০৭:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পীরগাছায় চাষে ব্যস্ত চরাঞ্চলের কৃষক, তিস্তার বুকে সবুজের সমারোহ

 রংপুরের পীরগাছায় চাষে ব্যস্ত চরাঞ্চলের কৃষক, তিস্তার ধু-ধু বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। যতদুর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ।তিস্তার চর এখন সবুজে ঢেকে গেছে। চাষাবাদ হচ্ছে ভুট্টা,  মিষ্টি কুমড়া,বাদাম, পেয়াঁজ, মরিচ, তিল, কাউনসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজি।এসব সবজি চাষে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন তিস্তা পাড়ের কৃষকরা।
প্রতিটি ফসল ভালো ফলন হওয়ায় তিস্তার বুকে সবজি  চাষে ব্যস্ত সময় পাড় করেছেন তিস্তা পারের কৃষকরা।গতকাল ২০ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে তিস্তা নদীর বিভিন্ন চর এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জনা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে তিস্তার চরে বিভিন্ন ফসলের ফলন ভালো হওয়ায় সবজি  চাষে ঝুঁকে পড়েছেন তিস্তা পারের কৃষকরা।
ধান চাষের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিস্তার চরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষাবাদ করছেন তারা। কৃষকরা জানান, ধান, গম চাষ করলে যে লাভ হয়, এর চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হয় সবজি চাষে। বিশেষ করে ভুট্টা চাষে বেশ লাভবান হচ্ছেন তারা। প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ মণ পর্যন্ত ভুট্টা হয়। যার মুল্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আর ব্যয় হয় বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। ভুট্টা ঘরে তোলার সময় পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভুট্টাচাষে বেশ লাভবান হবেন কৃষকরা। তারা আরো জানান, আগে তিস্তার চরগুলো পতিত ছিল। অন্য ফসলের আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় এসব জমিতে ফসল ফলানো হয়নি। এখন আধুনিক পদ্ধতিতে তিস্তা চরে নানামুখী রবিশস্য চাষ করা হচ্ছে। এতে ভালো ফলন এবং দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।
চরাঞ্চলের কোথাও কোনো ফাঁকা জমি নেই। সর্বত্রই কোন না কোন শস্য চাষ করা হচ্ছে। আর এ কারণেই তিস্তার চরসহ তিস্তার তিরবর্তী এলাকা এখন সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে।
এই উপজেলায় তিস্তার চর এলাকায় এ বছর রবিশস্যের ব্যাপক চাষ হয়েছে। পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এই উপজেলার  চরাঞ্চলে  বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।তিস্তা নদী পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
চর অঞ্চলের কৃষকরা তাদের জমা-জমিতে বিভিন্ন প্রকার রবি শস্যের চাষ করেছেন। রবি শস্যকে ঘিরে নদী গর্ভে নিঃস্ব হওয়া হাজার হাজার মানুষ এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, তিস্তার নদী এলাকায় হাজার হাজার মানুষ আবাদী জমি, বসতবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। এই নিঃস্ব পরিবার গুলো বাঁচার তাগিদে তাদের ঐতিহ্য ত্যাগ করে রিকসা, ভ্যান চালার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন ভাবে শ্রম বিক্রি করে চলেছে। তিস্তার নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় জেগে উঠা ছোট বড় চরগুলো তাদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
 এসব চর অঞ্চলের এলাকায় এখন রবি শস্য চাষ করে জীবিকার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছেন তারা। এক্ষেত্রে এসব চাষিদের বিনামুল্যে সার-বীজ দিয়ে সহায়তাও করা হয়েছে। তিস্তার বুক চিরে জেগে ওঠা চরগুলোতে পলি মিশ্রিত মাটি থাকায় এগুলোতে ভুট্টা, কাউন, মিষ্টি কুমড়া, বাদাম, মিষ্টি আলুর ফলন বেশ ভালো হওয়ায় কৃষকরা এসবের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কম খরচে অধিক ফলন পাওয়ায় এবং লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা আবাদের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান এখানকার রবি শস্যের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ ভাগই চরাঞ্চলে চাষ হচ্ছে। কৃষকের হাতে উপযুক্ত সময়ে কৃষি উপকরণ ও পরামর্শ পাওয়ার কারণে লাভ জনক আবাদ ভুট্টার চাষ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সাথে বালি ও মাটি বয়ে আসায় দ্রুত তিস্তার তলদেশ ভরাট হয়ে গিয়ে অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। বালুর সাথে পলি মাটির স্তর পড়ে এসব চরকে আবাদী করে তুলছে। পলি মিশ্রিত এসব চরে ভুট্টা, কাউন, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, বরবটি, মিষ্টি আলু, বাদাম, করলা, বেগুন, পুঁইশাক, লাউ শাকসহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষের ধুম পড়ে গেছে।
বর্ষা মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চর অঞ্চলের  রবিশস্য চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন এই চর অঞ্চলের কৃষকরা।
জনপ্রিয় সংবাদ

এবারের বিপিএলে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

পীরগাছায় চাষে ব্যস্ত চরাঞ্চলের কৃষক, তিস্তার বুকে সবুজের সমারোহ

আপডেট সময় : ০২:২৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫
 রংপুরের পীরগাছায় চাষে ব্যস্ত চরাঞ্চলের কৃষক, তিস্তার ধু-ধু বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। যতদুর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ।তিস্তার চর এখন সবুজে ঢেকে গেছে। চাষাবাদ হচ্ছে ভুট্টা,  মিষ্টি কুমড়া,বাদাম, পেয়াঁজ, মরিচ, তিল, কাউনসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজি।এসব সবজি চাষে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন তিস্তা পাড়ের কৃষকরা।
প্রতিটি ফসল ভালো ফলন হওয়ায় তিস্তার বুকে সবজি  চাষে ব্যস্ত সময় পাড় করেছেন তিস্তা পারের কৃষকরা।গতকাল ২০ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে তিস্তা নদীর বিভিন্ন চর এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জনা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে তিস্তার চরে বিভিন্ন ফসলের ফলন ভালো হওয়ায় সবজি  চাষে ঝুঁকে পড়েছেন তিস্তা পারের কৃষকরা।
ধান চাষের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিস্তার চরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষাবাদ করছেন তারা। কৃষকরা জানান, ধান, গম চাষ করলে যে লাভ হয়, এর চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হয় সবজি চাষে। বিশেষ করে ভুট্টা চাষে বেশ লাভবান হচ্ছেন তারা। প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ মণ পর্যন্ত ভুট্টা হয়। যার মুল্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আর ব্যয় হয় বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। ভুট্টা ঘরে তোলার সময় পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভুট্টাচাষে বেশ লাভবান হবেন কৃষকরা। তারা আরো জানান, আগে তিস্তার চরগুলো পতিত ছিল। অন্য ফসলের আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় এসব জমিতে ফসল ফলানো হয়নি। এখন আধুনিক পদ্ধতিতে তিস্তা চরে নানামুখী রবিশস্য চাষ করা হচ্ছে। এতে ভালো ফলন এবং দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।
চরাঞ্চলের কোথাও কোনো ফাঁকা জমি নেই। সর্বত্রই কোন না কোন শস্য চাষ করা হচ্ছে। আর এ কারণেই তিস্তার চরসহ তিস্তার তিরবর্তী এলাকা এখন সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে।
এই উপজেলায় তিস্তার চর এলাকায় এ বছর রবিশস্যের ব্যাপক চাষ হয়েছে। পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এই উপজেলার  চরাঞ্চলে  বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।তিস্তা নদী পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
চর অঞ্চলের কৃষকরা তাদের জমা-জমিতে বিভিন্ন প্রকার রবি শস্যের চাষ করেছেন। রবি শস্যকে ঘিরে নদী গর্ভে নিঃস্ব হওয়া হাজার হাজার মানুষ এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, তিস্তার নদী এলাকায় হাজার হাজার মানুষ আবাদী জমি, বসতবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। এই নিঃস্ব পরিবার গুলো বাঁচার তাগিদে তাদের ঐতিহ্য ত্যাগ করে রিকসা, ভ্যান চালার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন ভাবে শ্রম বিক্রি করে চলেছে। তিস্তার নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় জেগে উঠা ছোট বড় চরগুলো তাদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
 এসব চর অঞ্চলের এলাকায় এখন রবি শস্য চাষ করে জীবিকার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছেন তারা। এক্ষেত্রে এসব চাষিদের বিনামুল্যে সার-বীজ দিয়ে সহায়তাও করা হয়েছে। তিস্তার বুক চিরে জেগে ওঠা চরগুলোতে পলি মিশ্রিত মাটি থাকায় এগুলোতে ভুট্টা, কাউন, মিষ্টি কুমড়া, বাদাম, মিষ্টি আলুর ফলন বেশ ভালো হওয়ায় কৃষকরা এসবের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কম খরচে অধিক ফলন পাওয়ায় এবং লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা আবাদের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান এখানকার রবি শস্যের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ ভাগই চরাঞ্চলে চাষ হচ্ছে। কৃষকের হাতে উপযুক্ত সময়ে কৃষি উপকরণ ও পরামর্শ পাওয়ার কারণে লাভ জনক আবাদ ভুট্টার চাষ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সাথে বালি ও মাটি বয়ে আসায় দ্রুত তিস্তার তলদেশ ভরাট হয়ে গিয়ে অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। বালুর সাথে পলি মাটির স্তর পড়ে এসব চরকে আবাদী করে তুলছে। পলি মিশ্রিত এসব চরে ভুট্টা, কাউন, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, বরবটি, মিষ্টি আলু, বাদাম, করলা, বেগুন, পুঁইশাক, লাউ শাকসহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষের ধুম পড়ে গেছে।
বর্ষা মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চর অঞ্চলের  রবিশস্য চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন এই চর অঞ্চলের কৃষকরা।