০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে দশ হাজার টিউবওয়েল অকেজো হওয়ার পথে, সুপেয় পানি সংগ্রহে বিরম্বনা

চরফ্যাশনে হস্তচালিত টিউবওয়েলে পাানি না ওঠায় ১০ হাজার টিউবওয়েল অকেজো হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষজন। হাসপাতাল ও বাসা বাড়িতে পানির সুপেয় চরম সংকটে শিশুসহ বৃদ্ধ মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
শুস্ক মওসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই চরফ্যাশনের সর্বত্র সুপেয় পানি সংগ্রহে সংকট দেখা দিয়েছে। চরফ্যাশনের কোথাও হস্তচালিত টিউবওয়েল স্বাভাবিক মাত্রায় পানি উত্তোলন হচ্ছে না। পানি সংগ্রহে নারী- পুরুষেরা এ টিউবওয়েল থেকে ও টিউবওয়েলে গিয়েও পানি সংগ্রহ করতে পারছে না। ফলে চরম সুপেয় পানি সংগ্রহে চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন তারা।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশনে ২১ ইউনিয়ন ১০ হাজার ৭৩ টি হস্তচালিত নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ হাজার ৮৫১ টি সচল রয়েছে। ২২২টি অকেজো, ২৮ টি এদের মধ্যে সংস্কার করা হয়েছ। তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরেরর তথ্য মতে টিউবওয়েলের সংখ্যা ১০ হাজার ৭৩ টি হলেও এর প্রকৃত সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি । অধিকাংশ বাড়িতে ব্যক্তি মালিকানায় টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে।

জানা গেছে , জমির দাম বৃদ্ধি হওয়ায় খাল দখল করে বরাট এবং পুকুর বরাট করায় এসবের সংখ্যায় কমে যাওয়ায় কৃষকরা গভীর নলকুপ স্থাপন করে কৃষিতে সেচ দেওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়ায় হস্তচালিত টিউবওয়েলে পানি ওঠছেনা। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে শুধু এসব কারণেই পানির স্থর নিচে নামছে না। নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গায় অতিরিক্ত টিউবওয়েল বসানোর কারণেও শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের বাবুল মাতব্বর বলেন, জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খাল বিল পুকুর নালা সব কিছু বরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়ায় হস্তচালিত টিউবওয়েলে সুপেয় পানি উত্তোলন ( সংগ্রহ) করা যাচ্ছে না। ফলে রান্না বান্নাসহ গৃহস্থালি কাজে প্রয়োজন মত পানি পাওয়া যায় না।
উত্তর মাদ্রাজ মহিলা দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক সোহাগ মাস্টার বলেন, দখলে পুকুর নালা খাল বিল সব কিছু ভরাট হয়ে যাচ্ছে, মরা খাল গুলোতেও পানির প্রবাহ না থাকায় সাবমার্সিবল গভীর নলকুপ স্থাপন করে ভুগর্ভস্থ পানি কৃষি জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ( বিএডিসি) চরফ্যাশন উপজেলার উপ সহকারী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলনের জন্য সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের অনুমোদন আমরা দেই না। মূলত নদী খাল থেকে পানি উত্তোলনের জন্য সেচের অনুমোদন রয়েছে । ব্যক্তি মালিকানায় ১ হাজার ৭২৮টি সেচ পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধ মার্সিবল নলকূপের সংখ্যা জানা নেই।

চরফ্যাশন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকৌশলী ফিরোজ বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে আমরা তথ্য পাচ্ছি হস্তচালিত টিউবওয়েল পানি ওঠছে না। গত বছরের এ বছরে ও ভূগর্ভস্থ পানির স্থর নিচে নেমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে এ সমস্যা দেখা দেয়। বর্ষা মৌসুমে সমস্যা থাকেনা। অপরিকল্পিত পুকুর বরাট ও অবৈধ সেচ পাম্প বসানোর কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোট পর্যবেক্ষণে দেশি-বিদেশি সাড়ে ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক

চরফ্যাশনে দশ হাজার টিউবওয়েল অকেজো হওয়ার পথে, সুপেয় পানি সংগ্রহে বিরম্বনা

আপডেট সময় : ০২:২২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

চরফ্যাশনে হস্তচালিত টিউবওয়েলে পাানি না ওঠায় ১০ হাজার টিউবওয়েল অকেজো হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষজন। হাসপাতাল ও বাসা বাড়িতে পানির সুপেয় চরম সংকটে শিশুসহ বৃদ্ধ মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
শুস্ক মওসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই চরফ্যাশনের সর্বত্র সুপেয় পানি সংগ্রহে সংকট দেখা দিয়েছে। চরফ্যাশনের কোথাও হস্তচালিত টিউবওয়েল স্বাভাবিক মাত্রায় পানি উত্তোলন হচ্ছে না। পানি সংগ্রহে নারী- পুরুষেরা এ টিউবওয়েল থেকে ও টিউবওয়েলে গিয়েও পানি সংগ্রহ করতে পারছে না। ফলে চরম সুপেয় পানি সংগ্রহে চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন তারা।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশনে ২১ ইউনিয়ন ১০ হাজার ৭৩ টি হস্তচালিত নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ হাজার ৮৫১ টি সচল রয়েছে। ২২২টি অকেজো, ২৮ টি এদের মধ্যে সংস্কার করা হয়েছ। তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরেরর তথ্য মতে টিউবওয়েলের সংখ্যা ১০ হাজার ৭৩ টি হলেও এর প্রকৃত সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি । অধিকাংশ বাড়িতে ব্যক্তি মালিকানায় টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে।

জানা গেছে , জমির দাম বৃদ্ধি হওয়ায় খাল দখল করে বরাট এবং পুকুর বরাট করায় এসবের সংখ্যায় কমে যাওয়ায় কৃষকরা গভীর নলকুপ স্থাপন করে কৃষিতে সেচ দেওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়ায় হস্তচালিত টিউবওয়েলে পানি ওঠছেনা। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে শুধু এসব কারণেই পানির স্থর নিচে নামছে না। নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গায় অতিরিক্ত টিউবওয়েল বসানোর কারণেও শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের বাবুল মাতব্বর বলেন, জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খাল বিল পুকুর নালা সব কিছু বরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়ায় হস্তচালিত টিউবওয়েলে সুপেয় পানি উত্তোলন ( সংগ্রহ) করা যাচ্ছে না। ফলে রান্না বান্নাসহ গৃহস্থালি কাজে প্রয়োজন মত পানি পাওয়া যায় না।
উত্তর মাদ্রাজ মহিলা দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক সোহাগ মাস্টার বলেন, দখলে পুকুর নালা খাল বিল সব কিছু ভরাট হয়ে যাচ্ছে, মরা খাল গুলোতেও পানির প্রবাহ না থাকায় সাবমার্সিবল গভীর নলকুপ স্থাপন করে ভুগর্ভস্থ পানি কৃষি জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ( বিএডিসি) চরফ্যাশন উপজেলার উপ সহকারী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলনের জন্য সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের অনুমোদন আমরা দেই না। মূলত নদী খাল থেকে পানি উত্তোলনের জন্য সেচের অনুমোদন রয়েছে । ব্যক্তি মালিকানায় ১ হাজার ৭২৮টি সেচ পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধ মার্সিবল নলকূপের সংখ্যা জানা নেই।

চরফ্যাশন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকৌশলী ফিরোজ বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে আমরা তথ্য পাচ্ছি হস্তচালিত টিউবওয়েল পানি ওঠছে না। গত বছরের এ বছরে ও ভূগর্ভস্থ পানির স্থর নিচে নেমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে এ সমস্যা দেখা দেয়। বর্ষা মৌসুমে সমস্যা থাকেনা। অপরিকল্পিত পুকুর বরাট ও অবৈধ সেচ পাম্প বসানোর কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।