কাবাব ২০—৪৫, বিফ স্টিক ৫০—৬০ টাকা ও বাখরখানি ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পিস বিক্রি হচ্ছে।

ইফতারের দাম বাড়ার পেছনে কারণ হিসেবে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা বলেন, রোজা এলেই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। যে কারণে ইফতারসামগ্রীর দাম বাড়াতে হয়। এছাড়া এবার ভোজ্যতেলেরও দাম বেড়েছে, তা কারো অজানা নয়। নবী বিরিয়ানির হাউজের স্বত্ত্বাধিকারী কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, দুপুর ২ টা থেকে তাদের হোটেলে ভিড় করছে ক্রেতারা। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের ক্রেতারা দুপুর থেকে ভিড় করে। তবে ভোজন রসিকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে নানা ধরনের চিকেন আইটেম। প্রথম দিন ক্রেতাদের চাপ থাকায় আসরের নামাজের আগেই শেষ হয়ে গেছে সব ইফতার আইটেম। অনেক ক্রেতা ইফতার না পাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

রোজার প্রথম দিকে সাধারণত বাসা—বাড়িতে ইফতার আয়োজন থাকায় রেস্তোরাঁয় ভিড় থাকে কম । কিন্তু এবার ফেনীর সে দৃশ্যপট ভিন্ন। রোজার প্রথম দিন থেকেই রমরমা ফেনীর ইফতার বাজার। সেসব ইফতার সামগ্রী কিনে নিতে রোজাদারদের দীর্ঘ সারি প্রত্যক্ষ করা গেছে রেস্তোরাগুলোতে। রেস্টুরেন্ট ছাড়াও শহরের আনাচে—কানাচে দোকান ও ফুটপাতে ইফতার বিকিকিনি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

এবার ইফতারের নানা আয়োজন রয়েছে। ভোজন রসিকদের কাছে প্রিয় ‘পাতলা খিচুড়ি, ভুনা খিচুড়িতো আছেই। দিন শেষে খালি পেটে পাতলা খিচুড়ি শরীরে ভিন্ন মাত্রা যোগায়। গ্যাস্ট্রিকের জ্বালাপোড়া থেকে রেহাই পেতে পাতলা খিচুড়ি পছন্দের তালিকায় থাকে এক নম্বরে। এছাড়া রয়েছে জিলাপি, ছোলা, পেঁয়াজু। দোকানিরা জানান, প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকাইয়া আদলে তৈরি ইফতার সামগ্রীতে মজেছেন ক্রেতারা। স্পেশালের মধ্যে রয়েছে আস্তো খাসির মাংস দিয়ে তৈরি, আস্ত মোরগের রোস্ট, কাবাব, কোয়েল—কবুতর ভুনা, মোরগ পোলাও, পেস্তা বাদামের শরবত, মোরগ মুসাল্লাম, বটি কাবাব, টিকিয়া কাবাব, কোফতা, চিকেন কাঠি, শামি কাবাব, শিকের কাবাব, রোস্ট, কবুতরের রোস্ট, বিফ আখনি, মুরগির আখনি, হালুয়া, হালিম, কাশ্মীরি শরবত, ইসবগুলের ভূষি, পরোটাসহ অর্ধশতাধিক জাতের ইফতার সামগ্রী।

জেলা রেস্তোঁরা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও গার্ডেন রেস্টুরেন্টে পরিচালক নুরুল আফসার কবির শাহাজাদা জানান,নিত্যপন্যের মূল্য বৃদ্ধির কারনে শহরে বেশিরভাগ হোটেল রোস্তেরা বন্ধ হয়ে গেছে তবুও আমরা  কাষ্টমারদের কথা মাথায় রেখে লাভ কম হলেও হোটেল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি, রোজাদারদের পছন্দের তালিকায় থাকে ভুনা ও পাতলা খিচুড়ি। এসবের সঙ্গে ছোলা পেঁয়াজু, বেগুনি, বাখরখানি, জিলাপি ইত্যাদি তৈরি করেছি ইফতারে এবার প্রথম দিনেই ইফতারের বাজার জমে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারের বিপিএলে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

ফেনীতে জমজমাট ইফতার বাজার

আপডেট সময় : ১১:৪১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫

ফেনীতে রমজানের প্রথম দিন থেকেই  হোটেল রোস্তোঁরায় ইফতার কেনা—বেচায় উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। গত  রবিবার  প্রথম রোজার দিন থেকেই প্রতিনিয়ত সকাল থেকে  ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে নবী রেস্টুরেন্ট এন্ড বিরিয়ানী হাউজ, রহমানিয়া হোটেল, ইন বিসমিল্লাহ, নাহার চৌধুরী চাইনিজ রেস্টুরেন্টে, হোটেল সাউদিয়া, জেল রোডে ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টে, মডেল থানার বিপরিতে সৌদি আল ফাহাম রেস্টুরেন্টে, শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে স্টার লাইন সুইটস, বেস্ট ইন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, বড় মসজিদ রোডে আরজু হোটেল, রেডিক্স হোটেল ও বিভিন্ন ফাস্ট ফুডের দোকানেসহ শহরের নানা অলি গলিতে নানা রকম বাহারি ইফতার বিক্রি করতে দেখা গেছে। নবী রেস্টুরেন্টে এন্ড বিরিয়ানির হাউজের ক্রেতা প্রবাসী জয়নাল আবেদীন জানান, দীর্ঘ দিন পর দেশে এসেছি। তাই বাসায় কয়েক পদের ইফতার তৈরি করা হয়েছে তবু প্রথম দিন থেকে  পরিবারের সবার সাথে ইফতার করতে নবী হোটেলে এসেছি বাড়তি কিছু ইফতারি আইটেম নেয়ার জন্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ইফতার কিনতে হয়েছে। এখানে বিভিন্ন রকম মুখরোচক ইফতার পাওয়া যায়। ফেনী শহর ঘুরে দেখা যায়, একদিকে প্রথম রমজান অন্য দিকে সরকারি বন্ধের দিনে শহরের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোঁরার সামনে ভোজন রশিকদের দীর্ঘ লাইন। একদিকে রমজান অন্যদিকে ছুটির দিন তাই পরিবারের সবার সাথে নানা আইটেম দিয়ে ইফতার করতে হোটেলে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

 প্রতিদিন সকাল থেকে  হোটেল—রেস্তোরাঁর সামনে মালিক ও কর্মচারীদের ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থানে শোভা পেতে শুরু করে ইফতারসামগ্রী। আর ইফতারের ঘণ্টা দু’য়েক আগে থেকেই পড়ে বেচাকেনার ধুম পড়েছে। আর পথচারীসহ যারা বাইরে ইফতার করেন তাদের জন্য আসন বিন্যাস করে রাখা হয়েছে রেস্তোরাঁগুলোতে। ইফতারের আধা ঘণ্টা আগে থেকেই শুরু হয় রেস্টুরেন্টগুলোতে চেয়ার দখলের লড়াই। এমন চিত্র প্রত্যক্ষ করা যায় বেলা শেষে । প্রতিকেজি জিলাপি ১৪০ —১৮০ টাকা দইবুন্দিয়া

২৬০, ফিরনি কেজি ২৫০, চিকেন পরোটা ছোলা ১৮০ টাকা কেজি। কাবাবের মধ্যে চিকেন রেশমি কাবাব ৮০, চিকেন ফ্রাই ১০০ চিকেন স্টিক পিস ১০ — ১২০ চিকেন নাগেট ৮০—১০০বিফ জালি কাবাব ২০—৪৫, বিফ স্টিক ৫০—৬০ টাকা ও বাখরখানি ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পিস বিক্রি হচ্ছে।

ইফতারের দাম বাড়ার পেছনে কারণ হিসেবে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা বলেন, রোজা এলেই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। যে কারণে ইফতারসামগ্রীর দাম বাড়াতে হয়। এছাড়া এবার ভোজ্যতেলেরও দাম বেড়েছে, তা কারো অজানা নয়। নবী বিরিয়ানির হাউজের স্বত্ত্বাধিকারী কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, দুপুর ২ টা থেকে তাদের হোটেলে ভিড় করছে ক্রেতারা। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের ক্রেতারা দুপুর থেকে ভিড় করে। তবে ভোজন রসিকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে নানা ধরনের চিকেন আইটেম। প্রথম দিন ক্রেতাদের চাপ থাকায় আসরের নামাজের আগেই শেষ হয়ে গেছে সব ইফতার আইটেম। অনেক ক্রেতা ইফতার না পাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

রোজার প্রথম দিকে সাধারণত বাসা—বাড়িতে ইফতার আয়োজন থাকায় রেস্তোরাঁয় ভিড় থাকে কম । কিন্তু এবার ফেনীর সে দৃশ্যপট ভিন্ন। রোজার প্রথম দিন থেকেই রমরমা ফেনীর ইফতার বাজার। সেসব ইফতার সামগ্রী কিনে নিতে রোজাদারদের দীর্ঘ সারি প্রত্যক্ষ করা গেছে রেস্তোরাগুলোতে। রেস্টুরেন্ট ছাড়াও শহরের আনাচে—কানাচে দোকান ও ফুটপাতে ইফতার বিকিকিনি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

এবার ইফতারের নানা আয়োজন রয়েছে। ভোজন রসিকদের কাছে প্রিয় ‘পাতলা খিচুড়ি, ভুনা খিচুড়িতো আছেই। দিন শেষে খালি পেটে পাতলা খিচুড়ি শরীরে ভিন্ন মাত্রা যোগায়। গ্যাস্ট্রিকের জ্বালাপোড়া থেকে রেহাই পেতে পাতলা খিচুড়ি পছন্দের তালিকায় থাকে এক নম্বরে। এছাড়া রয়েছে জিলাপি, ছোলা, পেঁয়াজু। দোকানিরা জানান, প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকাইয়া আদলে তৈরি ইফতার সামগ্রীতে মজেছেন ক্রেতারা। স্পেশালের মধ্যে রয়েছে আস্তো খাসির মাংস দিয়ে তৈরি, আস্ত মোরগের রোস্ট, কাবাব, কোয়েল—কবুতর ভুনা, মোরগ পোলাও, পেস্তা বাদামের শরবত, মোরগ মুসাল্লাম, বটি কাবাব, টিকিয়া কাবাব, কোফতা, চিকেন কাঠি, শামি কাবাব, শিকের কাবাব, রোস্ট, কবুতরের রোস্ট, বিফ আখনি, মুরগির আখনি, হালুয়া, হালিম, কাশ্মীরি শরবত, ইসবগুলের ভূষি, পরোটাসহ অর্ধশতাধিক জাতের ইফতার সামগ্রী।

জেলা রেস্তোঁরা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও গার্ডেন রেস্টুরেন্টে পরিচালক নুরুল আফসার কবির শাহাজাদা জানান,নিত্যপন্যের মূল্য বৃদ্ধির কারনে শহরে বেশিরভাগ হোটেল রোস্তেরা বন্ধ হয়ে গেছে তবুও আমরা  কাষ্টমারদের কথা মাথায় রেখে লাভ কম হলেও হোটেল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি, রোজাদারদের পছন্দের তালিকায় থাকে ভুনা ও পাতলা খিচুড়ি। এসবের সঙ্গে ছোলা পেঁয়াজু, বেগুনি, বাখরখানি, জিলাপি ইত্যাদি তৈরি করেছি ইফতারে এবার প্রথম দিনেই ইফতারের বাজার জমে উঠেছে।