চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানার সিনেমা প্যালেস এলাকায় ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মারামারির একপর্যায়ে তিনজন ছুরিকাহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনো তারা কাউকে আটক করতে পারেনি। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে কেসিদে সড়কের মোহসেন আউলিয়া ট্রান্সপোর্ট নামক দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ছুরিকাঘাতে আহতরা হলেন—আজাদ, সাগর এবং সাইফুল। তারা সবাই মোহসেন আউলিয়া ট্রান্সপোর্টের কর্মচারি। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ছুরিকাঘাতের শিকার আজাদের ভাই তাসকিন বলেন, ‘জুয়েল এবং তার খালু মিলে মোহসেন আউলিয়া ট্রান্সপোর্ট নামে মালামাল পরিবহনের ব্যবসা শুরু করে। ব্যবসাটি মূলত সীতাকুণ্ড-বারআউলিয়া সড়কে। ব্যবসার একপর্যায়ে পার্টনারশিপ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। এরপর জুয়েল তার খালুকে ব্যবসার অংশীদার থেকে বাদ দিয়ে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘ব্যবসার দেনা-পাওনা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা ছিল অনেক আগে থেকে। সেটা মীমাংসাও হয়েছিল। আমার ভাই আজাদ ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো জুয়েলের সাথে। আজ হঠাৎ প্রতিষ্ঠানের সামনেই রনির ছেলে মাসুম আমার ভাইসহ তিনজনকে অতর্কিত ছুরিকাঘাত করে। আমরা চিকিৎসা শেষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, ‘সিনেমা প্যালেস এলাকায় দুপক্ষের মারামারিতে কয়েকজন ছুরিকাহত হয়েছে খবর পেয়েছি। সেখানে আমাদের মোবাইল টিম পাঠানো হয়েছে। যতটুকু জেনেছি, কুরিয়ার ব্যবসা সংক্রান্ত তাদের পূর্বশত্রুতা ছিল। এ ঘটনায় এখনো কেউ আটক নেই। তবে ভিকটিমদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহতরা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’###রুপম ভট্টাচার্য্য
চট্টগ্রামে সয়াবিনের খুচরা মূল্য ১৬০ টাকা নির্ধারণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে ভোজ্যতেলের (খোলা) আমদানিকারক থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) থেকে খোলা সয়াবিন তেল খুচরা বিক্রি হবে লিটার ১৬০ টাকায়। এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টায় নগরের সার্কিট হাউসে ভোজ্যতেল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এতে ওই দাম নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত দামের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
এর আগে, সোমবার (৩ মার্চ) বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটে দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে যান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।
পরিদর্শনে গিয়ে ‘ভোজ্যতেল উধাও’র সত্যতা পেয়ে তেলের উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ীদের বৈঠকে ডাকেন তারা দুজন। মঙ্গলবার ওই বৈঠকে সবার মতামতের ভিত্তিতে আমদানিকারক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত খোলা তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানিকারকরা ১৫৩ টাকা, ট্রেডার্সে ১৫৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ১৬০ টাকা প্রতিলিটার খোলা তেল বিক্রি করবে। যা আজ (মঙ্গলবার) থেকে কার্যকর হবে। আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। যেকোনো পর্যায়ে কেউ যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটি।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এতে ব্যবসায়ী গ্রুপ টিকে ও সিটি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা এবং ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে চসিক মেয়র বলেন, ‘রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতি। ভোজ্যতেলকে প্রাধান্য দিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত দামের বাইরে গিয়ে বেশি দামে কেউ বিক্রি করলে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকটের সুযোগে অনেকেই খোলা তেল বেশি দামে বিক্রি করছে। তাই আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে’ —যোগ করেন তিনি।
মেয়র শাহাদাত বলেন, ‘বাংলাদেশের বাইরে যেসব মুসলিম রাষ্ট্রগুলো আছে, সেগুলোতে রমজানে সওয়াবের উদ্দেশে ভর্তুকি দেয়। কম মূল্যে তারা পণ্য বিক্রি করে। কিন্তু একমাত্র আমাদের দেশ, বাংলাদেশ। যেখানে দেখা যায়, কতিপয় কিছু ব্যবসায়ীর কারণে রাতারাতি পণ্যের দাম বেড়ে যায়।’
জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি চসিক থেকেও বাজার মরিটরিং করা হবে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘অভিযানে গিয়ে যদি অধিকমূল্যে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট চলছে। সেটা কাটিয়ে উঠার জন্য সবার সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোলা সয়াবিন তেল খুচরায় সর্বোচ্চ ১৬০ টাকায় বিক্রি করা যাবে। কেউ চাইলে এরচেয়ে কমেও বিক্রি করা যাবে। তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া যাবে না। এ সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো ব্যবসায়ী খুচরা বা পাইকারি বাজারে বেশি দামে তেল বিক্রি করেন। তাহলে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





















